এখন পড়ছেন
খবর

এপ্রিলে গুম ৮, মানবাধিকার লঙ্ঘন বাড়ছে: অধিকার

61429_secমানবাধিকার সংস্থা অধিকার জানিয়েছে,  এপ্রিল মাসে দেশে আট ব্যক্তি গুম হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার পহেলা মে এক বিবরণীতে মানবাধিকার সংস্থাটি জানিয়েছে এদের মধ্যে সরকার বিরোধী ছাত্রদল, জামায়াত ও শিবিরের তিন নেতা রয়েছেন। এছাড়া এপ্রিলে ধর্ষণ ও যৌন হয়রানি ঘিরে ১০৬টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।

সংস্থাটির প্রস্তুতকৃত এপ্রিল মাসের মানবাধিকার প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত দুই মাসের চেয়ে এপ্রিলে গুম হয়েছেন আটগুন বেশি মানুষ। জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চে যথাক্রমে ২, ১ ও ১ জনকে গুম করা হয়েছিল।

এপ্রিল মাসে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি সমর্থক ছাত্রসংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ঢাকা মহানগরীর একটি ওয়ার্ডের নেতা মফিজুল ইসলাম রাশেদ, জামায়াত সমর্থক ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজশাহী মহানগর শাখার নেতা আনোয়ারুল ইসলাম মাসুম ও জামায়াতের জয়পুরহাট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলামকে গুম করা হয়েছে।

অধিকার জানায়, গত  ৪ এপ্রিল ২০১৩ রাত আনুমানিক ৯ টায় মৃত শহিদ উল্লাহর ছেলে এবং জাতীয়তাবাদী ছাত্র দল এর দারুস সালাম থানা শাখার ১০ নং ওয়ার্ড কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি মফিজুল ইসলাম রাশেদকে (৩৪) সাদা পোশাকধারী ব্যক্তিরা নিজেদের আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে ধরে নিয়ে গিয়ে গুম করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, মফিজুল ইসলাম রাশেদ দারুস সালাম থানার অধীনস্ত মিরপুরের ২য় কলোনীর ডায়মন্ড সোয়েটার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এর সামনে চা পান করতে যান। এ সময় সাদা পোশাকধারী ৩/৪ জন নিজেদের আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে রাশেদকে জোর করে একটি ধূসর রংয়ের মাইক্রোবাসে উঠিয়ে নিয়ে অজ্ঞাতস্থানে চলে যায়। এরপর থেকে মফিজুল ইসলাম রাশেদ এর কোন খোঁজ নেই বলে তাঁর পরিবার ও রাজনৈতিক সহকর্মীদের অভিযোগ। রাশেদের ব্যাপারে থানা ও ডিবি কার্যালয়ে তাঁর পরিবার একাধিকবার যোগাযোগ করলেও রাশেদেকে আটকের ব্যাপারটি এই প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে অস্বীকার করা হয়েছে।

একইদিন আরো গভীর রাতে রাজশাহীর র‌্যাব-৫ এর একটি দল রাজশাহী মহানগর ছাত্র-শিবিরের অফিস সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম মাসুমকে নগরীর রাজপাড়া থানার ১১ নং ওয়ার্ডে তার মামা ফজলুর রহমানের বাসা থেকে আটক করে নিয়ে যায়। আটকের সময় পরিবারের সদস্যদের একটি রুমে আটকে রেখে মাসুমকে অন্য একটি রুমে নিয়ে গিয়ে তার ওপর নির্যাতন চালানো হয় বলে তার পরিবারের অভিযোগ। আটকের ২৪ ঘন্টা পরও মাসুমকে আদালতে সোপর্দ না করায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে র‌্যাবের রেলওয়ে কলোনির ক্যাম্প এবং রাজশাহীর বিনোদপুরে র‌্যাব-৫ এর দপ্তরে যোগাযোগ করলে র‌্যাবের পক্ষ থেকে মাসুমকে আটকের বিষয়টি অস্বীকার করা হয়।

