জেল জুলুমে মাহমুদুর রহমান

933_1

দীর্ঘ একশ বিশ দিন অবরুদ্ধ থাকার পর আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদককে ডিবি পুলিশ ১১ এপ্রিল বৃহস্পতিবার কারওয়ান বাজারস্থ অফিস থেকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার অভিযানে পুলিশ সময় নেয় মাত্র তের মিনিট। তার চা শেষ করতে দেয় নি। এমনকি দুই রাকাত নামাজের সুযোগ দেয়া হয় নি। এদিকে আদালতে মাহমুদুর রহমান নিজেই নিজের শুনানি করেন।সে দিনই পুলিশ আমার দেশের প্রেসে সিলগালা করে দেয়। আইনগত সমস্যা না থাকলেও পরে বিকল্প প্রেসে ছাপতে দেয় নি।

উল্লেখ যে, বিচারপতির স্কাইপ আলাপ ফাঁস হবার পর ১২ই ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি ও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মামলা করা হয়। সেই মামলার পরই তাকে গ্রেফতার করা হবে বলে কয়েকজন মন্ত্রী ঘোষণা দেন। তাকে গুম করারও গুজব ওঠে। তারপর থেকেই মাহমুদুর রহমান আমার দেশ কার্যালয়ে স্বেচ্ছা অবরুদ্ধ থাকেন।

৫ই ফেব্রুয়ারির গণজাগরণ মঞ্চকে শুরু থেকেই ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি বলে আসছিলেন তিনি। তার পত্রিকায় গণজাগরণ মঞ্চে অংশগ্রহন ও নেতুত্বদানকারী বিভিন্ন ব্লগারের ব্লগ পোষ্ট নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। উল্লেখ যে, ব্লগার থাবা বাবার পোষ্ট সর্বপ্রথম প্রকাশ করেছিল দৈনিক ইনকিলাব।

সাম্প্রদায়িক সহিংসতার উস্কানির অভিযোগে গণজাগরণ মঞ্চ থেকে তাকে গ্রেপ্তারের দাবি তুলে  দুই বার আলটিমেটাম দেয়া হয়। এসব অভিযোগে ফেব্রুয়ারি মাসেই তার বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় চারটি ও রমনা থানায় একটি মামলা করে পুলিশ। ২৬শে ফেব্রুয়ারি এ দাবিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্মারকলিপি দিলে মন্ত্রী জানান মাহমুদুর রহমানকে গ্রেপ্তারে বাধা নেই। মাহমুদুর রহমানের গ্রেফতারের পর গণজাগরণ মঞ্চ থেকে সন্তুষ্টি প্রকাশ করা হয়।

গ্রেফতার: মাত্র তের মিনিটেই শেষ করা হয় গ্রেফতার অভিযান। বলা হয়েছিল গ্রেফতার অভিযান শেষ করতে হবে দশ মিনিটে। তিন মিনিট সময় বেশি লেগেছে মাহমুদুর রহমানকে দুটি বই ও কোরান শরীফ সঙ্গে নিতে সময় দেয়ার কারণে। ৮টা ৫০ মিনিটে শুরু হয় গ্রেফতার অভিযান। মাহমুদুর রহমানকে নিয়ে পুলিশ বেরিয়ে যায় ৯টা ৩ মিনিটে।

ঘটনার দিন ডিবি পুলিশের পশ্চিম জোনের ডিসি মোল্লা নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে প্রায় অর্ধশত পুলিশ সঙ্গে সাদা পোশাকের আরও প্রায় সমসংখ্যক পুলিশ সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে ঘেরাও করে কাওরান বাজারে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার কার্যালয়। ভবনের নিরাপত্তা প্রহরীদের গেট খুলে দিতে বললে পরিচয় জানতে চায় নিরাপত্তা প্রহরীরা। পুলিশের কাছে পরিচয় জানতে চাওয়ায় ক্ষিপ্ত এক পুলিশ কর্মকর্তা লাথি মেরে ফেলে দেয় এক নিরাপত্তা প্রহরীকে। সঙ্গে সঙ্গে গেট খুলে দেয় আরেক নিরাপত্তা প্রহরী।

