এখন পড়ছেন
খবর

শাপলা বিস্ফোরণ

53299_f1মানব জমিন: বিস্ফোরণ ঘটেছে শাপলা চত্বরে। হেফাজত ইসলামের অবরোধ-সমাবেশ ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে রণক্ষেত্রের পরিস্থিতি। দুপুরের পর থেকেই সংঘর্ষ ব্যাপক হতে থাকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গুলিবর্ষণ চালিয়ে চেষ্টা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে। কিন্তু লাখো জনতার বিক্ষোভে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে শাপলা চত্বর ছাড়িয়ে আশপাশের এলাকায়।

সন্ধ্যার পর নিষপ্রদীপ করা হয় চত্বর। কিন্তু দমন দলনের বিরুদ্ধে ঘোষণা হয় অবস্থান অবরোধের। পরিস্থিতি উত্তাল হয়ে ঘটায় বিস্ফোরণ। অথচ যা ছিল শান্তিপূর্ণ অবরোধ-সমাবেশ কর্মসূচি তা হয়ে ওঠে সংঘাতে সংঘর্ষে ভয়ঙ্কর। রক্তাক্ত হয় রাজধানী ঢাকার রাজপথ। ঘটে মারমুখো হামলা, প্রাণহানির ঘটনা। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ৫ জন, আহত হয়েছেন কয়েক শ’ মানুষ। দেশ হয়েছে উদ্বেলিত, রাজনীতি হয়ে পড়েছে বিক্ষুব্ধ, অস্থির, মারমুখো।

পরিস্থিতি এগিয়ে চলেছে হয় এসপার নয় ওসপারের দিকে। অথচ হেফাজতে ইসলামের মতো একটি অরাজনৈতিক সংগঠন, যাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই, কেবল ধর্মানুভূতিতে আঘাত পেয়ে মাঠে নেমেছে তাদের ক্রমশ ঠেলে দেয়া হচ্ছে চরম পন্থার দিকে। গতকালের রক্তাক্ত সংঘর্ষের সূচনা ঘটেছে সরকারপন্থি দলীয় হঠকারী কর্মীদের উস্কানিতেই বলে জানা গেছে। যারা প্রকাশ্যে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছিল বিশ্বজিৎ দাসের মতো নিরীহ অপরাধীদের তাদের অনেক দোসরকেই গতকাল সক্রিয় দেখা গেছে অবরোধ-মহাসমাবেশের আশপাশে। গণমাধ্যমের আলোকচিত্রে ধরা পড়েছে তাদের তৎপরতা। যুবকর্মীদের দেখা গেছে প্রকাশ্যে পিস্তল, শটগান থেকে গুলি ছুড়তে, এমনকি নারীকর্মীকে দেখা গেছে লাঠি দিয়ে হেফাজতকর্মীকে নির্দয়ভাবে পিটাতে।

সকালে শান্তিপূর্ণ অবরোধ, দুপুরেই পাল্টে গেল চিত্র। সংঘাত-সহিংসতায় বদলে গেল দৃশ্যপট। মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সমাবেশের অনুমতি দেয়ার পর ঢাকার চারপাশ থেকে হেফাজত কর্মীরা যাচ্ছিলেন সেখানে। নয়া পল্টনে একটি মিছিল পৌঁছলে সংঘর্ষ বাধে পুলিশের সঙ্গে। এরপর ক্রমে তা ছড়িয়ে পড়ে। রাত পর্যন্ত সংঘর্ষ সহিংসতায় রূপ নেয়। পুলিশের গুলি ও হামলা সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে তিনজন হেফাজত কর্মী ও একজন একটি পরিবহন কোম্পানীর কর্মী। পরিবহন কোম্পানীর কর্মী সিদ্দিকুর রহমানের বাসা রাজধানীর মানিকনগরে। অপর একজন নাহিদ (২৬)। তিনি বরিশাল থেকে অবরোধে অংশ নিতে এসেছিলেন। বাকি দু’জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ দু’জন শাহজাহানপুরে হামলায় আহত হন। তাদের ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতাল সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এদিকে রাতে সমাবেশ থেকে ঘোষণা দেয়া হয়েছে আল্লামা শফী সমাবেশে ঘোষণা দেয়ার আগ পর্যন্ত সমাবেশ চলবে।

