এখন পড়ছেন
সাক্ষাৎকার

অবরোধ হবেই: সাক্ষাৎকারে মুফতি ফয়জুল্লা

6919_1সংবিধানে ‘আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনস্থাপনসহ ১৩ দফা দাবিতে আগামী ৫ মে’র অবরোধ কর্মসূচির প্রস্তুতি প্রায় শেষ করে এনেছে হেফাজতে ইসলাম। দলের নেতাকর্মীরা ইতোমধ্যেই ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।

এদিকে, যে কোন মূল্যে এই অবরোধ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে দেশের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্ত চষে বেড়াচ্ছেন হেফাজতে ইসলামের সিনিয়র নেতারা। তাদের মতে, সেদিন সারাদেশ থেকে অবরোধ কর্মসূচিতে অংশ নিবে অর্ধকোটি তৌহিদী জনতা।

অবরোধ কর্মসূচির বিভিন্ন দিক নিয়ে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লার সাথে কথা হয় আরটিএনএন-এর নিজস্ব প্রতিবদেক শামছুজ্জামান নাঈমের। সাথে ছিলেন আলোকচিত্রী জাহাঙ্গীর আলম। বাংলার গান গাই পাঠকদের জন্য সাক্ষাৎকারটি তুলে দেয়া হলো।

আরটিএনএন: আগামী ৫ মে’র অবরোধ কর্মসূচির প্রস্তুতি কোন পর্যায়ে রয়েছে?

মুফতি ফয়জুল্লাহ: ইতোমধ্যে সারাদেশ থেকে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়ে গেছেন। অবরোধ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সকল প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছে, এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। আমরা সারাদেশকে জোনভিত্তিক ভাগ করে কমিটি গঠন করেছি। এছাড়া অবরোধ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য অঞ্চলভিত্তিক নেতৃত্ব দেওয়া হয়েছে।

আরটিএনএন: কর্মসূচিতে বাধা আসলে হেফাজতের ভূমিকা কী থাকবে?

মুফতি ফয়জুল্লাহ: সরকার ইসলাম রক্ষার এই অবরোধ কর্মসূচিতে বাধা দেবে না। আর যদি কর্মসূচিতে বাধা দেয় তা হবে সরকারের জন্য আত্মঘাতী। আশা করি, সরকার বাধা দেওয়ার মতো এমন ভুল কাজ করবে না। বাধা আসলে সরকার পতনের একদফা আন্দোলন হবে।

আরটিএনএন: হেফাজতে ইসলামের বিরুদ্ধে ফেতনা ছড়ানোর অভিযোগ করছে কয়েকটি ইসলামী দল। এ প্রসঙ্গে আপনার বক্তব্য কী?

মুফতি ফয়জুল্লাহ: যারা বা যে সংগঠন এমন বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে হেফাজতের বিরুদ্ধে আসলে তারাই ফেতনার সৃষ্টিকারী। তবে তারা সরকারের ‘বি টিম’ হিসেবে কাজ করছে বলে মনে করি।

আরটিএনএন: অবরোধ কর্মসূচির নামে হেফাজত রাজধানীতে নাশকতা করতে পারে এমন আশঙ্কার কথা ছড়ানো হচ্ছে। এ বিষয়ে সংগঠনের অবস্থান কী?

মুফতি ফয়জুল্লাহ: ৬ এপ্রিলের লংমার্চের পর এ পর্যন্ত সারাদেশে ৪০টির বেশি শানে রেসালাতসহ নানা সম্মেলন হয়েছে। কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। অবরোধ কর্মসূচিতেও ঘটবে না।

আরটিএনএন: আপনারা সরকারকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিলেন দাবি মেনে নেওয়ার জন্য। কিন্তু এখনও সে ১৩ দফা দাবির একটিও সরকার মেনে নেয়নি। অবরোধের আগে দাবি মেনে নেয়ার ব্যাপারে আপনারা কতটুকু আশাবাদী?

মুফতি ফয়জুল্লাহ: আমার বিশ্বাস ৯০ভাগ মুসলমানের এই দেশে সরকার অবশ্যই ইসলাম রক্ষার দাবি মেনে নেবে এবং তা ৫ মে’র আগেই। আর যদি দাবি মেনে না নিলে আমাদের আন্দোলন হবে সরকার পতনের একদফা।

আরটিএনএন: হেফাজত নেতাদের গ্রেপ্তারের দাবিতে কয়েকটি ইসলামী দল হরতাল ডেকেছে। এই হরতালকে আপনারা কিভাবে দেখছেন?

মুফতি ফয়জুল্লাহ: ‘যে দলগুলো এমন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে তাদেরকে আমরা আমাদের প্রতিপক্ষ মনে করি না। তাই এব্যাপারে তেমন কিছু বলতে চাই না। তারাই আমাদের এই অবরোধ কর্মসূচিকে বানচাল করার জন্যে এমন কর্মসূচি দিয়েছে। তবে এই হরতালকে ইসলাম প্রিয় জনতা আমলে নেবে না।’

আরটিএনএন: অবরোধে কর্মসূচি বাস্তবায়নে কি থাকছে?