পুলিশ সরাসরি চলে যায় মাহমুদুর রহমানের কক্ষে। মাহমুদুর রহমান নাস্তার টেবিলেই ছিলেন। নাস্তা শেষ করে  চায়ের কাপে চুমুক দিচ্ছেন, আধা কাপ তখনও বাকি। কক্ষে প্রবেশ করে এক পুলিশ কর্মকর্তা বলে, ওঠেন আপনাকে যেতে হবে। মাহমুদুর রহমান শুধু বলেন, দুরাকাত নামাজ পড়ার সুযোগ দিতে হবে। সে সুযোগ মিলেনি। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয় সময় মাত্র দশ মিনিট, এর মধ্যে আপনাকে বেরুতে হবে।

একজন পুলিশ কর্মকর্তা ধমকের সুরে বলেন, কোথাও ফোন করার চেষ্টা করলে গুলি করা হবে। ওপুলিশ কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমানের দিকে রিভলবার তাক করেন। পুলিশ কর্মকর্তার অস্ত্র তাক করা দেখে মাহমুদুর রহমান বলে ওঠেন, গুলি করবেন করুন। মারতে চান মারুন। এর পর হাতের অস্ত্র নামিয়ে ফেলেন পুলিশ কর্মকর্তা। এ সময় বাসায় ফোন করার চেষ্টা করছিলেন, কিন্তু করতে দেয়া হয়নি।

মাহমুদুর রহমানকে গ্রেপ্তারের সময় আমার দেশ পত্রিকার কার্যালয়ে তার কক্ষে ছিলেন ওই পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার মাহাবুবুর রহমান। ডিবি পুলিশের মাইক্রোতে ওঠার সময় তিনি মাহাবুবকে উদ্দেশ্য করে বলেন তোমরা পত্রিকা চালিয়ে যাও। আমাকে নিয়ে ভেবো না।

মাহাবুব বলেন, মাহমুদুর রহমান পাজামা পরতে চাইলে পরতে দেয়া হয়নি। জুতা পরতে চাইলেও পারেননি, স্যান্ডেল পরেই তাকে পুলিশের সঙ্গে গাড়িতে উঠতে হয়েছে।

পুলিশ এসময় মাহমুদুর রহমানের ব্যক্তিগত ডেস্কটপ, কম্পিউটার ও সিসি ক্যামেরায় ধারণকৃত ছবি, মেমোরি কার্ড ও অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে যায়। দায়িত্বরত আমার দেশ ফটোগ্রাফার প্রেপ্তারের ছবি তুলতে চাইলে তাকেও বাধা দেয়া হয়। ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়া হয়। মাহাবুব সাংবাদিকদের আরও বলেন, মাহমুদুর রহমান একান্ত আলাপে আমাদের বলেছেন, আমার কাছে সংবাদ এসেছে, আমাকে গুম ও হত্যার চেষ্টা চলছে।

মাহাবুব আরো বলেন, আমি পুলিশ কর্মকর্তার কাছে জানতে চেয়েছি কেন তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সে পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, উপরের নির্দেশেই। আমার দেশ-এর সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত করার বিষয়ে জানতে চাইলে ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ক্ষমতা থাকলে সবই করা যায়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (ডিসি) মাসুদুর রহমান ঐ দিনের পত্রিকাকে জানান, নানা ধরনের সমস্যা ও তদন্তের কারণে তাকে এতদিন গ্রেফতার করা যায়নি। শিগগিরই তাকে আদালতে হাজির করা হবে। ঢাকা মহানগর পুলিশের ডিসি (মিডিয়া) মো. মাসুদুর রহমান বলেন, রাষ্ট্রদ্রোহ এবং তথ্য প্রযুক্তি আইন ২০০৬-এর ৫৬ ও ৫৭ ধারায় মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার করে ডিবি কার্যালয়ে রাখা হয়েছে।