গত ১১ এপ্রিল রাত আনুমানিক ১২.১৫ টায় জয়পুরহাট জেলা জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক ও জয়পুরহাটের তালিমুল ইসলাম স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক নজরুল ইসলামকে তার থানা রোডের সাহেব পাড়ার বাসা থেকে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে কিছু লোক তুলে নিয়ে যায়। নজরুল ইসলামের স্ত্রী সালমা সুলতানা অধিকারকে জানান, “২০/২৫ জন লোক তাঁদের বাসার নিচ তলার কলাপসিবল গেটের তালা কেটে তৃতীয় তলায় তাদের ঘরের দরজায় আসে। তারা নিজেদের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে গেট খুলতে বলে। পরিবারের সদস্যরা দরজার ভেতর থেকে তাদের পরের দিন সকালে আসতে বললে তারা গেট ভাঙ্গতে উদ্যত হয়। তখন তার স্বামী গেট খুলে দিলে তারা তার স্বামীকে একটি খয়েরি রংয়ের মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে তারা চলে যায়”। এর পর পরিবারের সদস্যরা জয়পুরহাট থানা, ডিবি অফিস ও র‌্যাবের অফিসে যোগাযোগ করলে এইসব প্রতিষ্ঠান থেকে তার স্বামীকে আটকের কথা অস্বীকার করা হয়। সালমা সুলতানা অধিকারকে আরও বলেন, “বিরোধী দলের রাজনীতি করার কারণে তার স্বামীকে গুম করা হয়েছে”।

গুমের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে অধিকার  বলছে, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে দমন করার অজুহাতে সরকারের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ আসতে থাকায় বিরাজমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি আরো বেশী অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে।

একইসঙ্গে অধিকার বলছে, আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় দিয়ে আটক এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধার এবং এই ব্যাপারে সরকারকে ব্যাখ্যা দিতে হবে। পাশাপাশি গুমের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ডিসেম্বর ১৮, ২০০৯ তারিখে গৃহীত সনদ ‘ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন ফর দি প্রোটেকশন অফ অল পারসনস ফ্রম এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেনস’ অনুমোদন করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে অধিকার।

তবে জেনেভাস্থ জাতিসংঘ কার্যালয়ে চলমান মানবাধিকার পর্যালোচনা ইউপিআর-এ সরকার জানিয়েছে, গুম বা এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স বলে কোনো শব্দই বাংলাদেশের আইনে নেই। জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে চলমান ইউনিভার্সাল পিরিওডিক রিভিউতে বাংলাদেশের সরকারি বক্তব্য উপস্থাপনকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, তবে কিছু ‘অপহরণে’র ঘটনা সাধারণত ঘটে যার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়।

জাতিসংঘের গুম বিরোধী ওই সনদে অপহরণ থেকে গুম করার অপরাধকে আলাদাভাবে শনাক্ত করা হয়েছে।

নারী নির্যাতন: প্রতিবেদনে দেখা যায়, এপ্রিল মাসে মোট ৬২ জন নারী ও মেয়ে শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এদের মধ্যে ২৩ জন নারী, ৩৬ জন মেয়ে শিশু ও তিনজনের বয়স জানা যায়নি।

২৩ জন নারীর মধ্যে একজনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে এবং ১২ জন গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ৩৬ জন মেয়ে শিশুর মধ্যে দুইজনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে এবং নয়জন গণধর্ষণের শিকার হয়েছে।

এপ্রিল  মাসে মোট ৪৪ জন নারী যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন। এদের মধ্যে একজন বখাটে কর্তৃক নিহত হয়েছেন। এছাড়া বখাটে কর্তৃক আহত হয়েছেন একজন, আটজনকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে, তিনজন অপহরণের শিকার হয়েছেন, পাঁচজন লাঞ্ছিত হয়েছেন ও ২৬ জন নারী বিভিন্নভাবে যৌন হয়রানীর শিকার হয়েছেন।

যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করতে গিয়ে বখাটে কর্তৃক আক্রমণে একজন পুরুষ নিহত ও তিনজন পুরুষ এবং দুই জন নারী আহত হয়েছেন।

Capture

Advertisements

আলোচনা

কোন মন্তব্য নেই এখনও

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

হেফাজতে ইসলামের খবর

https://banglargangai.wordpress.com/wp-admin/widgets.php#available-widgets

ফরহাদ মজহারের কলাম

Join 253 other followers