এখন পড়ছেন
খবর

যশোর, নারায়নগঞ্জ, মানিকগঞ্জ ও ময়মনসিংহে হেফাজতের সমাবেশ

যশোরে হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা জুনায়েদ আহমেদ বাবুনগরী বলেছেন, মদিনা সনদ অনুযায়ী দেশ চালাতে হলে আগে চোর মন্ত্রীদের হাত কেটে নিতে হবে। তিনি মন্তব্য করেন, আসলে মদিনা সনদ নয়, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা র’র সনদ অনুযায়ী দেশ চলছে। মাওলানা বাবুনগরী অবিলম্বে আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের মুক্তি এবং পত্রিকাটির প্রেস খুলে দেয়ার দাবি জানান। না হলে দেশের কোটি কোটি মানুষ নিজ দায়িত্বে আমার দেশ-এর প্রেস খুলতে বাধ্য হবে বলে তিনি হুশিয়ারি দেন।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ ও ময়মনসিংহের হেফাজতের মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

যশোরে হেফাজতের মহাসমাবেশ : যশোরে হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা জুনায়েদ আহমেদ বাবুনগরী বলেছেন, মদিনা সনদ অনুযায়ী দেশ চালাতে হলে আগে চোর মন্ত্রীদের হাত কেটে নিতে হবে। তিনি মন্তব্য করেন, আসলে মদিনা সনদ নয়, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা র’র সনদ অনুযায়ী দেশ চলছে। মাওলানা বাবুনগরী অবিলম্বে আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের মুক্তি এবং পত্রিকাটির প্রেস খুলে দেয়ার দাবি জানান। না হলে দেশের কোটি কোটি মানুষ নিজ দায়িত্বে আমার দেশ-এর প্রেস খুলতে বাধ্য হবে বলে তিনি হুশিয়ারি দেন।

মাওলানা জুনায়েদ আহমেদ বাবুনগরী শনিবার বিকালে যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহে শানে রেসালাত (মহাসমাবেশ)-এ প্রধান অতিথির বক্তৃতা করছিলেন। হেফাজতে ইসলাম জেলা শাখা এ মহাসমাবেশ আয়োজন করে। এতে হেফাজত কর্মী ছাড়াও হাজার হাজার সাধারণ মানুষ অংশ নেন। সমাবেশস্থল কেন্দ্রীয় ঈদগাহ সকালেই পূর্ণ হয়ে যায়। পরে হাজার হাজার মানুষ সমাবেশস্থলের আশপাশ ও শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে অবস্থান নেন।

আরও বলেন, হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়। আর যদি সাংঘর্ষিক মনে হয় তবে সংবিধান পরিবর্তন করে হলেও দাবি মানতে হবে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফের বক্তব্যের সমালোচনা করে মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, হেফাজতে ইসলামের নেতারা লেজ গুটিয়ে চট্টগ্রামে চলে যাননি। বরং হেফাজতে ইসলাম সিংহের মতো সারাদেশে বিরাজ করছে। অবিলম্বে হেফাজতের দাবি না মানলে আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতা ছেড়ে লেজ গুটিয়ে পালাতে বাধ্য করা হবে।
সাতক্ষীরা, যশোর, নড়াইল, ঝিনাইদহ ও মাগুরা থেকে সমাবেশে আসতে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা বাধা দিয়েছে অভিযোগ করেন হেফাজত মহাসচিব। তিনি বলেন, একদিকে সরকার সমাবেশের অনুমতি দিচ্ছে, অন্যদিকে বাধা দিচ্ছে। এটা দ্বিমুখী নীতি। আর দ্বিমুখী নীতিই হলো মোনাফেকি।

