এখন পড়ছেন
খবর

হেফাজতের জোর প্রস্তুতি, ঠেকানোর চেষ্টায় সরকার

hi

১৩ দফা দাবিতে লংমার্চ করার পর একই দাবিতে ঢাকা অবরোধের কর্মসূচি সফল করতে জোর প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে হেফাজতে ইসলাম। আগামী ৫ মে ঢাকার প্রবেশপথগুলো বন্ধ করে দিয়ে অবস্থানের পরিকল্পনা নিয়েছে সংগঠনটি। এ লক্ষ্যে হেফাজতে ইসলামের নেতারা ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছেন। লংমার্চের চেয়েও দেশব্যাপী ব্যাপক জাগরণ সৃষ্টি করতে তারা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে, সরকার বিভিন্নভাবে এই কর্মসূচি ঠেকাতে কাজ করছে। একদিকে হেফাজতবিরোধী গ্রুপ তৈরি করে তাদের মাঠে নামিয়েছে, অন্যদিকে আলোচনার মাধ্যমে হেফাজতকে তাদের কর্মসূচি থেকে ফেরানোর চেষ্টা করছে সরকার। তবে শেষ পর্যন্ত হেফাজত যেকোনো মূল্যে তাদের কর্মসূচি পালন করবে বলে জানা গেছে।

মহানবী সা. ও ইসলামের অবমাননাকারী ব্লগারদের শাস্তিসহ ১৩ দফা দাবি মেনে নেয়ার জন্য সরকারকে হেফাজতের বেধে দেয়া সময়সীমা ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে এসব দাবি মেনে নেয়া না হলে ৫ মে ঢাকা অবরোধ করবে হেফাজতে ইসলাম।

সংগঠনটির কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যেকোনো মূল্যে অবরোধ কর্মসূচি পালনে দৃঢ়প্রত্যয়ী তারা। তারা জানিয়েছেন, ওইদিন সারা দেশ থেকে একযোগে মাঠে নামবে হেফাজতের কর্মী সমর্থকরা। যেখানে বাধা দেয়া হবে সেখানেই তারা অবস্থান নেবেন। তাদের টার্গেট ঢাকার প্রবেশপথগুলো বন্ধ করে দেয়া। তাদের মতে, সরকার বাধা দিয়েও এই কর্মসূচি বানচাল করতে পারবে না। ঢাকাসহ সারা দেশে লাখ লাখ লোক রাস্তায় নেমে এলে সরকার বাধা দিয়েও খুব একটা সুবিধা করতে পারবে না।

তারা জানান, লংমার্চে সরকার গাড়ি বন্ধ করে দিয়ে বানচালের চেষ্টা করেছিল, তা সত্ত্বেও পারেনি। আর এবারের কর্মসূচি বাস্তবায়নে গাড়ি বন্ধ করে দিয়ে লাভ হবে না। প্রত্যেক এলাকায় পৃথকভাবে রাস্তায় অবস্থান নেবেন তারা।

এদিকে সরকার হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে কৌশলী পথে এগোচ্ছে। তাদের ১৩ দফা দাবি বিবেচনা করা হবে বলে প্রথমদিকে সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেয়া হলেও পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে এসব দাবিকে ‘অযৌক্তিক’ ও ‘সংবিধান পরিপন্থী’ আখ্যায়িত করার মাধ্যমে কার্যত তা নাকচ করা হয়েছে।

৬ এপ্রিল লংমার্চের পরপরই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘১৩ দফা দাবি সরকারের সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। তবে ঢাকা অচল করে দেয়ার হেফাজতে ইসলামের হুমকির জবাবে কয়েকদিন আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন ‘তাদেরকেই (হেফাজতে ইসলামকে) অচল করে দেয়া হবে।’

হেফাজতে ইসলামের উত্থাপিত দাবিগুলো যৌক্তিক এবং দেশের প্রচলিত আইন ও সংবিধানসম্মত কিনা তা ইতিমধ্যে খতিয়ে দেখেছে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত শাখা। ১৩ দফা দাবি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা শেষে গত ৯ এপ্রিল আইন মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, এসব দাবি দেশের সংবিধান ও প্রচলিত আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

