এখন পড়ছেন
খবর

মানববন্ধনও নিষিদ্ধ

image_40947লায়েকুজ্জামান: রাজধানীর রাজপথে শুধু সভা-সমাবেশই নয়, মানববন্ধনের ওপরও অলিখিত নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। মতিঝিলে হেফাজতে ইসলামের ৫ই মের সমাবেশ ও অবস্থানের পর থেকে ঢাকা মহানগর পুলিশ এ পর্যন্ত বড় কোন রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের অনুমতি দেয়নি।  

সমপ্রতি ছোট সমাবেশ ও মানববন্ধনের মতো কর্মসূচির ওপরও কৌশলে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নির্ধারিত স্থানসমূহে সভা-সমাবেশ ও কর্মসূচি পালন করতে পূর্ব-অনুমতি লাগবে। কিন্তু অনুমতি চাওয়া হলে পুলিশ অনুমতি দিচ্ছে না। এমনকি কয়েকটি স্থানে সভা-সমাবেশের অনুমতি দেয়া হবে না বলেও পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এতদিন মানববন্ধন, অনশনসহ বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি পালন করতে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত ছিল জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনের সড়ক। এখন সেখানে পুলিশি বাধা এসেছে। প্রেস ক্লাবের সামনে দায়িত্বরত পুলিশ বলছে, এখন থেকে প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশ করতে হলেও ডিএমপির অনুমতি লাগবে।

এভাবে সভা-সমাবেশের ওপর বাধাকে অগণতান্ত্রিক ও অসাংবিধানিক বলে মনে করছেন রাজনীতিক ও বিশিষ্টজনরা। তারা জানিয়েছেন কোন সংগঠনের কারণে সবার অধিকার খর্ব করা যেতে পারে না।  

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান এ বিষয়ে বলেন, এভাবে বাধা বা নিষেধাজ্ঞা দেয়াটা অসাংবিধানিক। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা দেখিয়ে পুলিশ তা করতে পারে। বিশেষ ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা দেয়ার সুযোগও আইনে রয়েছে। কিন্তু সেটা সবসময় চলতে পারে না। সভা-সমাবেশ কিংবা বক্তৃতা দেয়ার অধিকার সবার আছে। এটাতে বাধা সৃষ্টি করা ঠিক হতে পারে না।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, সভা-সমাবেশ, মানববন্ধন ও অন্যান্যা রাজনৈতিক কর্মসূচির ওপর নিষেধাজ্ঞাকে অন্যায় সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, এটা নিসন্দেহে অন্যায় সিদ্ধান্ত। ওই রকম সিদ্ধান্ত জামায়াত ও হেফাজতের ওপর কার্যকর করা উচিত। জামায়াত ও হেফাজতের কারণে গোটা দেশের গণতান্তিক রাজনৈতিক শক্তি ও জনগণ অধিকার হারা হবে কেন? সভা-সমাবেশ বন্ধ রাখার ক্ষেত্রে সরকারি কোন সিদ্ধান্ত থাকলে তা দ্রুত বাতিল করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এরই মধ্যে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে কর্মসূচি পালন করতে এসে ফিরে যেতে হয়েছে কয়েকটি সংগঠনকে। পুলিশ তাদের সমাবেশ করতে দেয়নি। উদ্যোক্তারা সমাবেশ করতে চাইলে তাদের কাছে অনুমতির কাগজ চাওয়া হয়েছে।

গতকাল সকালে প্রেস ক্লাবের সামনে কর্মসূচি পালন করতে যায় স্বাধীনতা ফোরাম নামের একটি সংগঠন। তাদের কর্মসূচি ছিল- আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের মুক্তির দাবিতে সমাবেশ। এর প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া। প্রথমে সংগঠনের নেতারা প্রেস ক্লাবের প্রধান ফটকের সামনে চেয়ার নিয়ে বসতে চাইলে পুলিশ সেখান থেকে চেয়ার সরিয়ে নেয়। এর পর ওই সংগঠনের নেতাকর্মীরা ব্যানার নিয়ে প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করতে দাঁড়াতে চাইলে সেখানেও বাধা দেয়া হয়।

ওই সময় প্রেস ক্লাবের সামনে দায়িত্বরত শাহবাগ থানার পুলিশ আয়োজকদের কাছে কর্মসূচি পালনের অনুমতিপত্র চায়। নেতাকর্মীরা জানান, প্রেস ক্লাবের সামনে অনুমতি নিতে হয় না, আগেও আমরা কোন অনুমতি নেইনি। দায়িত্বরত পুলিশ জানায়, এখন থেকে অনুমতি লাগবে। অনুমতি ছাড়া কর্মসূচি পালন করতে দেয়া হবে না। ওই সময় বাধ্য হয়ে স্বাধীনতা ফোরামের নেতারা প্রেস ক্লাব ভবনের তিন তলার হলরুমে গিয়ে তাদের কর্মসূচি পালন করেন।

