এখন পড়ছেন
খবর, বিবৃতি

হয়রানী ও ষড়যন্ত্র বন্ধ করুন: সৈয়দ মোঃ ফয়জুল করীম

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর প্রেসিডিয়াম সদস্য মুফতী সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেছেন, সরকারের অদূরদর্শিতা ও একগুয়েমীর কারণেই গত ৫ ও ৬ মে ইতিহাসের জঘন্যতম ঘটনার অবতারনা হয়। আল্লামা আহমদ শফী (দা. বা.)-এর ৫ মের শান্তিপূর্ণ অবরোধ এবং সমাবেশে ব্যাপক হত্যাকান্ড, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ, জ্বালাও-পোড়াও ও ভাংচুরের ঘটনায় প্রমাণ হয় দেশে সরকারের কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। মনে হয় যেন কার্যকরী সরকার বলতে কিছু নেই। একের পর এক এ ধরনের ঘটনার ব্যর্থতার কারণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বরখাস্ত করা সরকারের উচিত ছিল। কিন্তু তা না করে নিরীহ আলেম ও মাদরাসা ছাত্রদের উপর পুলিশী হয়রানী করছে।

৫ ও ৬ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাযজ্ঞ, দুস্কৃতিকারী কর্তৃক চরম ধ্বংসযজ্ঞ, সহিংসতা, ঢালাওভাবে আলেম-ওলামাদের উপর হামলা, মামলা ও গ্রেফতার বন্ধ এবং নাগরিক নিরাপত্তাহীনতার প্রেক্ষিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে পুরানা পল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আজ বিকেল ৩.৩০ মিনিটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মুফতী সৈয়দ মোঃ ফয়জুল করীম উপরোক্ত কথা বলেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, আমীরের রাজনৈতিক উপদেষ্টা অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, সহকারী মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান, কেন্দ্রীয় নেতা ও নগর সভাপতি অধ্যাপক মাওলানা এটিএম হেমায়েত উদ্দিন, প্রচার সম্পাদক আহমদ আবদুল কাইয়ুম, সহ-প্রচার সম্পাদক কে এম আতিকুর রহমান, দফতর সম্পাদক মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরী, আইন বিষয়ক সম্পাদক এড. আঃ মতিন, মুক্তিযোদ্ধা আঃ ওয়াদুদ, প্রিন্সিপাল মাওলানা আতাউর রহমান আরেফী, মাওলানা নেছার উদ্দিন, মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, এম বরকত্ল্লুাহ লতিফ, ছাত্রনেতা আরিফুল ইসলাম প্রমূখ।

তিনি বলেন, একদিকে হেফাজতে ইসলামের কর্মসূচীতে আগত সংক্ষুদ্ধ মানুষের উপর গভীর রাতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ সাড়াশী অভিযানে অনেক নিরীহ মানুষ শহীদ এবং আহত হয়েছে। অপরদিকে কিছু দুস্কৃতিকারী কুচক্রিমহল আল্লামা আহমদ শফী (দা.বা.), আলেম-ওলামা ও কওমী মাদ্রাসাগুলোকে বিতর্কিত করার হীন মানসে ব্যপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। এসব হত্যাযজ্ঞ ও ধ্বংসাত্মক কাজের সাথে যারা জড়িত তাদের ভিডিও ফুটেজ এবং গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টের ভিত্তিতে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করলে বিরাজমান উত্তেজনা দ্রুত নিরসন হত বলে আমরা মনে করি। কিন্তু সরকার তা না করে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে প্রায় লক্ষাধিক নিরীহ আলেম-ওলামা, মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষক ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানের উপর মামলা, গ্রেফতারী পরওয়ানা এবং হয়রানির মাধ্যমে সরকার পুনরায় প্রমাণ করেছে বর্তমান সরকার ইসলাম বিরোধী সরকার। ইতোমধ্যে সরকারের এসব চক্রান্ত সুদূরপ্রসারী হিসেবে পরিলক্ষিত হয়েছে। সরকার ইসলামকে ধ্বংস করার প্রাথমিক নীলনকশা হিসেবে আলেম-ওলামা ও কওমী মাদ্রাসাগুলোকে বিতর্কিত করতে চায়। মাদ্রাসাগুলো এবং আলেম-ওলামা যদি বিতর্কিত হয়, তাহলে আলেম-ওলামাদের প্রতি মানুষের ভক্তি-শ্রদ্ধা নষ্ট হয়ে যাবে। আর আলেম-ওলামা, মাদরাসা-মসজিদের প্রতি মানুষ যদি বিমুখ হয়ে যায় তাহলে এদেশে ইসলাম থাকবে না বরং নাস্তিক দিয়ে দেশ ভরে যাবে। অপরদিকে সরকার নাস্তিক-মুরতাদদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে। নিচ্ছিদ্র পুলিশি নিরাপত্তায় তাদেরকে মাসের পর মাস শাহবাগের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের নামে ইসলামের বিরুদ্ধে বসিয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করবে আদালত, গণজাগরণ মঞ্চ কে? সাংবিধানিকভাবে এর কোন বৈধতা আছে কি না দেশবাসী তা জানতে চায়। গনজাগরণ মঞ্চের মাসের পর মাস অবস্থান যদি বৈধ হয়, তাহলে মতিঝিলের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের দাবী আদায়ের অবস্থান অবৈধ হবে কেন? তাদের উপর কেন গভীর রাতে অমানবিক ও অন্যায়ভাবে নির্বিচারে গুলি চালানো হল? সরকারের এহেন দ্বিমুখী কর্মকান্ড মানুষ কখনো আশা করে না। সরকারের এহেন পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের জন্য অপেক্ষা করছে করুণ পরিণতি। সেদিন বেশি দূরে নয়, যখন সরকার এসবের পরিণতি হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করতে পারবে।

