এখন পড়ছেন
খবর

আল্লামা শফীর দরবারে ইসলামী দলের নেতারা

52952_b4রাস্তায় বের হলে গ্রেপ্তার হওয়ার ভয়। কথা বললে গোয়েন্দা সংস্থার ফোনের আতঙ্ক। দলের প্রথম সারির সব নেতাই গা-ঢাকা। মধ্যম সারির নেতারাও নিশ্চুপ। জুনিয়র নেতারা পত্রিকায় বিবৃতি দিয়ে সীমাবদ্ধ। আর প্রধান আমীর আল্লামা আহমদ শফী ঘটনার পর থেকেই নীরবতা পালন করছেন। দৃশ্যত: এভাবে চলছিল হেফাজতে ইসলাম।

এ অবস্থায় ভেঙে পড়া সাংগঠনিক শক্তিকে মজবুত করতে আবারও আল্লামা শফীর দরবারে যেতে শুরু করেছেন ফ্রন্টলাইনে থাকা ইসলামি দলগুলো। অনুরোধ করেছেন, নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করতে। হেফাজতকে ঘিরে নতুনভাবে সংগঠিত হতে পারে দেশের সকল ইসলামী দল।

হাটহাজারী মাদরাসার একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, আল্লামা শফীকে ঘিরে অনেকটাই মনোবল ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছেন দেশের ১০টিরও বেশি ছোট-বড় ইসলামী দল। এদের বেশির ভাগই কওমি সমর্থক। রয়েছে সরাসরি রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ৫টি দল। বাকি দলগুলো ইসলাম সংক্রান্ত ইস্যুতে বিভিন্ন সময় আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছে। সারা দেশে যাদের তিন লাখ কর্মী সমর্থক রয়েছেন। এছাড়া ইসলামভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর অসংখ্য নেতা-কর্মীও হেফাজতে ইসলামের নতুন কর্মসূচির সঙ্গে থাকতে চায়।

দলীয় সূত্র জানায়, হেফাজতে ইসলামের আন্দোলনকে দেশবাসীর কাছে তুলে ধরতে চলতি মাসে সব ক’টি ইসলামি দল হাটহাজারী মাদরাসায় সফর করার বিষয়টি চূড়ান্ত করেছেন। ইতিমধ্যে সেখানে সফর করে গেছেন অপেক্ষাকৃত বড় দু’টি দল। পাশাপাশি আরও বেশ কয়েকটি দল ভেদাভেদ ভুলে যুক্ত হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার কথা জানিয়েছেন। কয়েক দিনের মধ্যেই নেজামী ইসলামী পার্টি, জমিয়াতু উলামা ইসলাম, ফরায়েজী আন্দোলনের নেতাদের দেখা করার কথা রয়েছে।

সর্বশেষ চলতি সপ্তাহের গত শনিবার হাটহাজারী মাদরাসায় আসেন বড় দু’টি ইসলামি দল। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও খেলাফতে আন্দোলন। ইসলামী আন্দোলনের নেতারা আসেন বিকালে। দলটির নেতৃত্বে ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করিম। তারা মাদরাসার ভেতর ঢুকে হেফাজত আমীর আল্লামা শফীর সঙ্গে দেখা করেন। বৈঠক করেন এক ঘণ্টারও বেশি। এ সময় তাদের দু’জনের মধ্যে ঢাকার শাপলা চত্বরের ভুলভ্রান্তি নিয়েও কথা হয়। আলোচনায় সরকারের পুলিশ বাহিনীর সমালোচনা করে নিজেদের শুধরানোর পরামর্শ দেন শফী হুজুর।

একপর্যায়ে মুফতি ফয়জুল করিম বলেন, আমরা আবার সংগঠিত হতে পারি। আপনি শুধু একবার নাড়াচাড়া করলেই দেখবেন কি হয়। জবাবে শফী হুজুর বলেন, দেশের অবস্থা কোনদিকে যায় তা খেয়াল রাখো। দলের নেতাদের যেভাবে মামলা দিয়ে সরকার নাজেহাল করছে তাতে নতুন কর্মসূচি দিই কি করে? তাছাড়া সারা দেশেই একটা হ-য-ব-র-ল অবস্থায় রয়েছে আমাদের কর্মীরা। তোমরা যদি সবাই মিলে সংঘবদ্ধ হতে পারো তাহলে নেতা-কর্মীদের ডেকে বৈঠক দাও।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হেফাজত আমীর আল্লামা আহমদ শফীর সঙ্গে সাক্ষাতের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করিম। তিনি বলেন, ‘হুজুরের সঙ্গে ঢাকার শাপলা চত্বরের ঘটনার পর আর দেখা হয়নি। তাই তাকে একটু দেখার জন্য এসেছিলাম। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে।

