এখন পড়ছেন
খবর

সরকারের চাপে ধ্বংস হতে পারে বাংলাদেশের গণমাধ্যম : ইকোনমিস্ট

the-economist‘বাংলাদেশের গণমাধ্যম পরিস্থিতি সম্প্রতি আরও খারাপ হয়েছে। সরকারের চাপের কারণে বাংলাদেশের গণমাধ্যম ধ্বংস হয়ে যেতে পারে’- সাম্প্রতিক এক নিবন্ধে এমন আশংকা প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য ইকোনমিস্ট। একই নিবন্ধে মানুষকে প্রভাবিত করার ক্ষেত্রে আমার দেশ-এর সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের ক্ষমতাকে সুপারন্যাচারাল পাওয়ার বলে মন্তব্য করেছে সংবাদপত্রটি। গত কয়েকমাসে এই নিয়ে বেশ ক’বার সংবাদপত্রটি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে নিবন্ধ প্রকাশ করল।

শনিবারের ইকোনমিস্ট অনলাইনে প্রকাশিত ‘প্রেস ফ্রিডম ইন বাংলাদেশ, ইন দ্য বেস্ট ইন্টারেস্ট অব দ্য মিডিয়া (বাংলাদেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতা : মিডিয়ার বৃহত্তর স্বার্থে)’ শীর্ষক নিবন্ধে এসব কথা বলা হয়েছে। নিবন্ধে মাহমুদুর রহমানের মুক্তি দাবি করে অনলাইন অ্যাকটিভিস্টদের একটি পোস্টারও প্রকাশ করা হয়েছে।

নিবন্ধে বলা হয়, গণমাধ্যম থেকে বাংলাদেশের পাঠকরা খুব কম তথ্য পেয়ে অভ্যস্ত।

আরও বলা হয়, গত ১১ এপ্রিল দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার করে তাকে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন এবং পত্রিকা বন্ধ করে দেয়। শাপলা চত্বরের গণহত্যার প্রসঙ্গ টেনে বলা হয়, হেফাজতের মুসল্লিদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর আক্রমণের ছবি প্রকাশের কারণে ইসলামপন্থীদের নিয়ন্ত্রণাধীন দুটি টিভি চ্যানেল (দিগন্ত ও ইসলামিক টিভি) বন্ধ করে দেয় সরকার।

নিবন্ধে বলা হয়েছে, ‘মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা তাকে গ্রেফতারের চার মাস আগের ঘটনা। তাই তাকে গ্রেফতারের মূল কারণ তাই অন্য কোথাও প্রথিত। উল্লেখ করা হয়, আমার দেশ পত্রিকায় শেখ হাসিনার বাবা শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলের মূল্যায়ন নিয়ে উইকিলিকসের গোপন নথির ওপর ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশের ঘোষণার পরপরই মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। বন্ধ হওয়ার দিন পত্রিকাটি ঘোষণা দেয় যে, আগামীকাল থেকে শেখ মুজিবের শাসনকাল নিয়ে উইকিলিকসে ফাঁস করা মার্কিন গোপন দলিলের ভিত্তিতে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ হবে। প্রথম কিস্তিতে ছিল ‘শেখ মুজিব : দ্য নিউ মোগল’। এতে বাকশাল কায়েমের পর শেখ মুজিবের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হওয়ার বিষয়টি ছিল।

নিবন্ধে বাংলাদেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় সরকারি হস্তক্ষেপের ব্যাপারে সম্প্রতি ১৫ জন সম্পাদকের উদ্বেগমূলক বিবৃতির কথা উল্লেখ করে বলা হয়, সরকার তাদের এ বক্তব্যকে পাত্তাই দিচ্ছে না।