অবরোধের ঘোষণা দিয়ে ঢাকায় আসা হেফাজতের কয়েক লাখ কর্মী গতকাল ভোর থেকে রাজধানীর বিভিন্ন প্রবেশ পথে অবস্থান নেন। দুপুর পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি পালন করে তারা মতিঝিলের সমাবেশে অংশ নেন। এ সমাবেশে যাওয়ার পথেই পুলিশ এবং আওয়ামী লীগের কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় পুলিশ মুহুর্মুহু গুলি, টিয়ারশেল, রাবার বুলেট ও গ্যাস গ্রেনেড ছোড়ে। ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে হেফাজত কর্মীরা জবাব দেয়। ব্যাপক গুলি ও পুলিশি অ্যাকশনে কোণঠাসা হয়ে হেফাজত কর্মীরা রাস্তার পাশে দোকান ও বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন ধরিয়ে দেন। তারা পল্টনে একটি পুলিশ বুথ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কার্যালয়, ও বায়তুল মোকাররমের উত্তর দক্ষিণ দিকের কয়েকটি দোকানে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। কাঠের জিনিসপত্র রাস্তায় এনে অগ্নিসংযোগ করেন হেফাজত কর্মীরা। সন্ধ্যার পর থেকে পল্টন ও আশপাশের এলাকা দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পল্টন এলাকায় থেমে থেমে সংঘর্ষ চলছিল।

বিকাল তিনটায় মতিঝিল শাপলা চত্বরে সমাবেশ শুরু হলেও রাত পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকে। সন্ধ্যার পর জিকির, বক্তব্য, ইসলামী সংগীত গেয়ে সমাবেশ সচল রাখেন হেফাজতের নেতাকর্মীরা। সমাবেশ চলাকালেই বিকালে সভা মঞ্চে নিহত এক কর্মীরা লাশ নিয়ে গেলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা রাস্তার গাছ ভেঙে, আগুন জ্বালিয়ে প্রতিবাদ শুরু করেন। এ সময় মঞ্চ থেকে বার বার কর্মীদের শান্ত থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়। সমাবেশে আছর, মাগরিব এবং এশার নামাজ আদায় করেন। রাত ১০টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে অবস্থান করছিলেন। তারা বক্তব্যে বলছিলেন, হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফী সমাবেশে এসে ঘোষণা দেয়ার আগ পর্যন্ত তারা সেখানেই অবস্থান করবেন। তবে রাত ১০টা পর্যন্ত আল্লামা শফী সমাবেশ মঞ্চে যাননি। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পুলিশের একটি গাড়িতে করে আল্লামা শফী সমাবেশের উদ্দেশে বের হন। কালো রংয়ের একটি গাড়িতে করে তাকে নেয়া হয়। ওই গাড়ির নিরাপত্তা দিচ্ছিলেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। তবে লালবাগ থেকে পলাশী পর্যন্ত যাওয়ার পর আল্লামা শফীকে আবারও লালবাগে নিয়ে যাওয়া হয়। মতিঝিলে যাওয়া নিরাপদ হবে না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এমন নির্দেশনা দেয়ার পর তাকে ফিরিয়ে নেয়া হয় বলে জানা গেছে। এদিকে বিকাল থেকে পল্টনের খবরা খবর বিভিন্ন টিভি চ্যানেল সরাসরি সমপ্রচার করছিল। সন্ধ্যার পর আর কোন টিভিতে সরাসরি সমপ্রচার দেখা যায়নি। পল্টন থেকে মতিঝিল পর্যন্ত রাস্তায় রাতে সড়ক বাতিও ছিল না। পুরো এলাকায় ছিল ভুতুড়ে অন্ধকার। তবে কি কারণে এ এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ রাখা হয় তা জানা যায়নি। নয়া পল্টনে থেমে থেমে হামলা চলাকালে, বিজয়নগর, শান্তিনগর, মৌচাক ও মালিবাগে গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন হেফাজতের বিক্ষুব্ধ কর্মীরা। বিকাল থেকেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজধানীতে ১০ প্লাটুন বিজিবি সদস্য নামনো হয়। বিভিন্ন সড়কে তাদের টহল দিতে দেখা যায়।

