এখন পড়ছেন
বিবৃতি

ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানে করে লাশ সরিয়ে নিয়েছে: অধিকার

61429_secমানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’ প্রেস ষ্টেটমেন্টে অভিযোগ করেছে, মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ৬ মে মধ্যরাতে ‘শত শত’ নিরস্ত্র হেফাজতে ইসলামের কর্মীকে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে। এই ব্যাপক সংখ্যক নিহতের লাশ ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানে করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী লাশ সরিয়ে নিয়েছে। দেশের ভেতর মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যে অধিকারই বিষয়ে প্রথম কোন বিবৃতি দিলো। এর আগে এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন (এএইচআরসি)  বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর হত্যাকাণ্ডকে ‘নির্বিচার হত্যাকাণ্ড (ম্যাসাকার)’ বলে আখ্যায়িত করেছে।

মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতি অধিকার এই অভিযোগ করে দাবি করেছে, ‘১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালোরাত্রির পর গত ৪২ বছরে ঢাকায় এমন হত্যাকান্ডের ঘটনা আর ঘটেনি।’

দিনব্যাপী ঢাকা অবরোধ কর্মসূচি শেষে ঘুমিয়ে থাকার সময় হেফাজতের নিরস্ত্র নেতা-কর্মীদের নির্বিচারে হত্যা করার কথা উল্লেখ করে অধিকার জানিয়েছে, তাদের হত্যা করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গুলি, রাবারে ঢাকা স্টীলের বুলেট, টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেডের হামলা চালিয়েছে।

অধিকার দাবি করেছে, হেফাজত কর্মীদের হত্যার অভিযানে রবিবার রাতে পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবির ১০ হাজার সদস্যের পাশাপাশি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ক্যাডাররাও অংশ নেয়।

বিবৃতিতে হামলার আগেই মিডিয়াকর্মীদের সরিয়ে নেয়ার পর পরিপূর্ন অন্ধকারের মধ্যে নিরস্ত্র জনতার ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ করে অধিকার বলেছে, ‘এটা অবধারিত যে অভিযানের বর্বরতা এবং হতাহতের সংখ্যা লুকানোর জন্যই একাজ করা হয়েছে।’ জানা গেছে যে শত শত লোককে হত্যা করা হয়েছে। হেফাজত দাবি করেছে যে ২ হাজারেরও বেশি লোককে হত্যা করা হয়েছে, যোগ করে অধিকার।

প্রসঙ্গত, রবিবার বাদ ফজর থেকে হেফাজতে ইসলাম সংবিধানে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাসন পুনঃস্থাপন, ইসলাম ও নবী করীম (সা.) অবমাননাকারীদের জন্য মৃত্যুদণ্ডের আইন প্রণয়ন, কর্মস্থলে নারীদের নিরাপত্তা ও ব্যভিচার বন্ধ এবং আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আলেম-ওলামাসহ জনগণের ওপর পরিচালিত হত্যাকাণ্ড বন্ধসহ ১৩ দফা দাবিতে ঢাকা অবরোধ কর্মসূচি পালন করে।

দুপুর ২টা পর্যন্ত ঢাকার ছয়টি প্রবেশ পথে অবরোধ শেষে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সমাবেশে মিলিত হয় হেফাজত কর্মী ও সমর্থকরা। সমাবেশর আসার পথেই বঙ্গবন্ধু এভিনিউর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনেসহ বিভিন্ন স্থানে হেফাজত কর্মীদের ওপর সরকারদলীয় স্বশস্ত্র সদস্যরা ও পুলিশ যৌথ হামলা চালায়। দুপুর থেকেই বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, পল্টন ও বিজয়নগর এলাকা দখলে নিয়ে পুলিশ হেফাজত কর্মীদের ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ এবং টিয়ারশেল, রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুঁড়তে শুরু করে। এতে দিনের বেলাতেই হেফাজতের কমপক্ষে ১৬ জন্য নিহত ও এক হাজারেরও বেশি ব্যক্তি আহত হন।

এছাড়াও সরকারদলীয় স্বশস্ত্র কর্মীরা রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে দাড়ি-টুপিধারীদের চিহ্নিত করে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা ও গুরুতর জখম করতে থাকে।

রবিবার বিকাল ৩টায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ঘোষণা দেন সন্ধ্যার মধ্যে ঢাকা না ছাঁড়লে হেফাজত কর্মীদের বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নেবে। হেফাজতকে তার দলের কর্মীরা মোকাবেলা করবে বলেও হুমকি দেন তিনি।

এরপর সন্ধ্যা শেষে পুরো মতিঝিল এলাকার বিদ্যুত সংযোগ বন্ধ করে দিয়ে রবিবার রাত ২টা ২৫ মিনিটে ওই এলাকার সিটি সেন্টার ও আরামবাগ সড়ক দিয়ে অভিযান শুরু করে সরকারি বাহিনীর ১০ হাজার সদস্য। প্রায় দেড় ঘন্টাব্যাপী অভিযানে পুলিশের পাশাপাশি  সরকারদলীয় স্বশস্ত্র কর্মীরাও অংশ নেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, সরকারি বাহিনীর সদস্যদের গুলিতে আহত অনেক হেফাজত কর্মীকেই সরকারদলীয় কর্মীরা কুপিয়ে হত্যা করেছে।

সরকারি বাহিনী ও সরকারদলীয় স্বশস্ত্র কর্মীদের যৌথ হামলায় কত জন নিহত ও আহত হয়েছেন এনিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তুমুল বিতর্কের জন্ম হয়েছে। হেফাজতে ইসলামের দাবি নিহত হয়েছেন কমপক্ষে তিন হাজার। বিরোধী দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও নিহতের সংখ্যা হাজারের বেশি দাবি করা হয়েছে।

এ অবস্থায় রবিবার রাতের অভিযানে বেঁচে যাওয়া লোকদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের সংখ্যা খুব বেশি হওয়ার আশঙ্কা ব্যক্ত করে অধিকার জানিয়েছে তারা নিহতের প্রকৃত সংখ্যা জানার চেষ্টা করছে।

এই মুহূর্তে বস্তুনিষ্ঠ প্রমাণাদি পাওয়া খুবই কঠিন মন্তব্য করলেও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন একজন আহত ব্যক্তি রহমাতুল্লাহর বরাতে অধিকার জানায়, হামলার পরে রাস্তায় অনেক লাশ পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

অধিকার বলেছে, ‘অভিযোগ পাওয়া গেছে যে, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানে করে লাশ সরিয়ে নিয়েছে।’

অধিকার রাষ্ট্রায়াত্ব বিটিভি এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের মালিকানাধীন টিভি চ্যানেল ও সংবাদপত্রগুলোর বিরুদ্ধে রবিবার রাতের হত্যাযজ্ঞের খবর চেপে যাওয়ার অভিযোগ করেছে বিবৃতি। শত শত হেফাজতকর্মীকে হত্যা ও গণমাধ্যম বন্ধ করে দেয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অধিকার।

Advertisements

আলোচনা

কোন মন্তব্য নেই এখনও

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

হেফাজতে ইসলামের খবর

https://banglargangai.wordpress.com/wp-admin/widgets.php#available-widgets

ফরহাদ মজহারের কলাম

Join 253 other followers