তিনি বলেন, ইমরান এইচ সরকার হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের রক্ত দিয়ে শাহবাগ রঞ্জিত করতে চেয়েছে। তাই যদি হয় তবে এদেশের কোটি কোটি মুসলমান তাদের রক্তে সারাদেশকে রঞ্জিত করবে। তিনি বলেন, আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে অবিলম্বে মুক্তি এবং প্রেস খুলে দিতে হবে হবে। না হলে দেশের কোটি কোটি মানুষ আমার দেশ-এর প্রেস নিজ দায়িত্বে খুলতে বাধ্য হবে। তিনি সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। আগামী ৫ মে ঢাকা অবরোধ কর্মসূতিতে বাধা দিলে তা প্রতিহতেরও ঘোষণা দেন মাওলানা জুনায়েদ।

সমাবেশে হেফাজতের নায়েবে আমির মুফতি মুহম্মদ ওয়াক্কাস বলেন, সরকার ক্ষমতায় যাওয়ার আগে কোরআন সুন্নাহবিরোধী কোনো কাজ করা হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু ক্ষমতায় গিয়ে তা ভুলে সংবিধান থেকে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস তুলে দিয়ে ঈমান হরণের ব্যবস্থা করেছে। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে মুফতি ওয়াক্কাস বলেন, নাস্তিক ব্লগার রাজিবকে শহীদ ঘোষণা করায় আপনি ইসলামের কলঙ্ক। মাওলানা শাহ্ আহমদ শফীর এক আজানের ধ্বনিতে নাস্তিকদের সব আশা শেষ হয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রীকে তিনি আরও বলেন, আপনার সময় শেষ হয়ে আসছে। ক্ষমতায় থাকতে হলে ১৩ দফা মেনে থাকতে হবে।
সমাবেশে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-আহ্বায়ক মুফতি মাহফুজুল হক বলেন, সরকারের জন্য শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ এখন গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছে। অবিলম্বে গণজাগরণ মঞ্চের পক্ষ ত্যাগ না করলে সরকার পালানোর পথ খুঁজে পাবে না। কুষ্টিয়ায় হেফাজতের সমাবেশে বাধা দেয়ার অভিযোগ এনে তিনি বলেন, ‘নাস্তিক ইনুকে’ কুষ্টিয়ায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হবে।

ফজরের নামাজের পর থেকে তৌহিদি জনতা সমাবেশস্থলে জড়ো হাতে থাকে। শহরের দড়াটানা, মাইকপট্টি, মুজিব সড়কের সার্কিট হাউস মোড়ে প্রচণ্ড রোদ আর দাবদাহ উপেক্ষা করেই বিপুল সংখ্যক মানুষ দীর্ঘ সময় অবস্থান করেন সমাবেশে। সমাবেশে আল্লাহ ও রাসুলকে (সা.) অবমাননাকারী নাস্তিক ব্লগারদের ফাঁসির দাবিতে স্লোগান দেয়া হয়। নাস্তিক-মুরতাদদের শাস্তির দাবিতে মানুষের হাতে হাতে ছিল নানা ধরনের প্লাকার্ড।

যশোরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে যোগ দেয়া তৌহিদি জনতার মাঝে খাবার পানি, পানীয়, শরবত, শুকনা খাবার ও মৌসুমি ফল বিতরণ করেছে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন। অনেকে ব্যক্তি উদ্যোগে খেদমত করেছেন। তাত্ক্ষণিক চিকিত্সা সেবা দেয়ার জন্য ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ড্যাব সমাবেশস্থলে একটি ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প খোলে। শহরের খড়কির বাসিন্দা মাহমুদ রিবন এসেছিলেন মুসল্লিদের জন্য পানি, শরবত, বিস্কুট নিয়ে। তিনি বলেন, ধর্মপ্রাণ মানুষদের সামান্য খেদমত করতে পেরে ভালো লাগছে। সমাবেশস্থলের আশপাশ ছাড়াও শহরের প্রতিটি প্রবেশদ্বারেই ছিল পানি, পানীয় ও নানা ধরনের শুকনা খাবারের ব্যবস্থা।