মাহমুদুর রহমানকে নিয়ে আওয়ামী লীগ ও তাদের সমর্থক বুদ্ধিজীবীদের এক ধরনের ভীতি রয়েছে বলেও নিবন্ধে মন্তব্য করা হয়। সেখানে বলা হয়েছে, ‘আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ রাজনীতিবিদরা মাহমুদুর রহমানের ব্যাপারে খুব আক্রমণাত্মক ভাষায় কথা বলেন। তাদের কেউ কেউ মাহমুদুর রহমানকে মানুষকে প্রভাবিত করার ক্ষেত্রে প্রায়-অতিপ্রাকৃতিক ক্ষমতার অধিকারী হিসেবে মনে করেন। তারা (আওয়ামী রাজনীতিবিদরা) মনে করেন, যে কোনো বিষয়ে বিশেষ করে গত বিএনপি সরকারের আমল তুলনামূলকভাবে পরিচ্ছন্ন ইমেজের ছিল—এ ব্যাপারে সাধারণ মানুষকে বোঝানোর যথেষ্ট ক্ষমতা মাহমুদুর রহমানের রয়েছে।

বাংলাদেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় সরকারি হস্তক্ষেপ নিয়ে সম্পাদকদের সরব হওয়ার কথা উল্লেখ করে এ ব্যাপারে সরকারের বিমুখতা তুলে ধরতে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর সাম্প্রতিক একটি মন্তব্য উদ্ধৃত করেছে ইকোনমিস্ট। ওই মন্তব্যে ইনু বলেছিলেন, ‘সম্পাদকদের আবেদন গণমাধ্যমের বৃহত্তম স্বার্থ বিবেচনায় হয়নি।’

নিবন্ধে বলা হয়, ‘মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে একমাত্র শ্রীলঙ্কায় মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে সবচেয়ে বেশি অবমূল্যায়ন করা হয়। তবে বাস্তবতা হচ্ছে (দক্ষিণ এশিয়ায়) বাংলাদেশ এক্ষেত্রে একেবারে নিম্নতম অবস্থানে না গেলেও পরিস্থিতি মোটেও ভালো না। কিছু ক্ষেত্রে সেখানে মিডিয়ার অবস্থা আশাব্যঞ্জক, যেমন মধ্যরাতের জনপ্রিয় টকশোগুলো। কিন্তু সাম্প্রতিক মাসগুলোর কথা ধরলে মত প্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে সরকারের বিশেষ কিছু পদক্ষেপ খুবই কর্তৃত্ববাদী মনে হচ্ছে।

নিবন্ধে বলা হয়, গত ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সাবেক চেয়ারম্যান ও ব্রাসেলসের একজন আইনজীবীর মধ্যকার স্কাইপ সংলাপ প্রকাশ করায় বর্তমানে মাহমুদুর রহমানকে আদালত অবমাননা মামলায় আটক রাখা হয়েছে। ওই সংলাপের মাধ্যমে এটা প্রতীয়মান হয় যে, আদালতের বিচারক, প্রসিকিউটর, আদালতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয় এমন লোকজন ও সরকারের সমন্বয়ে ষড়যন্ত্র হয়েছিল। এককথায় বলতে গেলে এই সংলাপ বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার ব্যাপারে গভীর প্রশ্ন উত্থাপন করে।’

বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ইকোনমিস্টের নিবন্ধে জানানো হয়, মাহমুদুর রহমানকে কারা হেফাজতে নির্যাতন করা হচ্ছে। মূলধারার গণমাধ্যমের বাইরে ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণে সরকারি পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে নিবন্ধটিতে। সেখানে বলা হয়েছে, অশ্লীল ও ধর্মবিশ্বাসে আঘাতকারী উপাদান নিয়ন্ত্রণের কথা বলে গত এপ্রিল মাসে ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সরকার আন্তর্জাতিক টেন্ডার আহ্বান করে। আমার দেশ-এর জনপ্রিয়তা সম্পর্কে বলা হয়েছে, সরকার বন্ধ করে দেয়ার আগের মাসগুলোতে মাহমুদুর রহমানের এ পত্রিকাটি হটকেকের মতো বিক্রি হচ্ছিল।

Advertisements

আলোচনা

কোন মন্তব্য নেই এখনও

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

হেফাজতে ইসলামের খবর

https://banglargangai.wordpress.com/wp-admin/widgets.php#available-widgets

ফরহাদ মজহারের কলাম

Join 253 other followers