বিষয়টি জানিয়ে পরদিন আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ সাংবাদিকদের বলেছেন, ১৩ দফা দাবির একটিরও সাংবিধানিক ও আইনগত কার্যকারিতা নেই। তাই এসব দাবি পূরণের উদ্যোগ নেয়ার কোনো আইনি অধিকার নেই সরকারের। তাই সরকার দাবি মেনে নেবে না- এমনটি ধরে নিয়েই ঢাকা অবরোধের প্রস্তুতি নিচ্ছেন হেফাজতে ইসলামের মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মী-সমর্থকরা।

এদিকে শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের পাশাপাশি হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফার বিরুদ্ধে এবার সরকার বেশকিছু নারী সংগঠনকে মাঠে নামিয়েছে। তারা ২৭ এপ্রিল ঢাকায় গণসমাবেশের ঘোষণা দিলেও সাভারে ভবন ধসে বহু হতাহতের ঘটনায় তা স্থগিত করা হয়েছে। আগামী ৯ মে এ গণসমাবেশ হওয়ার কথা রয়েছে। এতে তৈরি পোশাক শিল্পের নারী শ্রমিকরাও অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।

এছাড়া চট্টগ্রামভিত্তিক সুন্নী জামায়াতসহ ইসলামের নামে কয়েকটি সংগঠনও সরকারের সহায়তায় হেফাজতের বিরুদ্ধে মাঠে বেশ তৎপর। হেফাজতের অভিযোগ, এসব সংগঠনকে সরকারই মাঠে নামিয়েছে ঢাকা অবরোধ কর্মসূচি বানচাল করতে। ১৩ দফা সম্পর্কে সরকার বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলেও অভিযোগ হেফাজত নেতাদের।

৬ এপ্রিল লংমার্চের পর হেফাজত মাসব্যাপী দেশের বিভিন্ন স্থানে শানে রেসালত সম্মেলন কর্মসূচি ঘোষণা করে। ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত তাদের এ কর্মসূচি ছিল। শেষ দিন বগুড়ার মহাসমাবেশে হেফাজতের আমির আল্লামা আহমদ শফী স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন, সরকার ক্ষমতায় থাকতে হলে তাদের ১৩ দফা দাবি মানতে হবে। হেফাজতের দাবি না মানলে ৫ মে কী হবে তা কেউ জানে না বলেও মন্তব্য করেন সংগঠনটির প্রধান। আল্লামা শফী ৫ মে প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র নিয়ে সবাইকে ঢাকা অবরোধ কর্মসূচিতে যোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। হেফাজত কোনো সাংঘর্ষিক অবস্থানে যাবে না বলেও বিভিন্ন নেতা আশ্বাস দিয়েছেন।

এদিকে হেফাজতের ঢাকা অবরোধ কর্মসূচির আগের দিন ৪ মে ঢাকায় সমাবেশ ডেকেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট। ধারণা করা হচ্ছে, হেফাজতের কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার সুবিধার্থেই জোটের এ কর্মসূচি। তাছাড়া ১৮ দল চাচ্ছে হেফাজতের মাধ্যমে সরকারবিরোধী আন্দোলন জোরদার করতে। এজন্য জোটের পক্ষ থেকে হেফাজতকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। হেফাজতের ঢাকা অবরোধ ও ১৮ দলের সমাবেশকে কেন্দ্র করে সারা দেশে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাভার ট্রাজেডির কারণে কয়েক দিন বিষয়টি অনালোচিত থাকলেও ২ মে থেকে হেফাজতের কর্মসূচি আলোচনার শীর্ষে চলে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হেফাজতের অবরোধ কর্মসূচি ঠেকানোর ঘোষণা দিয়েছে সরকারপন্থী কয়েকটি ইসলামী সংগঠন। আগামী ৪ ও ৫ মে তারা হরতালের হুমকিও দিয়েছে। তবে এসব নিয়ে ভাবছেন না হেফাজতের নেতাকর্মীরা। হেফাজতের কেন্দ্রীয় এক নেতা জানান, লংমার্চ ঠেকানোর জন্যও সরকার অভিনব হরতাল ডাকিয়েছিল। কিন্তু জনতার বাঁধভাঙা স্রোত ঠেকাতে পারেনি। এবার লংমার্চের চেয়ে বেশি লোক সমাগম হবে বলে দাবি করেন ওই নেতা।

সুত্র: নতুনবার্তা

Advertisements

আলোচনা

কোন মন্তব্য নেই এখনও

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

হেফাজতে ইসলামের খবর

https://banglargangai.wordpress.com/wp-admin/widgets.php#available-widgets

ফরহাদ মজহারের কলাম

Join 253 other followers