‘মাহমুদুর রহমানের কিছু হলে সারাবাংলায় আগুন জ্বলবে’ : আগামী ৫ মে’র আগে যদি আমার দেশ প্রকাশ করতে দেয়া না হয়, তাহলে কঠোর আন্দোলনের হুমকি দিয়েছে হেফাজতে ইসলামের নেতারা। তারা আরও বলেন, কারাবন্দি অবস্থায় আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের কিছু হলে সারাবাংলায় আগুন জ্বলবে। গতকাল বিকালে নারায়ণগঞ্জ শহরের ডিআইটি বাণিজ্যিক এলাকায় জেলা হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে বক্তারা এ হুশিয়ারি দেন। বক্তারা বলেন, এবারের সংগ্রাম নাস্তিকদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম নবীজির ইজ্জত রক্ষার সংগ্রাম। এ কারণেই দল-মত নির্বিশেষে ৫ মে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে থাকতে হবে। বক্তারা বলেন, ৫ মে ঢাকা অবরোধের সময়ে প্রমাণ করা হবে, দেশের জনগণ সরকারের বিরুদ্ধে আর ১৩ দফা দাবির পক্ষে। বক্তারা তাদের বক্তব্যে সাভারে ভবন ধসের ঘটনায় নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং রানা প্লাজার মালিক রানাকে সরকারই লুকিয়ে রেখেছে বলে অভিযোগ করেন। পত্রিকায় ছবি এসেছে, সাভারের এমপি তৌহিদ মুরাদের সঙ্গে রানার অন্তরঙ্গ সম্পর্ক রয়েছে। ভবন ধসের পরে সরকারদলীয় এ এমপিই রানাকে লুকিয়ে রেখেছে। অথচ সরকারের সরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছে, বিএনপি ও জামায়াতের ঝাঁকুনিতে ভবন ধসে পড়েছে। এতেই প্রমাণিত হয়, তিনি একজন পাগল।

বক্তারা বলেন, নাস্তিক, বাম ধারা ও কমিউনিস্ট নেতাদের সঙ্গে আমাদের কোনো ধরনের আপস নেই। তাদের অন্যায় কোনোভাবেই মেনে নেয়া হবে না। ডিআইটি বাণিজ্যিক এলাকায় বঙ্গবন্ধু সড়কে বিকাল তিনটায় শুরু হয় হেফাজতে ইসলাম নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির উদ্যোগে মহাসমাবেশ। এ সমাবেশে যোগ দিতে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার জনতা মিছিল নিয়ে সমবেত হয়। ডিআইটিতে অবস্থিত রেলওয়ে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের মূল ফটকের সামনে বঙ্গবন্ধু সড়কের পশ্চিম পাশে বিশাল মঞ্চ তৈরি করা হয়েছিল। বিকাল তিনটায় ইসলামি সঙ্গীত দিয়ে সমাবেশ শুরু হয়। মিছিলে আসা লোকজন বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দেয়। বিকাল চারটার মধ্যেই শহরের ডিআইটি বাণিজ্যিক এলাকার ডিআইটি জামে মসজিদ থেকে শহরের চাষাঢ়ায় বালুর মাঠের নূর মসজিদ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু সড়কে জমায়েত হয়ে হাজার হাজার জনতা। বিকাল পাঁচটার মধ্যে মানুষের অবস্থান চলে যায় চাষাঢ়া পর্যন্ত। যেখানে চোখ যায়, শুধু মানুষ আর মানুষ। মাথায় সাদা টুপি আর শরীরে বিভিন্ন রঙের পাঞ্জাবি পরে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছিল কয়েক কিলোমিটারের এ সমাবেশে। বিশাল এ সমাবেশের কারণে পুরো বঙ্গবন্ধু সড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল। ডিআইটি বাণিজ্যিক এলাকায় ডিআইটি মসজিদের সামনের গেটে বঙ্গবন্ধু সড়কের পশ্চিম পাশে মঞ্চ তৈরির পর ধারণা করা হয়েছিল শুধু সড়কের পশ্চিম দিকে হয়তো মানুষ থাকবে। বিকাল তিনটায় ইসলামি সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে সমাবেশ শুরু হয়। সাড়ে তিনটা পর্যন্ত পশ্চিম দিকেই মানুষের উপস্থিতি ছিল। তবে বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মানুষের স্রোত আছড়ে পড়ে পুরো সড়কে। বঙ্গবন্ধু সড়কের পশ্চিম ও পূর্ব পাশের দু’দিকেই রাস্তার মধ্যে বসে পড়ে হাজার হাজার মানুষ। বিশাল এ সমাবেশটি নারায়ণগঞ্জের স্মরণকালের বিশাল জমায়েত বলে জানিয়েছেন অনেকে। তারা জানান, এত মানুষের একসঙ্গে সমাবেশ এর আগে নারায়ণগঞ্জে কোথাও ঘটেনি।