অভিযোগ ও রিমান্ড: গ্রেফতারের দিন তার বিরুদ্ধে আদালতে তিনটি অভিযোগ দেখানো হয়। বিচারপতি নিজামুল হক ও জিয়াউদ্দিন স্কাইপ হ্যাক করার অভিযোগ। এটি হয় তথ্যপ্রযুক্তি ও রাষ্ট্রদ্রোহীতার আইনে। অন্য দুটি মামলায় দেয়া হয় ভাঙচুর, পুলিশকে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে।

প্রাথমিকভাবে পুলিশের দাবি- ২০১২ সালের ১৪ই ডিসেম্বর স্কাইপ কথোপকথন প্রকাশ করার ঘটনায় উচ্চ আদালতের নির্দেশে তেজগাঁও থানায় একটি মামলা করা হয়। রাষ্ট্রদ্রোহ এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইন, ২০০৬-এর ৫৬ ও ৫৭ ধারায় মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার দেখানো হয়। বলা হয় আরো মামলার প্রস্তুতি চলছে।

এদিকে তথ্যপ্রযুক্তি ও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে করা মামলায় ১০ দিন, ভাঙচুর, পুলিশকে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা তেজগাঁও থানার আরও দুটি মামলায় সাত দিন করে ২৪ দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হলে আদালত তিনটি মামলায় ১৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।

পরবর্তীতে আরেকটি মামলার হদিস জানা গেছে, যেটি মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতারের দিন কোথাও উল্লেখ করা হয় নি। অভিযোগ হলো, পবিত্র কাবা শরিফের গিলাফ পরিবর্তনের সময় সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিদের ছবিকে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মুক্তির দাবিতে ইমামদের মানববন্ধন বলে প্রচার করে পত্রিকাটি।

ছবিটি গত ৬ ডিসেম্বর পত্রিকাটির অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত হয়। ছবিটি প্রকাশের দিনই সরিয়ে ফেলা হয়। এই মামলাটির খবর গ্রেফতারের দুই দিন পর ১৩ এপ্রিল জানা যায়।

সরঞ্জাম জব্দ:  মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতারের দিন সরঞ্জাম জব্দ করা সম্পর্কে পুলিশ জানায়, মহানবী (সা.) ও পবিত্র ইসলাম ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যসংবলিত প্রতিবেদন অনলাইন সংস্করণে (ইলেকট্রনিক বিন্যাস) প্রকাশ করায় আমার দেশ পত্রিকার অনলাইন সংস্করণের কাজে ব্যবহূত যাবতীয় সরঞ্জাম (হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার) জব্দ করার সুপারিশ করা হয়েছে।ইসলাম ধর্ম ও মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্যকারী ব্লগার ও ফেসবুক ব্যবহারকারীদের খুঁজে বের করে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটি ওই সব সরঞ্জাম জব্দ করার সুপারিশ করেছে।

সুপারিশে ২০০৬ সালের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইন এবং দণ্ডবিধি অনুযায়ী, আমার দেশ পত্রিকার মালিক, সম্পাদক ও প্রকাশককে আইনের আওতায় আনার কথা বলা হয়। কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, আমার দেশ গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ‘ভয়ঙ্কর ইসলাম বিদ্বেষী ব্লগারচক্র’ শিরোনামে মহান আল্লাহ, মহানবী (সা.), ঈদ, নামাজ ও হজ-সংক্রান্ত একজন ব্লগারের লেখার বরাতে অপমানজনক, অবমাননাকর ও কুরুচিপূর্ণ সংবাদ ছেপেছে।