মুফতী ফয়জুল করীম আরো বলেন, দেশে সুস্থ ও শান্তিময় পরিবেশ বজায় রাখা সরকারের দায়িত্ব। সর্বত্র সকলের প্রতি ইনসাফপূর্ণ আচরণ করা সরকারের কর্তব্য। জনগণের মনের ভাষা ও ক্ষোভ অনুধাবন করা দায়িত্বশীল সরকারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। কিন্তু সরকার তা বুঝতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। লক্ষ লক্ষ ধর্মপ্রাণ মানুষ ও আলেম-ওলামা ঢাকা অবরোধ-এর মাধ্যমে কি চায়? সেই দাবীর প্রতি সরকার আদৌ ভ্রুক্ষেপ করেনি। মানুষ চায় আল্লাহ-রাসূল (সা:), ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে কটুক্তিকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদানের আইন পাশ হউক। কারণ সত্যিকার মুসলমানের কাছে আল্লাহ ও রাসূল (সা:)-এর ভালবাসা ও মর্যাদা নিজের জীবনের চেয়েও অনেক বেশী। এরই বহি:প্রকাশ ঘটছে ৫ই মে। নিরীহ ধর্মপ্রাণ মুসলমান এবং আলেম-ওলামাদের সরব উপস্থিতিই তার প্রমাণ। সরকার যদি ধর্মপ্রাণ মানুষের ক্ষোভ অনুধাবন করতে পারত তাহলে দেশের এহেন করুণ অবস্থা সৃষ্টি হত না। এর পাশাপাশি আমরা দেখি আল্লাহ এবং রাসূলপ্রেমিক মানুষের বাধভাংগা জোয়ার দেখে এক শ্রেণীর রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষী কুচক্রি মহল নিরীহ ধর্মপ্রাণ মানুষ ও আলেম-ওলামাদের ঈমানী আন্দোলনকে রাজনৈতিক হীনস্বার্থে ব্যবহার করার জন্য নানারুপ চক্রান্ত করতে থাকে। তারা হেফাজতের ব্যনারে ঢুকে হঠকারী কর্মসূচী দিয়ে সরলপ্রাণ আলেম-ওলামাদের বেকায়দায় ফেলে দিয়েছে। এই কুচক্রিমহল আল্লামা আহমদ শফী (দা. বা.), আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীসহ হক্কানী আলেম-ওলামা ও কওমী মাদ্রাসাগুলোকে লোক সমাজে বিতর্কিত করার হীন মানসে ব্যাপক ভাংচুর, জ্বালাও-পোড়াওসহ নজিরবিহীন ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। তারা আল্লামা আহমদ শফী (দা. বা.) ও আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর মত বড় বুজুর্গদের সরলতার সুযোগ নিয়ে কুচক্রিদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের নানামুখি কৌশল অবলম্বন করেছে। যা ইতোমধ্যে উভয়ের বক্তব্যে প্রকাশ পেয়েছে। এমনকি পবিত্র কোরআন পোড়ানোর মত ন্যাক্কারজনক ঘটনার অবতারনা ঘটেছে; যা অকল্পনীয় এবং অমার্জনীয়।