দুপুর থেকে সংঘর্ষ শুরু: দুপুরের পর রাজধানীর পুরানা পল্টন সহ প্রেসক্লাব, বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট, বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, বিজয় নগর, জিরো পয়েন্টসহ আশপাশ এলাকায় হেফাজতে ইসলাম, পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ শুরু হয়। বেলা পৌনে তিনটার দিকে হেফাজতের কর্মীরা পল্টনের মুক্তি ভবনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা করে। কর্মীরা ভবনের দ্বিতীয় ও নিচতলার মার্কেটের দোকানগুলোতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় ভবনে অবস্থানরত লোকজন আটকা পড়েন। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মুহুর্মুহু শটগানের গুলি ছোড়ে। হেফাজতের কর্মীরা বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট থেকে পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে এক পুলিশ সদস্য আহত হন। বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেট থেকে হেফাজতের নেতাকর্মীরা সংগঠিত হয়ে আওয়ামী লীগ অফিসে কয়েক দফা হামলার চেষ্টা করে। এ সময় হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে হেফাজতে ইসলামের তিন জন কর্মী গুরুতর আহত হন। বঙ্গবন্ধু এভিনিউসংলগ্ন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্লাবের ছাদ থেকে আওয়ামী লীগ অফিসে ককটেল নিক্ষেপের অভিযোগে হেফাজতে ইসলামের এক কর্মীকে আটক করে আওয়ামী লীগ কর্মীরা পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বিকালে হেফাজতে ইসলামের কর্মীরা সংগঠিত হয়ে পুরানা পল্টন, প্রেস ক্লাব, বিজয়নগর, জিরো পয়েন্ট এলাকা দিয়ে চতুর্দিক থেকে শাপলা চত্বরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় তারা বেশকিছু ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। পুলিশ এসময় একের পর এক সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ার শেল, রাবার বুলেট ও শটগানের গুলি ছোড়ে। পুলিশের সঙ্গে হেফাজতের কর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। কর্মীরা চারটি পয়েন্ট থেকে পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে কয়েক পুলিশ আহত হন। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ পাসপাতালে পাঠানো হয়। সংঘর্ষের সময় পুরানা পল্টনে যান চলাচল সমপূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। ওই সময় হেফাজত কর্মীরা বিজয় নগর এলাকায় একটি পুলিশ বক্সে আগুন ধরিয়ে দিলে একজন ট্রাফিক পুলিশ অগ্নিদগ্ধ হন। ব্যাপক সংঘর্ষ হয় পল্টন থেকে বিজয়নগর মোড় পর্যন্ত রাস্তায়। সন্ধ্যায় ওই সড়কে আগুন জ্বলতে ও বেশ কয়েকজনকে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।

পল্টনসহ আশপাশের এলাকায় পুলিশের সঙ্গে হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ চলাকালে ১০ জন সংবাদকর্মী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দু’জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হেফাজতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে তাদের কয়েকশ’ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। যাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের পাঁচজন সদস্য আহত হয়েছেন বলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। আহত পুলিশের সদস্যরা হলেন নায়েক হান্নান, কনস্টেবল আনোয়ার হোসেন ও সাদ্দাম এবং বিজয়নগরে কার্যালয়ে দেয়া হেফাজতের আগুনে অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন ট্রাফিক পুলিশের কনস্টেবল পিয়ারুল। অন্যজনের নাম জানা যায়নি।

সিপিবি অফিসে আগুন: পল্টনস্থ বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) অফিসে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে। বিকাল পৌনে তিনটার দিকে পুরানা পল্টনের অফিসে কয়েকবার হামলা ও ভাঙচুর চালায় হেফাজতকর্মীরা। এক পর্যায়ে আগুন দেয়া হয়। এ সময় পুরো ভবনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভবনে থাকা উত্তরা ব্যাংকের শাখার কর্মকর্তারাও আটকে পড়েন। পাশের হাউস বিল্ডিং ভবন থেকে আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হয়। এর আগে পুলিশ তাদের সরিয়ে দিলে সংগঠিত হয়ে আবার হামলা চালায়। হামলা চালানো হয় সিপিবি অফিস বিল্ডিংয়ের নিচতলার দোকানগুলোতেও। একই সঙ্গে বাসস অফিসের সামনের ফুটপাতেও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। বায়তুল মোকাররমের সামনে একটি বাসে আগুনও দেন ক্ষুব্ধ হেফাজত কর্মীরা। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুলি, রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে।

ফজরের সময় থেকে অবস্থান শুরু: দু-একদিন আগ থেকেই হেফাজত কর্মীরা ঢাকা ও আশপাশের এলাকা আশা শুরু করলেও  গতকাল ভোর থেকে  তারা  নির্ধারিত ছয়টি পয়েন্টে রাস্তায় অবস্থা্‌ন নিয়ে অবরোধ শুরু করেন। সকাল ১০ টার মধ্যেই  রাজধানী অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। সবদিক থেকে ঢাকায় গাড়ি ও সাধারণ মানুষের প্রবেশ বন্ধ হয়ে যায়। যে ৬টি পয়েন্টে অবস্থান নেয় সেগুলো হচ্ছে- কাঁচপুর ব্রিজ থেকে যাত্রাবাড়ী, ডেমরা ব্রিজ থেকে যাত্রাবাড়ী, পোস্তগোলা ব্রিজের আগেও পরে, বাবুবাজার ব্রিজ, আমিনবাজার ও টঙ্গী আব্দুল্লাহপুর।