‘হাসিনাকে এদেশে পাগলামি করতে দেয়া হবে না’ : মানিকগঞ্জে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে বক্তারা বলেছেন, এ দেশ শেখ হাসিনার পাগলামীর মঞ্চ হতে পারে না। দেশ আজ দু’ভাগে বিভক্ত। একভাগে শেখ হাসিনা সরকারের নেতৃত্বে নাস্তিক, মুরতাদ, খোদাদ্রোহী, কবর পূজারি, কাদিয়ানীরা আর অপরভাগে রয়েছে আল্লামা শাহ আহমদ শফীর নেতৃত্বে এ দেশের পীর-মাশায়েখ, আলেম-ওলামা ও দেশপ্রেমিক তওহিদি জনতা। বক্তারা বলেন, নাস্তিক-মুরতাদের পক্ষ নিয়ে শেখ হাসিনা প্রমাণ করেছেন, তিনি নিজেও নাস্তিক। তাকে তওবা করে মুসলমান হতে হবে। নব্বই ভাগ মুসলমানের দেশে তাকে পাগলামি করতে দেয়া হবে না। এদেশ ওলী-আওলিয়াদের দেশ, তওহিদি জনতার দেশ। আল্লাহ ও আল্লাহর রাসুলের কথা যদি শেখ হাসিনার কাছে ভালো না লাগে তাহলে তাকে নাস্তিক, মুরতাদদের সঙ্গে নিয়ে এদেশ থেকে চলে যেতে হবে। দেশে নতুন করে স্বাধীনতাযুদ্ধ শুরু হয়েছে। এ যুদ্ধে তওহিদি জনতা অবশ্যই বিজয়ী হবে।

এ সময় বক্তারা বলেন, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের অতন্দ্র প্রহরী এদেশের দেশপ্রেমিক জনতার কলিজার টুকরা আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে মুক্তি এবং আমার দেশ পত্রিকা চালু করতে দিতে হবে। অন্যথায় জালিম সরকার আপনি পালাবার পথ পাবেন না।

বক্তারা সাভারের ট্র্যাজেডিকে সরকারের ইচ্ছাকৃত গণহত্যা বলে দাবি করেন এবং এর বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেন। বক্তারা বলেন, শেখ হাসিনা ডাইনিতে পরিণত হয়েছেন। কোনো ডাইনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারেন না। আপনার ছেলে জয় কিংবা মেয়ে পুতুল যদি এই ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ত তাহলে কি আপনি বসে থাকতে পারতেন। উদ্ধার কাজ এত ধীরগতিতে হতো? তারা প্রশ্ন করেন উদ্ধার কাজে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার কোরকে ব্যবহার না করে কেন পদাতিক ডিভিশনকে পাঠানো হলো। তারা বলেন, সাভার হত্যাকাণ্ডের মূল নায়ক যুবলীগ নেতা রানাকে সরকারই নিরাপদে রেখেছে। তারা আরও অভিযোগ করে বলেন, নিহত, আহত ও আটকেপড়া ভাইবোনদের সহযোগিতা করার জন্য সাভারে হেফাজত কর্মীরা রক্ত দিয়েছে, উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। মানবতার কাজে নিয়োজিত এই হেফাজত কর্মীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়েছে। তাদের সেখান থেকে চলে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে। তারা হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, সাভারে আমাদের কর্মীদের ওপর কোন প্রকার জুলুম করা হলে ঢাকা থেকে লংমার্চ করে সাভার ঘেরাও করা হবে।