১২ এপ্রিলে প্রথম আলো লিখছে, একাধিক ব্লগারের ব্লগে লিখিত মতামতকে হুবহু ছাপিয়ে এবং এ পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে ব্লগের উদ্ধৃতি দিয়ে মহানবী (সা.) ও পবিত্র ইসলাম ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর সংবাদ পরিবেশন করে আসছে পত্রিকাটি। এ ধরনের প্রতিবেদন অনলাইন সংস্করণে বিশ্বব্যাপী প্রকাশ ও সম্প্রচার করা হচ্ছে। কমিটির বৈঠকের একটি কার্যপত্রে বলা হয়, পত্রিকাটির এ ধরনের কার্যকলাপ ২০০৬ সালের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনের ২০০৬-এর ৫৪ (১) ও ৫৭(১) ধারামতে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনে এ ধরনের অপরাধের জন্য অনধিক ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং অনধিক এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।

নিজেই শুনানি করলেন:  নিজেই শুনানি করলেন মাহমুদুর রহমান। একই দিন বেলা সোয়া তিনটায় মাহমুদুর রহমানকে ডিবির কার্যালয় থেকে মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে নেওয়া হয়।  কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, আমি কোন বোকার স্বর্গে বাস করি না যে, আইনজীবী নিয়োগ করবো। আমি জানি- আদালত এখন সরকারের কথায় চলে। সরকার যা নির্দেশ দেয় আদালত তা-ই করে।

আরও বলেন, আইনজীবী নিয়োগ দিলে তারা রিমান্ডের বিরোধিতা করবে। জামিন চাইবে। সরকার আমাকে জামিন দেবে না। রিমান্ড আবেদনও বাতিল করবে না। আপনি সরকারের নির্দেশের বাইরে যেতে পারবেন না। তাই আমি কোন আইনজীবী নিয়োগ করছি না। আমার আইনজীবীর প্রয়োজন নেই। আমি কোন ওকালতনামায় সই করবো না। রিমান্ড আবেদনের শুনানির সময় নিজেই কথা বলেন মাহমুদুর রহমান।

এ সময় তিনি বলেন, যেসব মামলায় আমাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে তার কোন একটিও চলতে পারে না। তিনি শুরুতেই বলেন, পিপি আবদুল্লাহ আবু আমার বিরুদ্ধে আদালতে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা মিথ্যা এবং অসত্য। তিনি ভুল তথ্য উপস্থাপন করেছেন। তার এ কথা শুনেই বিচারকের সামনে উত্তেজিত হয়ে পড়েন সরকার সমর্থক আইনজীবীরা। তারা চিৎকার, চেঁচামেচি, হৈহুল্লোড় এবং হট্টগোল শুরু করেন। কিছু সময় থেমে যায় শুনানি।

এক পর্যায়ে বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীরা বলেন, পিপি যখন তার বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন তখন আমরা বাধা দেইনি। মাহমুদুর রহমান কোন আইনজীবী নিয়োগ করেননি। তিনি আদালতের উদ্দেশ্যে কিছু কথা বলবেন। আপনারা শুনুন। উনি যদি কোন আইনজীবীকে অথরাইজড করেন তাহলে তার পক্ষে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী কথা বলবেন। এরপর আপনাদের কোন বক্তব্য থাকলে আপনারা পেশ করতে পারবেন। এরপর মাহমুদুর রহমান তার বক্তব্য শুরু করেন। ওই সময় মাহমুদুর রহমানের সমর্থনে বিপুল সংখ্যক আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন।

আদালত অবমাননার অভিযোগের বিষয়ে মাহমুদুর রহমান বলেন, আমি আদালত অবমাননা করিনি। স্কাইপ সংলাপে যা বলা হয়েছিল তাই আমার দেশ-এ প্রকাশিত হয়েছে। এটা আগে প্রকাশ করেছে বিশ্বখ্যাত পত্রিকা  ইকনমিস্ট। পরে আমরা তা ছেপেছি। বিষয়টি নিয়ে মামলা চলছে। তাই বিচারাধীন বিষয়ে নতুন করে মামলা চলতে পারে না। আমার দেশ স্কাইপ সংলাপ ছেপে অন্যায় কিছু করেনি।