প্রেস ক্লাবের সামনে দায়িত্ব পালনরত শাহবাগ থানা পুলিশের পরিদর্শক শহিদুল ইসলাম প্রেস ক্লাবের সামনে রাজনৈতিক সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞার কথা স্বীকার করে বলেন, পুনরাদেশ না দেয়া পর্যন্ত প্রেস ক্লাবের সামনে কোন রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে হলে ডিএমপির অনুমতি নিতে হবে।

ওই ঘটনার পর পরই প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করতে আসেন সিএনজি ও অটোরিকশা শ্রমিকরা। তাদেরকে ঘণ্টাখানেক বসিয়ে রেখে প্রেস ক্লাবের দ্বিতীয় গেটের ভেতরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করতে দেয়া হয়। কিন্তু তাদেরকে সড়কে দাঁড়াতে দেয়া হয়নি।

লিখিতভাবে পুরো মহানগরীতে সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি না করা হলেও বাস্তবে কোন জায়গাতেই সমাবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। মুক্তাঙ্গনে সমাবেশ করার ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল আছে প্রায় দুবছর ধরে। সেখানে কেউ সমাবেশ করার অনুমতি পায় না। সংসদ ভবনের নিরাপত্তার কারণে মানিক মিয়া এভিনিউতে সমাবেশ বন্ধ। পল্টন ময়দানেও কোন সমাবেশ হয় না। হেফাজতে ইসলামের সমাবেশের পর থেকে বাণিজ্যিক এলাকা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করে মতিঝিল শাপলা চত্বর এলাকায় সমাবেশের অনুমতি দেয়া বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ।

পুরানা পল্টন ও নয়া পল্টন এলাকায় সমাবেশের ওপর কোন লিখিত নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও গত ১৩ই মে একবার এবং ১৬ই মে দ্বিতীয়বার সমাবেশ করার অনুমতি চেয়েও পায়নি বিএনপি। ডিএমপি কোন অনুমতি দেয়নি। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু জানান, দুই বারই সমাবেশের নির্ধারিত তারিখের দুই দিন আগে তারা ডিএমপি কমিশনার বরাবর আবেদন করেন। কিন্তু আইন-শৃঙ্খলার কথা উল্লেখ করে তাদেরকে অনুমতি দেয়া হয়নি।

 প্রায় দুমাস আগে মতিঝিল শাপলা চত্বরে সমাবেশ করার অনুমতি দেয়া হয়েছিল বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনকে। নাস্তিক ব্লগার এবং একই সঙ্গে হেফাজত ও জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার ১১ দফা দাবিতে ছিল তাদের সমাবেশ। ৫ই মে শাপলা চত্বরে হেফাজতের সমাবেশ পরবর্তী পরিস্থিতিতে তরিকত ফেডারেশনকে সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সামনে। শেষ পর্যন্ত এ অনুমতিও বাতিল করা হয়। সর্বশেষ ১৩ই মে তাদেরকে সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয় মৎস্য ভবনের সামনে, কিন্তু সমাবেশের সকল আয়োজন সম্পন্ন করার পর দুদিন আগে তাদের অনুমতি বাতিল করা হয়। ১৮ই মে বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে সমাবেশ করার অনুমতি দেয়া হয়েছিল সুন্নী ঐক্য ফোরামকে। তাদের সমাবেশও পাল্টা চিঠি দিয়ে বাতিল করে দিয়েছে পুলিশ। প্রেস ক্লাবের সামনের সড়কে অবশ্য সমাবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না গত বুধবার থেকে। ওই দিন জাগো বাংলাদেশ নামে গার্মেন্ট শ্রমিকদের একটি সংগঠনকে সমাবেশ করতে দেয়া হয়নি। প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে তাদেরকে ফিরিয়ে দেয় পুলিশ। ওই দিন কেবল গার্মেন্ট শ্রমিকদেরই নয় প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশ করতে দেয়া হয়নি সাংবাদিক সংগঠনগুলোকেও। মাহমুদুর রহমানের মুক্তির দাবিতে সেদিন কর্মসূচি ছিল বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (একাংশ) এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (একাংশ)-এর। তাদেরকেও প্রেস ক্লাবের সামনের সড়কে কর্মসূচি পালন করতে দেয়া হয়নি। রাস্তায় কর্মসূচি পালন করতে না পেরে পরে সাংবাদিকরা প্রেস ক্লাবের ফটকের ভেতরে কর্মসূচি পালন করেন।

ঢাকা নগরীতে সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ডিএমপির উপ- পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান বলেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় সভা-সমাবেশ, মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালনের ক্ষেত্রে পুলিশের কাছ থেকে আগেই অনুমতি নেয়ার বিধান রয়েছে। কোন ব্যক্তি, রাজনৈতিক কিংবা অরাজনৈতিক সংগঠন আবেদন করলে তা বিবেচনা করা হয়ে থাকে। তবে  নিরাপত্তাজনিত কারণে সকল ধরনের সভা-সমাবেশের অনুমতি আপাতত বন্ধ রয়েছে।

Advertisements

আলোচনা

কোন মন্তব্য নেই এখনও

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

হেফাজতে ইসলামের খবর

https://banglargangai.wordpress.com/wp-admin/widgets.php#available-widgets

ফরহাদ মজহারের কলাম

Join 253 other followers