মুফতি ফয়জুল্লাহ: ৫ মে’ সকাল থেকে আমরা রাজধানী ঢাকার সকল প্রবেশ পথগুলোতে অবস্থান নেব। প্রবেশ পথগুলোতে বসে জিকির, কোরআন তেলাওয়াত, ইসলাম সংগীত ও ওয়াজ মাহফিল করবো আমরা। আর এর মাধ্যমেই ঢাকাকে অবরুদ্ধ করা হবে।

আরটিএনএন: হরতাল কর্মসূচি না দিয়ে অবরোধ কেন করছেন?

মুফতি ফয়জুল্লাহ: হরতালের পরিবর্তে অবরোধ কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে যাতে সাধারন জনতা অবরোধ কর্মসূচিতে সহজেই উপিস্থিত হতে পারে এবং সরকার যেন বুঝতে পারে মুসলমানদের এই দেশে ইসলামের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া হলে তা মেনে নেবে না ইসলাম প্রিয় তৌহিদি জনতা। অন্যদিকে, হরতালে সাধারণ ক্ষয়ক্ষতি হবার ভয়ে জনতা বের হবে না।

আরটিএনএন: আপনাদের এই অবরোধ কর্মসূচি কতদিন স্থায়ী হবে?

মুফতি ফয়জুল্লাহ: এই কর্মসূচি কত সময় স্থায়ী হবে তা সেই সময়ের পরিস্থিতির আলোকেই বলা যাবে। তবে কর্মসূচি কতটা সময় দীর্ঘ হবে তা কেন্দ্রীয় নেতা আল্লামা আহমদ শফী সাহেবই নির্ধারণ করবেন।

আরটিএনএন: হেফাজতের ১৩ দফা দাবি মানা হলে দেশ ১৩শ’ বছর পিছিয়ে যাবে বলে একটি গোষ্ঠী দাবি করেছে। এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য কি?

মুফতি ফয়জুল্লাহ: যারা এই কথা বলেন- হেফাজতের দাবি মেনে নেওয়া হলে দেশ ১৩শ’ বছর পিছিয়ে যাবে তারা ‘শিক্ষিতমূর্খ’ ছাড়া আর কিছু নয়।

আরটিএনএন: হেফাজতে ইসলামের দাবি নারী স্বাধীনতার অন্তরায় বলে মনে কিছু নারীনেত্রী দাবি করে আসছেন। বিষয়টি আপনি কিভাবে দেখছেন?

মুফতি ফয়জুল্লাহ: হেফাজতের দাবিগুলোকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। আমরা কোথাও বলিনি নারীকে আবদ্ধ করে রাখতে। আমরা বলেছি নারীকে শালীনতার সাথে দৈনন্দিন কাজ করতে এবং কর্মক্ষেত্রে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ইসলামই নারীকে সর্বোচ্চ সম্মান দিয়ে থাকে।

হেফাজতের এই দাবি মেনে নিলে তো হেফাজতের বিরোধিতাকারীরা ধর্ষণের সেঞ্চুরি করতে পারবে না। ঘর থেকে বের করে এনে নারীর সাথে অবাধ মেলামেশা করতে পারবে না। পণ্য হিসেবে নারীকে ব্যবহার করতে পারবে না। তাই তাদের এমন জ্বালাপোড়া।

আরটিএনএন: এরআগে ৬ এপ্রিলের লংমার্চের পর শাহবাগে হেফাজতের সাথে গণজাগরণের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। আশঙ্কা করা হচ্ছে অবরোধের সময়ও এমন ঘটনা ঘটতে পারে। এ ব্যাপারে আপনাদের সংগঠন কি মনে করছে?

মুফতি ফয়জুল্লাহ: দেখুন হেফাজতের নেতাকর্মীরা সেদিন যদি থুথু ও ছিটাতো তাহলে শাহবাগ নামক জায়গাটি সমুদ্রে পরিণত হতো। আমাদের কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর তারা হেফাজত নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করে।

আরটিএনএন: একদফা আন্দোলনের সরকারের পতন হলে আপনারা কি সরকার গঠন করবেন?

মুফতি ফয়জুল্লাহ: হেফাজত ক্ষমতা দখলের জন্য আন্দোলন করছে না। এমনকি হেফাজত কখনোই সরকার গঠন করবে না। আমরা চাই সুষ্ঠু ও সুন্দর একটি নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার ক্ষমতায় আসুক। যাদের কাছে আমাদের দাবি থাকবে ইসলাম রক্ষায় কাজ করার জন্য। তাহলে তাদের প্রতি আমাদের পূর্ণ সমর্থন থাকবে।

আরটিএনএন: আমাদের সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ!

মুফতি ফয়জুল্লাহ: আপানাদেরকে, আরটিএনএন এবং এর পাঠকদের অসংখ্য ধন্যবাদ!

Advertisements

আলোচনা

কোন মন্তব্য নেই এখনও

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

হেফাজতে ইসলামের খবর

https://banglargangai.wordpress.com/wp-admin/widgets.php#available-widgets

ফরহাদ মজহারের কলাম

Join 253 other followers