পুলিশকে হত্যার চেষ্টা ও গাড়ি পোড়ানোর মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি দীর্ঘ দিন ধরে আমার দেশ কার্যালয়ে অবস্থান করছি। ওই কার্যালয়ের বাইরে কোথাও যাচ্ছি না। বলা চলে কয়েক মাস ধরে বন্দিদশায় আছি। বন্দি থেকে গাড়ি পোড়াবো কি করে? পুলিশকে হত্যা করতে যাবো কিভাবে? এসব মামলায় আমাকে গ্রেফতার করে সরকার কতটা নির্লজ্জ তা প্রমাণ করেছে। অপর এক অভিযোগের বিষয়ে মাহমুদুর রহমান বলেন, আমি কোন অপকর্ম করিনি। অপকর্ম করলে করেছেন স্কাইপ কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্ট বিচারপতি ও আইনজীবী জিয়াউদ্দিন। অপকর্ম মেনে নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিচারপতি পদত্যাগ করেছেন।

mr-2রিমান্ডে হ্যাকের অভিযোগ অস্বীকার:  ‘আমি বিচারপতির স্কাইপ কথোপকথন হ্যাক করিনি। ইকনমিস্ট দেখে ছাপিয়েছি। দেশের জনগণের কাছে প্রকৃত তথ্য পৌঁছে দিতেই ওই কথোপকথন হুবহু প্রকাশ করেছি’। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য জানান মাহমুদুর রহমান।

১৫ এপ্রিল, সোমবার রিমান্ডের চতুর্থ দিনে পুলিশের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জিজ্ঞাসাবাদ করেন মাহমুদুর রহমানকে। জিজ্ঞাসাবাদকারী কর্মকর্তারা বিচারপতির স্কাইপ কথোপকথন প্রকাশের কারণ জানতে চাইলে মাহমুদুর রহমান বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম নিষ্কলুষ করতেই বিচারপতি নিজামুল হক ও প্রবাসী আইনজীবী জিয়া উদ্দীন আহমদের কথামালা প্রকাশ করা হয়েছে। বিষয়টি নেতিবাচকভাবে গ্রহণ করলে আমার ওপর অন্যায় করা হবে। সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এমন খবর ছেপেছে ১৬ এপ্রিলের ঢাকার দৈনিক মানব জমিন।

মাহমুদুর রহমানের অনশন: সাত দিনের রিমান্ডে মাহমুদুর রহমান অসুস্থ্য হয়ে পড়লে এপ্রিলের ১৭ তারিখে তাকে জেলে নিয়ে যাওয়া হয়। এর মধ্যে রিমান্ডে তিন দাবিতে অসুস্থ অবস্থায় আমরণ অনশন শুরু করেন। দাবি তিনটি হলো-

এক. আমার দেশের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও মাহমুদুর রহমানের মা মাহমুদা বেগম এবং দৈনিক সংগ্রামের সম্পাদক আবুল আসাদের নামে দায়ের করা উদ্দেশ্যমূলক ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা।

দুই. আমার দেশ পত্রিকার ছাপাখানা খুলে দেয়া এবং সব ধরনের হয়রানি বন্ধ করে পত্রিকা প্রকাশের সুযোগ করে দেওয়া।

তিন. আমার দেশ পত্রিকার বাইন্ডিং ও প্রেসের গ্রেপ্তারকৃত ১৯ কর্মচারীকে মুক্তি দিয়ে সব ধরনের অভিযোগ প্রত্যাহার করা।

