এখন পড়ছেন
খবর

তালিকা তৈরীর জন্য সকল জেলা কমিটিকে নির্দেশ হেফাজতের

hiঢাকা অবরোধ কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে নিহত ও আহত কর্মীদের তালিকা তৈরী করছে হেফাজতে ইসলাম। মঙ্গলবার হেফাজতে ইসলামের প্রধান কার্যালয় হাটহাজারীর দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসায় এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিটি জেলায় তালিকা তৈরীর জন্য সকল জেলা কমিটিকে নির্দেশ দেয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে হেফাজতের সাহিত্য সম্পাদক আশ্রাফ আলী নিজামপুরী বলেন, “গত ৫ ও ৬ মে সারাদেশে নিহত বা নিখোঁজ নেতাকর্মী ও তৌহিদী জনতার নাম ও পরিচয়ের তালিকা স্থানীয় হেফাজতে ইসলামের জেলা কমিটিকে জানানোর জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে।”

জেলা কমিটিকে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে দ্রুত কেন্দ্রীয় কমিটিকে তথ্য দিতে নির্দেশ দেয়া হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

নিহত ও আহতদের সংখ্যা সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলনে মাওলানা আশ্রাফ আলী বলেন, “রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বর এলাকায় ৫ মে রোববার দিবাগত রাতে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশের ঘুমন্ত, জিকিররত নিরীহ নিরস্ত্র লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ আলেম-ওলামার ওপর হামলা চালায়। নামধারী সরকার রাতের আঁধারে পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি, দলীয় সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে বিশেষ অভিযানের নামে নৃশংস নির্মম, বর্বর অমানবিক হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে। সেখানে কত লোককে শহীদ করেছে সেই পরিসংখ্যান যাতে না পাওয়া যায়, সেজন্য সাথে সাথেই লাশ গুম করা হয়েছে।”

তিনি প্রত্যক্ষদর্শীদের কথা উল্লেখ করে বলেন, “তাদের বর্ণনামতে, ট্রাক ভর্তি করে লাশ নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই লাশের সংখ্যা আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার পর্যন্ত হতে পারে বলে অনেকে আশঙ্কা করছেন। সেখান থেকে আলামত দ্রুত সরিয়ে নেয়া হয়েছে। হাজার হাজার মানুষকে আহত করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “আলেমদের গায়ের জোরে ঢাকা থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। আমাদেরকে রাজধানীতে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সুযোগ দেয়া হয়নি। হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা বাবুনগরীকে গ্রেপ্তার করে নির্যাতন করা হচ্ছে। অন্যান্য শত শত আলেমকে গ্রেপ্তার করার জন্য মিথ্যা মামলা দায়ের করা হচ্ছে।”

তিনি আরো বলেন, “তার আগে ৫ মে দুপুর থেকেও গুলিস্তান, পল্টন, বায়তুল মোকাররম, বিজয়নগর, দৈনিক বাংলার মোড় এলাকায় বিনা উস্কানিতে পুলিশ ও সরকারী দলের সন্ত্রাসীরা শাপলা চত্বরগামী মিছিলের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। খুঁজে খুঁজে গুলি করা হয়েছে অসংখ্য লোককে। এতে হতাহত হয়েছে হাজার হাজার মানুষ। যা টেলিভিশনের মাধ্যমে দেশ বিদেশের মানুষ সরাসরি দেখেছে।”

গত ৫ মে রাজধানী শাপলা চত্বর থেকে যৌথ অভিযানে বের করে দেয়ার পর এই প্রথম সংবাদ সম্মেলন করলো হেফাজতে ইসলাম।

এর আগে সোমবার রাতে ঢাকা থেকে ফিরে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হেফাজতের আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফির সাথে থাকা হেফাজতের নেতা জালাল উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “আপনাদের সাথে কথা না বলার জন্য প্রশাসনের নিষেধ আছে।”

হেফাজতের ঢাকা ঘেরাও কর্মসূচিতে সহিংসতায় হতাহতদের মধ্যে হেফাজত কর্মী, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ছাড়াও সাধারণ পথচারীও রয়েছে।

ঢাকার পাশাপাশি সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে নারায়ণগঞ্জ, বাগেরহাট ও চট্টগ্রামে।

সাবেক দুই রাষ্ট্রপতি হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ ও এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী এবং বিভিন্ন সংগঠন এই সংঘর্ষে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও হতাহতের সংখ্যা নির্ধারণে কমিশন ঘটনের দাবি জানিয়েছে।

Advertisements

আলোচনা

কোন মন্তব্য নেই এখনও

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

হেফাজতে ইসলামের খবর

https://banglargangai.wordpress.com/wp-admin/widgets.php#available-widgets

ফরহাদ মজহারের কলাম

Join 253 other followers