বক্তারা এ সময় সারাদেশে আটক আলেম-ওলামা ও নেতাকর্মীদের মুক্তি দাবি করেন ও সব মিথা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।

হেফাজতে ইসলামীর মানিকগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মুফতী সাঈদ নূরের সভাপতিত্বে স্থানীয় ল’ কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত শানে রেসালাত মহাসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন হেফাজতের ঢাকা মহানগর যুগ্ম সম্পাদক শাইখুল হাদীস মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ফারুকী। তিনি উপস্থিত হাজার হাজার জনতাকে প্রশ্ন করেন আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠা করতে প্রয়োজনে শহীদ হতে কে কে প্রস্তুত আছেন? এ সময় উপস্থিত জনতা হাত উঁচু করে তাকে সমর্থন জানান।

নেতারা বলেন, ৫ তারিখের ঢাকা ঘেরাওকে কেন্দ্র করে যদি কোনো নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয় কিংবা মামলা করা হয় তাহলে সারাদেশে আগুন জ্বলবে, হরতাল দিয়ে সারাদেশ অচল করে দেয়া হবে।

‘১৩ দফার আন্দোলন চলবেই’ : হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ-এর ১৩ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ইত্তেফাকুল ওলামা মুক্তাগাছা থানা শাখার উদ্যোগে বিশাল সানে রিসালাত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগরীর যুগ্ম আহ্বায়ক মাওলানা মামুনুল হক বলেন, হেফাজতে ইসলাম আজ টক অব দ্য ওয়ার্ল্ড। হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির সনদ। কোনো অযৌক্তিক ও অনৈতিক দাবি নিয়ে ওলামারা মাঠে নামতে পারে না। হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফার অপব্যাখ্যা করা হচ্ছে। ইসলামে পুরুষ অপেক্ষা নারীদের অধিক মর্যাদা দিয়েছেন। হেফাজতে ইসলাম তা রক্ষা করার আন্দোলনই করে যাচ্ছে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, আপনার কিছু কমিউনিস্ট মন্ত্রীর লাগাম টেনে ধরুন এবং কমিউনিস্ট মন্ত্রীদের নৌকা থেকে নামান। তা না হলে আপনার নৌকা তলিয়ে দেয়া হবে। গতকাল মুুক্তাগাছা উপজেলার সর্ববৃহত্ আরকে হাই স্কুল খেলার মাঠে অর্ধলক্ষাধিক মানুষের বিশাল সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা হেফাজতে ইসলামের সভাপতি মাওলানা আবদুল হালিম।

সমাবেশে প্রধান অতিথি মাওলানা মামুনুল হক সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিতর্কিত মন্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, এসব পাগল মন্ত্রীকে দিয়ে দেশ চলতে পারে না। তিনি দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে ঈমান রক্ষার আন্দোলনের অগ্রসৈনিক আখ্যায়িত করে সরকারের উদ্দেশে বলেন, তোমাদের ব্লগাররা আল্লাহর নবীকে নিয়ে কটূক্তি করবে, এ খবর প্রকাশ করার জন্য মাহমুদুর রহমানকে দায়ী করবে, এটা কি মগের মুল্লুক? শাহবাগের ছেলেমেয়েরা নষ্টামি করল, এই নষ্টামির খবর একজন পুলিশ কনস্টেবল সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে দেখে ফেলল। এজন্য সেই পুলিশ কনস্টেবলকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো। শেষে সাভারে নিহত গার্মেন্টস কর্মীদের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করে সুরা ফাতেহা ও এখলাসপাঠ করে সবার জন্য মোনাজাত করেন মাওলানা মফিজ উদ্দিন। অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ জাকির হোসেন বাবলু ও সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া হারুন মঞ্চে উপস্থিত হয়ে সংহতি প্রকাশ করলেও বক্তব্য রাখেননি।

Advertisements

আলোচনা

কোন মন্তব্য নেই এখনও

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

হেফাজতে ইসলামের খবর

https://banglargangai.wordpress.com/wp-admin/widgets.php#available-widgets

ফরহাদ মজহারের কলাম

Join 253 other followers