অনশনের ব্যাখ্যায় মাহমুদুর রহমান তার লিখিত বক্তব্যে বলেছেন, ‘রাষ্ট্রের নিপীড়ন ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে আমার এই অনশন গণতান্ত্রিক লড়াই।’

তিনি বলেন, ‘জুলুমের বিরুদ্ধে আদর্শিক ও যার যার ধর্মীয় বিশ্বাসের জায়গা থেকে লড়াই সংগ্রাম চালানো ন্যায়সঙ্গত। যেহেতু আমি বন্দি এবং রিমান্ডে নির্যাতনে রয়েছি, সেহেতু আমার প্রতিবাদের সর্বোচ্চ শক্তি হিসেবে অনশন করছি।’

কারাগার থেকে সিসিইউ: বৃহস্পতিবার ১৮ এপ্রিল, বিকেলে তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা তার জীবনের ঝুঁকির কথা জানিয়ে অবস্থার উন্নতির চেষ্টা করলেও সন্ধ্যার পরে আরও অবনতি ঘটে। পরে তাকে সিসিইউতে রাখা হয়েছে।

আল্লামা শফীর অনুরোধে মায়ের হাতে অনশন ভাঙ্গলেন: সোমবার ২২ এপ্রিল, হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীর অনুরোধে মায়ের হাতে অনশন ভাঙলেন দৈনিক আমার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান।

এর আগে আল্লামা শফী মাহমুদুর রহমানকে অনশন ভাঙার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেন। এতে তিনি বলেন, ‘দেশ ও ইমানের স্বার্থে আপনাকে এদেশের তৌহিদী মানুষের খুবই প্রয়োজন।’

আল্লামা শফী মাহমুদুর রহমানকে বলেন, ‘আমি শারীরিকভাবে খুবই অসুস্থ। সুস্থ থাকলে এই চিঠি লেখার প্রয়োজন হতো না। আমি সরাসরি ঢাকায় গিয়ে জেলে আপনার সাথে দেখা করে কথা বলতাম এবং আপনার দাবির সাথে একাত্মতা পোষণ করে আপনাকে অনশন ভাঙতে অনুরোধ করতাম।’

চিকিৎসা শেষ না হতেই জেলে: গুরুতর অসুস্থ্য মাহমুদুর রহমানরে চিকিৎসা শেষ না হতেই ২৭ মে বিকাল তিনটার দিকে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।

পারবারিক ২৮ মে তারিখের আমার দেশ পত্রিকা জানায়, তার শারীরিক অবস্থা এখনও খুবই খারাপ। কারা র্কতৃপক্ষের চাপে হাসপাতাল থেকে যে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে, তাতেও মাহমুদুর রহমানের গুরুতর অসুস্থতার চিত্র রয়েছে। চিকিৎসকরা তাকে আট ধরণের ওষুধ খাওয়ার পরার্মশ দিয়েছেন। ছাড়পত্রে মাহমুদুর রহমানকে গরম পানিতে তোয়াল ভিজিয়ে ঘাড়ে ও কোমরে সেঁক দেয়া, বাথরুমে হাইকমোড ব্যবহার করা, আড়াই ইঞ্চি পুরু তোশকে শক্ত ও সমান বিছানায় ঘুমানো, বেশিদূর ভ্রমণ না করা, একটানা আধা ঘণ্টার বেশি দাড়িয়ে বা বসে না থাকা, সামনে ঝুঁকে কোনো কাজ না করা, এমনকি শারীরিক ও মানসিক চাপ এড়িয়ে চলার পরার্মশ দিয়েছেন।

এসব পরার্মশ যথাযথ অনুসরণ না করলে শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটতে পারে বলে সর্তক করেছেন চিকিৎসকরা।

Advertisements

আলোচনা

কোন মন্তব্য নেই এখনও

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

হেফাজতে ইসলামের খবর

https://banglargangai.wordpress.com/wp-admin/widgets.php#available-widgets

ফরহাদ মজহারের কলাম

Join 253 other followers