কি কি বিষয় নিয়ে কথা হলো জানতে চাইলে মুফতী ফয়জুল বলেন, আমরা সবসময় হেফাজতের সঙ্গে আছি। তাদের ১৩ দফাকে সমর্থন করি। এ মুহূর্তে সরকার যেভাবে সব আলেম-ওলামার ওপর দমন-নিপীড়ন করছে তার প্রতিবাদ জানাতে হুজুরের সঙ্গে কথা হয়েছে। বেশির ভাগ নেতাই মামলার কারণে সামনে আসছেন না। আমরা চাইছি আবারও আন্দোলন চাঙ্গা হয়ে উঠুক। ১৩ দফা দাবি বাস্তবায়ন হোক।

বৈঠক সূত্র জানায়, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বেশির ভাগ নেতাই সরকারকে দাবি মানতে বাধ্য করাতে শফী হুজুরকে অনুরোধ জানান। কেউ কেউ আলাদা একটা জোট গঠন করারও কথা তুলে ধরেন। এই সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আশরাফ আলী আকন, মহানগর সভাপতি মাওলানা জান্নাতুল ইসলাম, হাটহাজারী উপজেলা শাখার সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ রফিক, হাবিবুল্ল্লাহ নদভী ও মাওলানা মাহমুদুল ইসলাম।

আরেকটি সূত্র জানায়, ইসলামী আন্দোলনের নেতারা শফী হুজুরের সঙ্গে দেখা করার পর সেখানে আসেন খেলাফত আন্দোলন নামের আরেকটি সংগঠন। বর্তমানে এ সংগঠনের বেশির ভাগ সদস্যই হেফাজতে ইসলামের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। তারা আল্লামা আহমদ শফীর সঙ্গে কথা বলেন অনেকক্ষণ ধরে।

এ সময় আলোচনায় পুলিশের হাতে বেধড়ক মার খাওয়ার প্রসঙ্গটি উঠে আসে। খেলাফতের এক নেতা শফী হুজুরকে বলেন, ‘সরকার আমাদের বোকা বানিয়েছে। তারা শাপলা চত্বরে সমাবেশ করার অনুমতি দিয়ে আমাদের বেধড়ক পিটিয়েছে। এসবই সরকারের কৌশল ছিল। এখন বসে থাকার আর সময় নেই’।

আরেক নেতা বলেন, ‘হুজুর সরকার আসলে হেফাজতের ওপর নমনীয় নয়। তারা শাহবাগীদের পক্ষে। নাস্তিক ব্লগারদের সমর্থন দিচ্ছে গোপনে। অনেকে এখন আপনার কাছে এসে নতজানু হয়ে সমঝোতার চেষ্টা করছে। আপনি সহজে টলবেন না। ক্ষমা চেয়ে তওবা করতে হবে’।

প্রায় এক ঘণ্টার বেশি বৈঠকের পর খেলাফত নেতারা সেখান থেকে বেরিয়ে যান। বেরিয়ে যাওয়ার আগে তারা আল্লামা শফীকে নতুনভাবে শক্তিশালী হওয়ার পরামর্শ দেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে খেলাফত আন্দোলনের আমীর মাওলানা আহামদ উল্ল্লাহ আশরাফ বলেন, ‘কোন হুমকি ধমকিতে আমরা ভয় পাই না। এখন হেফাজতের একটু দুঃসময় যাচ্ছে। সরকার নাস্তিকদের পক্ষ হয়ে হেফাজতকে শেষ করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এ ষড়যন্ত্র কিছুতেই সফল হতে দেবো না। আমরা ইসলামি দলগুলো হেফাজতের এ আন্দোলনের সঙ্গে আছি’।

সুত্র: মানব জমিন

Advertisements

আলোচনা

কোন মন্তব্য নেই এখনও

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

হেফাজতে ইসলামের খবর

https://banglargangai.wordpress.com/wp-admin/widgets.php#available-widgets

ফরহাদ মজহারের কলাম

Join 253 other followers