১৩ দফা দাবি আদায় ছাড়া ঘরে না ফেরার ঘোষণা: বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে হেফাজত কর্মীরা ব্যানার প্যাস্টুন নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। স্থানে স্থানে একাধিক মাইক ব্যবহার করে সমাবেশও করতে থাকে। এসব সমাবেশ থেকে  ১৩ দফা ঈমানি দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ঘরে না ফেরার অস্বীকার করা হতে থাকে। এদিকে মিছিলের স্লোগানে শাহবাগ আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী  ডা. ইমরান এইচ সরকারসহ নাস্তিকদের ফাঁসি দাবি করা হয়।

প্রতিকূল আবহাওয়া বাধা হয়নি: ভোর রাত থেকে রাজধানীতে বৃষ্টি হতে থাকে। ফলে ফজরের নামাজের পর আবার বৃষ্টি শুরু হয়। তখন হেফাজত কর্মীরা মাত্র রাস্তায় অবস্থান নিচ্ছিলেন মিছিলসহকারে এসে। এ সময় বৃষ্টির মধ্যেই ভিজে ভিজে পথ চলতে দেখা যায় মিছিলকারীদের। যারা বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়েছিল তারাও বৃষ্টির মধ্যেই রাস্তায় অবস্থান করতে থাকে।

দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ অবস্থান চলবে- আল্লামা শফী: রাতে হেফাজতে ইসলামের এক বিবৃতিতে সংগঠনটির আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফী বলেছেন, ১৩ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ঘোষিত ঢাকা অবরোধ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালন শেষে মতিঝিল শাপলা চত্বরের সমাবেশে যোগ দেয়ার পথে হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীদের উপর পুলিশ বাহিনী ও দলীয় ক্যাডারদের নৃসংশ আক্রমণ, নেতা কর্মীদের শাহাদতবরণ এবং তিন শতাধিক নেতাকর্মী মারাত্মকভাবে আহত হওয়ায় তীব্র ক্ষোভ, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। তিনি বলেন, জুলুম-নির্যাতন চালিয়ে সরকার হেফাজতে ইসলামের আন্দোলনকে দমাতে পারবে না। ১৩ দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত মতিঝিল শাপলা চত্বরের এই শান্তিপূর্ণ অবস্থান অব্যাহত থাকবে। তিনি কোন ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি না করে ১৩ দফা দাবি মেনে নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

ফিরিয়ে দেয়া হলো আল্লামা শফীকে
: পলাশী মোড় থেকেই ফিরিয়ে দেয়া হলো হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা   আহমদ শফীকে।

গতকাল তাকে মতিঝিলের সমাবেশে যেতে দেয়া হয়নি। গতকাল দিনভর চেষ্টা করেও তিনি তার অস্থায়ী কার্যালয় থেকে বের হতে পারেননি। সন্ধ্যায় পুলিশ প্রটেকশনে তাকে সমাবেশে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালানো হলে তা ব্যর্থ হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি বিশেষ সংস্থার কারণে তিনি সমাবেশে যেতে পারেননি।

লালবাগে গিয়ে দেখা যায়, হেফাজতে ইসলামের অস্থায়ী কার্যালয় থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তাকে পুলিশের গাড়িতে তোলা হয়। এ সময় পুলিশের উপ-কমিশনার হারুন-অর-রশিদসহ পোশাকি এবং সাদা পোশাকি অনেক পুলিশ সদস্য তার সঙ্গে ছিলেন। পরে গাড়িটি পলাশী মোড় থেকে ফিরিয়ে নেয়া হয়।

একটি সূত্র জানায়, আল্লামা শফীর গাড়িবহরটি পলাশী মোড়ে পৌঁছলে আইন প্রয়োগকারী একটি সংস্থার কয়েকজন সদস্য নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে তাকে ফিরিয়ে দেন। পুলিশের লালবাগের ডিসি হারুন-অর-রশিদ জানান, মাঝপথ থেকে আল্লামা শফীকে সংগঠনের অস্থায়ী কার্যালয়ে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। সম্ভবত অসুস্থতার কারণে তিনি সমাবেশে যাননি। তাছাড়া অন্য কোন কারণও থাকতে পারে। সেটি আমার জানা নেই।

Advertisements

আলোচনা

কোন মন্তব্য নেই এখনও

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

হেফাজতে ইসলামের খবর

https://banglargangai.wordpress.com/wp-admin/widgets.php#available-widgets

ফরহাদ মজহারের কলাম

Join 253 other followers