এখন পড়ছেন
খবর

১৩ দফা : মুখোমুখি সরকার ও হেফাজতে ইসলাম

hiসালেহ নোমান:  ১৩ দফা নিয়ে সরকারের সাথে হেফাজতে ইসলামের সমঝোতার সম্ভাবনা বলতে গেলে একেবারেই ক্ষীণ হয়ে এসেছে।

৫ মে ঢাকা ঘেরাও কর্মসূচী সফল করতে হেফাজতে ইসলাম সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেয়ার পাশাপাশি সরকারের সাড়া না পেয়ে দাবি আদায়ে আরো কঠোর অবস্থানে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে মাদ্রাসা ভিত্তিক এই সংগঠনটি।

ঢাকা ঘেরাও ও তাদের আন্দোলনের সার্বিক আবস্থা নিয়ে হেফাজতে ইসলামর মহাসচিব হাফেজ জুনায়েদ বাবু নগরী জানিয়েছেন, “১৩ দফার বিষয়ে সরকার সুস্পষ্ট ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত একের পর এক আন্দোলনের কর্মসূচী পালন করা হবে।”

তিনি বলেন, “সরকারের মন্ত্রী থেকে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা হুজুরের ( আল্লামা শাহ আহমদ শফি) সাথে যোগযোগ করেন, তারা শুধু আলাপ করতে বলেন কিন্তু দাবি মেনে নেয়ার বিষয়ে কোন সুনিদির্ষ্ট ঘোষণা দেননা।”

হেফাজত মহাসচিব বলেন, “সরকারের সাথে আলাপ করে কিছু হবেনা, বিগত সময়েও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে আমাদের আমীর সাহেবের নেতৃত্বে আলেমরা দুই দফা বৈঠক করেছে, সেই সব বৈঠকের আলেমদের দেওয়া দাবিগুলো কার্যকর করা হয়নি।”

তিনি আরো বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠকে নারী নীতি ও শিক্ষানীতি সংক্রান্ত পেশ করা দাবিগুলোর ব্যাপারে সরকারের ইতিবাচক কোন উদ্যোগ না থাকার প্রেক্ষিতে এখন দাবি মানার ঘোষণা ছাড়া বৈঠক করে কোন ফলাফল আসবেনা বলে হেফাজতে ইসলাম মনে করছে।”

“মূলত প্রধানমন্ত্রীর দেয়া আশ্বাস বাস্তবায়ন না হওয়াতে আমরা আর সরকারের সাথে আলোচনায় আগ্রহী নই,” জানান তিনি।

হাটহাজারী জামেয়াতুল উলুম মইনুল ইসলাম মাদ্রাসার মুখপত্র মাসিক মইনুল ইসলাম পত্রিকা থেকে জানা গেছে, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে শাহ আহমদ শফির নেতৃত্বে আলেমদের ৬২ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ২০০৯ সালের ১৮ এপ্রিল সরকারি বাসভবন ‘যমুনা’য় প্রথমবারের মত সাক্ষাৎ করেন। বিকাল সাড়ে ৫টা থেকে শুরু হয়ে এই বৈঠক স্থায়ী হয় দেড় ঘণ্টা। বৈঠকে কওমী মাদ্রাসা বোর্ডের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ৫ দফা দাবি তুলে ধরা হয়।

সে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ.টি. ইমাম, মেজর জেনারেল (অব.) তারেক সিদ্দিকী, আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক শেখ মোঃ আবদুল্লাহ এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী আপেল, তরমুজ, দুধ, কাবাব, চা বিস্কিট দিয়ে আলেমদের আপ্যায়ন করেন।

আল্লামা শাহ আহমদ শফী নেতৃত্বে গত ২০১০ সালের ২৯ মার্চ দেশের শীর্ষস্থানীয় ৮৫ জন আলেম গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সাথে দ্বিতীয় দফা বৈঠক করেন। মাগরিবের নামাযের পর থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন হযরত আল্লামা শহ আহেমদ শফী। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

২০১০ এর ২৪ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামে মহাসমাবেশ কর্মসূচী ঘোষণার প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে আল্লামা শাহ আহমদ শফিকে বিশেষ আমন্ত্রণ জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে একাধিকবার অনুরোধের প্রেক্ষিতে আলেমদের পরামর্শে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে বৈঠকের সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সাথে বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী জনাব ড. হাসান মাহমুদ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব জনাব মুহাম্মদ আব্দুল করীম, আওয়ামী লীগের ধর্ম-বিষয়ক উপদেষ্টা জনাব শেখ আবদুল্লাহ ছাড়াও সরকারের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

হেফাজতে ইসলামের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ১৩দফা দাবির মধ্যে দুটি মৌলিক দাবি রয়েছে, যেগুলোর জন্য সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন আছে। দাবি দুটি হচ্ছে সংবিধানে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপন এবং ধর্ম অবমাননাকারীদের সর্বোচ্ছ শাস্তির জন্য ব্লাসফেমী ধরনের আইন প্রনয়ন করা।

অন্য দাবিগুলোর ব্যাপারে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ রয়েছে বলে হেফজতে ইসলামের নীতি নির্ধারকরা মনে করছেন।

সরকারের সাথে এই বিষয়ে আলোচনা করা ছাড়া সমস্যা নিরসন পথ কি? এমন প্রশ্নের জবাবে হেফাজত মহাসচিব জুনাইদ বাবুনগরী বলেন, “সরকার থেকে নানা ধরনের সুযোগ সুবিধা প্রদানের আশ্বাস দিয়ে আলোচনায় বসার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

বাবুনগরী আরো জানান. “সরকারের মন্ত্রী থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা হুজুরকে ( আল্লামা শাহ আহমদ শফি) ফোন করে শারীরিক অবস্থার খোজ খবর নেন, অনান্য কথা বলেন, ১৩ দফার বিষয়ে কোন কথা বলেন বলে মনে হয়না।”

প্রধানমন্ত্রীর সাথে দুই দফা বৈঠক ছাড়াও আল্লামা শফির সাথে ঘনিষ্ট যোগাযোগ ছিল বন ও পরিবেশ মন্ত্রী ডক্টর হাসান মাহমুদের। আত্মীয়তার সম্পর্কের সূত্রধরে হাসান মাহমুদ এখনো নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন হেফাজতের আমীরের সাথে। পারিবারিক ও ব্যক্তিগত বিষয়ের মধ্যে তাদের যোগাযোগ সীমাবদ্ধ থাকলেও ১৩ দফা নিয়ে ইদানিং কোন আলোচনা হয়না বলে হেফাজতের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে।

এদিকে, হেফাজতে ইসলামের আন্দোলনকে ‘মিথ্যাচার’ বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।

বৃহস্পতিবার এক সংবাদিক সম্মেলনে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

সুত্র: পরিবর্তন.কম

Advertisements

আলোচনা

কোন মন্তব্য নেই এখনও

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

হেফাজতে ইসলামের খবর

https://banglargangai.wordpress.com/wp-admin/widgets.php#available-widgets

ফরহাদ মজহারের কলাম

Join 253 other followers