তিনি বলেন, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি একজন আলেম বা একজন ধর্মপ্রাণ মুসলমান কখনো পবিত্র কোরআন পোড়াতে পারে না। যারা পবিত্র কোরআন পড়ে এবং কোরআন সিনায় গেঁথে রাখে তারা কখনো পবিত্র কোরআন পোড়াতে পারে, একথা কোন পাগলও বিশ্বাস করবে না। যারা কোরআনের সম্মান-ইজ্জত রক্ষার জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত তাদের পক্ষে কোরআন অবমাননা বা পোড়ানোর অভিযোগ সরকারের ইসলাম ধ্বংসের আর এক নব কৌশল বলেই মনে হয়। কারণ আলেম-ওলামাদের কোরআন পোড়ানোর সাথে জড়িত করতে পারলে, আলেম-ওলামাদের প্রতি মানুষের আস্থা এবং ভক্তি-শ্রদ্ধা কমে যাবে। আর আলেম-ওলামাদের প্রতি মানুষের আস্থা কমে গেলে মানুষ ইসলাম বিমুখ হয়ে পড়বে। এ সুযোগে নাস্তিক-মুরতাদ ও ইসলাম বিরোধী সরকার ইসলাম ধ্বংসের এজেন্ডা সুন্দরভাবে বাস্তবায়ন করতে পারবে।
তিনি বলেন, সরকার আগুন নিয়ে নতুনভাবে খেলায় মেতে উঠেছে। এ খেলা বন্ধ না করলে সরকারের পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ। আমরা সরকারকে পরিষ্কার ভাষায় বলে দিতে চাই; সত্যিকার কোন মুসলমান এবং আলেম-ওলামা হত্যা-নৈরাজ্য, লুট-পাট এবং অগ্নিসংযোগ করতে পারে না। পারে না কোন মানুষের জান-মালের সামান্যতম ক্ষতি করতে।
তিনি বলেন, নাস্তিক-মুরতাদদেরকে রক্ষা করতে এবং ইসলাম ধ্বংসের নানামুখী অপকৌশলের অংশ হিসেবেই অহরহভাবে আলেম-ওলামা, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের উপর নানাভাবে হয়রানী করার হীন স্বার্থে মিথ্যা মামলা ও হামলার কৌশল অবলম্বন করেছে সরকার। তা নাহলে কিছু সংখ্যক দুস্কৃতিকারী কুচক্রি মহলের তান্ডবের দায়ে অজ্ঞাতনামা প্রায় লক্ষাধিক আলেম-ওলামাদের বিরুদ্ধে মামলা হয় কিভাবে? অজ্ঞাতনামা মামলার নামে যে কোন জায়গা থেকে যে কোন আলেম-ওলামাদের গ্রেফতার, হয়রানী এবং নির্যাতন করা খুবই সহজ। সরকারের কৌশল জনগণ বুঝতে পেরেছে। এ কৌশল যে বুমেরাং হয়ে দেখা দেবে তাতে কোন সন্দেহ নেই।

তিনি বলেন, আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী (দা.বা.) একজন বড় আলেম। আলেম পরিবারেই তার জন্ম। তিনি আজ ষড়যন্ত্রের শিকার। কোন ধ্বংসাত্মক কাজের সাথে বাবুনগরী জড়িত থাকতে পারেন না। কারণ বিগত দিনে তার কর্মকান্ড এ কথা প্রমাণ করে। আল্লামা বাবুনগরী কাদের ষড়যন্ত্রের শিকার সরকার তা ভাল করেই জানে। আমরা সরকারকে অনুরোধ করব ষড়যন্ত্রকারীদের গ্রেফতার করে আল্লামা বাবুনগরীকে মুক্তি দিন। অজ্ঞাত নামের মামলাগুলো প্রত্যাহার করে আলেম-ওলামাদের হয়রানী বন্ধ করুন। তা না হলে এদেশের তৌহিদী জনতা নতুনভাবে ফুঁসে উঠবে, যার পরিণাম শুভ হবে না।
তিনি বলেন, আজকের এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আমরা সরকারকে পরিষ্কার জানিয়ে দিতে চাই, আপনারা দায়িত্বশীল আচরণ করুন। সকল ক্ষেত্রে ইনসাফ ও ন্যায়বিচার কায়েম করুন। ৫ ও ৬ মে যে হত্যাযজ্ঞ জ্বালাও-পোড়াও, লুটপাট, ভাংচুর ও কোরআন পোড়ানোসহ সকল ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ডের সাথে জড়িতদের এবং আলেম-ওলামাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের বিশ্বাসযোগ্য বিচারবিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করুন। পাশাপাশি নাস্তিক-মুরতাদদের আস্ফালন বন্ধ করুন। আল্লাহ-রাসূল (সা:) ও ইসলামের বিরুদ্ধে কটুক্তিকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান পাশ করুন। আলেম-ওলামা, ইমাম-মোয়াজ্জিন ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের বিরুদ্ধে চাপিয়ে দেয়া মামলা ও হয়রানী বন্ধ করুন। তা নাহলে আমরা কঠোর থেকে কঠোরতর কর্মসূচী দিতে বাধ্য হব।

এক প্রশ্নের উত্তরে মুফতী ফয়জুল করীম বলেন, বায়তুল মোকারম, পল্টন এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আর্থিক সহযোগিতার জন্য দলের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। অপর এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, থাইল্যান্ড, চীন, ব্যাংকক ও ভারতসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থান কর্মসূচির নজীর আছে। কিন্তু কোথাও সরকারের নির্দেশে অবস্থানকারীদের হটাতে গুলির নজীর নেই।

Advertisements

আলোচনা

কোন মন্তব্য নেই এখনও

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

হেফাজতে ইসলামের খবর

https://banglargangai.wordpress.com/wp-admin/widgets.php#available-widgets

ফরহাদ মজহারের কলাম

Join 253 other followers