এখন পড়ছেন
খবর

এক হেফাজত কর্মীর মৃত্যু

2345_1

রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর ও দক্ষিণ গেট, পল্টন ও জিপিও এলাকায় হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীদের উপর গুলিবর্ষণ করেছে পুলিশ। এতে সিদ্দিকুর রহমান (২৮) নামে একজন পল্টনে নিহত হয়েছেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে সাংবাদিক আওরঙ্গজেব সজিব জানান, লাশ জরুরী বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। নিহত সিদ্দিক পরিবহন শ্রমিক বলে জানা গেছে।

পুলিশের গুলিতে হেফাজতে ইসলামের আরো ৩০-৪০ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে দাবি করেছেন আল্লামা আজিজুল হক হেলাল।

“পুলিশ ও ছাত্রলীগ নির্বিচারে জনগণের পুলিশ গুলি চালাচ্ছে,” জানান তিনি।

বেলা পৌনে তিনটা পর্যন্ত এই এলাকায় পুলিশের সাথে হেফাজতে ইসলামের কর্মীদের সাথে থেমে থেমে সংঘর্ষ চলছে বলে ঘটনাস্থল থেকে জানান পরিবর্তন ডটকম এর প্রতিবেদক শহিদুল ইসলাম রাজী।

সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন হেফাজতের চারজন কর্মী। এদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা খারাপ। গুলিবিদ্ধ হেফাজত কর্মী দেলোয়ার হোসেন, নাজিম উদ্দিন ও আমিনুর রহমানকে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে।

এ সময় হেফাজতের কর্মীরা উত্তর গেটে পুলিশের দুটি গাড়ি পুড়িয়ে দেয় বলে ঘটনাস্থল থেকে জানান পরিবর্তন ডটকম এর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক নজরুল ইসলাম।

বেলা দুইটার পর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট ও দক্ষিণ গেট ও এর আশপাশের এলাকার অলিতে গলিতে ঢুকে পুলিশ বৃষ্টির মতো রাবার বুলেট ছুড়ছে বলে জানান ঘটনাস্থলে থাকা সাংবাদিকরা। পুলিশের গুলিতে এক মহিলা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

রাজী জানান, পরিস্থিতি এখনো থমথমে। দু’পক্ষের মধ্যে থেমে থেমে সংঘর্ষ হচ্ছে। বেলা দুইটার দিকে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ এলাকা থেকে হেফাজত কর্মীদের লক্ষ্য করে আওয়ামী লীগ কর্মীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী কবির হোসেন খোকন এর বরাত দিয়ে রাজী জানান, “১২:৪৮ এর দিকে হেফাজতের দুইজন কর্মী বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে দাড়িয়ে পুলিশের সাথে কথা বলছিলেন। এ সময় উত্তর গেট থেকে কয়েকজন কর্মী হেঁটে আসছিলেন। তখন হেফাজতের স্বেচ্ছাসেবকরা তাদেরকে দক্ষিণ গেটে আসতে নিষেধ করে। এ সময় পুলিশ সদস্যরা এলোপাতাড়ি রাবার বুলেট ছোঁড়ে। তখন তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। হেফাজত কর্মীরা বায়তুল মোকাররম মার্কেটের সামনে টায়ার জ্বালিয়ে অবস্থান নেন। পুলিশ সদস্যরা জিপিওর সামনে অবস্থান নিয়েছে। গুলিবিদ্ধ একজনের অবস্থা খারাপ বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

একই সময় আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে পুলিশের গুলিতে দুইজন আহত হয়। গোলাপ শাহ মাজার এলাকায়ও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।

এর আগে বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট এলাকায় পুলিশের সাথে সংঘর্ষ বাধে হেফাজত কর্মীদের।

সেখান থেকে পরিবর্তন ডটকম এর প্রদায়ক আমিনুল ইসলাম মিঠু জানান, বেলা পৌনে একটার সময় হঠাৎ করেই সংঘর্ষ বেধে যায়।

এ সময় হেফাজত কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ার গ্যাস শেল নিক্ষেপ করে। পুলিশের ধাওয়ায় হেফাজত কর্মীরা বায়তুল মোকাররম মসজিদে আশ্রয় নেয়। এ সময় একটি মোটর সাইকেল পুড়িয়ে দেয়া হয়।

পুলিশ ও র‍্যাব আশপাশের এলাকায় তাদের ধাওয়া করে ও রাবার বুলেট ছোড়ে। পৌনে এক ঘন্টা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে। বেলা দেড়টার দিকে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে যায়।

বেলা দেড়টার দিকে হেফাজত কর্মীরা আবারো বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে অবস্থান নিতে শুরু করেন। আর পল্টন মোড় দখল করে নেয় আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশার আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, হেফাজতকর্মীরা দৈনিক বাংলার ব্যারিকেড ভেঙে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট ও পল্টন পর্যন্ত চলে এলে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট ছুড়ে তাদের হটিয়ে দেয়।

এর আগের সকাল ১১ টায় বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে জড়ো হন হেফাজত কর্মীরা। বেলা ১২ টার দিকে জমায়েত বায়তুল মোকাররম এর উত্তর গেটে ছাড়িয়ে দৈনিক বাংলা মোড় পর্যন্ত পৌছেছে বলে জানান তিনি।

হেফাজত কর্মীরা ‘আল্লাহু আকবর’ ‘১৩ দফার বাস্তবায়ন চাই’ সহ ইসলাম বিরোধীদের বিরুদ্ধে শ্লোগান দিচ্ছেন।

ঢাকা অবরোধ কর্মসূচি শেষে বেলা তিনটায় বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে সমাবেশের কথা বলেছিলেন হেফাজত নেতারা। তবে পুলিশ মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সমাবেশের অনুমতি দেয়।

Advertisements

আলোচনা

কোন মন্তব্য নেই এখনও

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

হেফাজতে ইসলামের খবর

https://banglargangai.wordpress.com/wp-admin/widgets.php#available-widgets

ফরহাদ মজহারের কলাম

Join 253 other followers