এখন পড়ছেন
সাক্ষাৎকার

‘আল্লাহর গজব’ সাংগঠনিক বক্তব্য নয়: হারুন ইজহার

harun-izhar_picসাভার ভবন ধসের ঘটনাকে হেফাজতে ইসলামের এক নেতা ‘আল্লাহর গজব’ বলে অভিহিত, এখন খবর প্রকাশিত হয় সংবাদমাধ্যমে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করতে দেখা যায় অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের। ওদিকে শুক্রবার হেফাজতের আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফি’র গাড়ি বহরে হামলা চালায় আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের নেতাকর্মীরা। হামলাকারীরা ২টি বাস ভাঙচুর হয়। আহত হন প্রায় ১৫-২০ জন কর্মী। এ বিষয়গুলো নিয়ে হেফাজতে ইসলামের সাহিত্য ও প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক মুফতি হারুন ইজহার পরিবর্তন.কম-র প্রতিবেদক সালেহ নোমানের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। সাক্ষাৎকারটি বাংলার গান গাই পাঠকদের জন্য তুলে দেয়া হলো-

প্রশ্নঃ হেফাজতে ইসলামের একজন নেতা সাভারের ভবন ধসের মত মর্মান্তিক ঘটনাকে আল্লাহ প্রদত্ত গজব বলে অভিহত করেছেন এই নিয়ে ব্লগে ফেসবুকে সমালোচনার ঝড় বইছে। এই বিষয়ে হেফাজতে ইসলামের বক্তব্য কী?

উত্তর: হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে সাভার ট্রাজেডিকে গজব উল্লেখ করে কোন বক্তব্য দেওয়া হয় নি। কেউ যদি গজব বলে থাকেন তবে এটা তার ব্যক্তিগত মতামত। রানা প্লাজা ধ্বসের দিন আমাদের আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফি সহ সবাই এই দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের জন্য দোয়া করেছি। আমাদের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছি দূর্গতদের সর্বাত্মক সহযোগীতা করার জন্য। হেফাজতে ইসলামের নীতি নির্ধারনী পর্যায়ের একজন সদস্য হিসেবে আমি বলতে চাই এটাকে এক ধরনের ফ্যাসাদ বা বিপর্যয় হিসেবে ধরে নিতে পারি। মানুষের বেপরোয়া কাজ কর্ম ও আচার আচরনের জন্য আল্লাহ কর্তৃক এই ধরনের বিপর্যয়ের বিষয়ে কোরআন শরীফের সুরা আর রূমে উল্লেখ করা হয়েছে। আরো নিদিষ্ট করে বলা যায় এটা শোষক শ্রেনী এবং ধনী শ্রেনীর জন্য বিপর্যয়, যারা নিরীহ শ্রমজীবি মানুষকে সস্তা শ্রমের বিনিময়ে নিজেদের ভোগ বিলাসের উপকরন তৈরীতে বাধ্য করে।

প্রশ্নঃ ইসলামের আলোকে একে কী গজব বলার কোনো সুযোগ রয়েছে?

উত্তর: সীমা লংঘনকারী কাফেরদের জন্য গজব শব্দটি উল্লেখ করা হয়ে থাকে। যেমন পবিত্র কোরআন শরীফে ইহুদীদের গজব প্রাপ্ত সম্প্রদায় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মুসলামানদের জন্য গজব শব্দটির ব্যবহার হওয়ার সুযোগ নেই। কাফেরদের মধ্যে যারা সীমা লংঘন করেনা তাদের জন্যও গজব শব্দটি প্রযোজ্য হতে পারেনা। তবে মুসলামানদের জন্য সাভার ট্রেজেডির মত যে কোন বিপর্যয় মহান আল্লাহ তালার পক্ষ থেকে একটি শিক্ষা ও পরীক্ষা। এইসব বিপর্যয় থেকে শিক্ষা নিয়ে মুসলামানরা আত্মসংশোধন করে নিতে পারে। এবং বিপর্যয়ে ধৈর্য ধারন করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারে।

প্রশ্নঃ হেফাজতে ইসলামের কর্মীদের উপর গত বুধবারে হামলা হয়েছে বলে খবরে এসেছে এবং গত শুক্রবারেও হেফাজতে ইসলামের উপর আহলে সুন্নতের হামলার খবর এসেছে। এই নিয়ে আপনাদের বক্তব্য কী?

উত্তর: ধর্মনিরপেক্ষতার আবরনে নাস্তিক্যবাদের বিরুদ্ধে ইসলামী মুল্যবোধ ও ঈমান রক্ষার আন্দোলন করছে হেফাজতে ইসলাম। এই লক্ষ্য নিয়ে আমাদের ১৩ দফা প্রনীত হয়েছে। দেশে অনেক ধরনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমস্যা থাকলেও ধর্ম সম্পর্কিত না হওয়ার কারনে আমাদের লক্ষ্য উদ্দেশ্যে এইসব সমস্যাগুলোর স্থান দেওয়া হয নি। আমরা চেয়েছিলাম সব মতের মুসলমানদের কাছে এই আন্দোলন গ্রহনযোগ্য হয়ে উঠুক, ইনশাআল্লাহ আমরা এতে সফল হয়েছি। কিন্তু কতিপয় আওয়ামীলীগ নেতা ও সরকারের ভেতরের নাস্তিকদের গডফাদারদের মত কথিত সুন্নী মতাদর্শ হিসেবে পরিচিতরা গায়ে পড়ে আমাদের বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছে। মতাদর্শের ভিন্নতা থাকলেও সুন্নী অথবা অন্যদের বিরুদ্ধে আমরা মুসলমানদের বৃহত্তর স্বার্থে কখনো কোন বক্তব্য দেয় নি। তাদের বক্তব্য ও কর্মসূচী দেখলে মনে হয় আওয়ামী লীগের সহযোগী হিসেবে তারা আমাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। শুধু তাই নয়, আমাদের উপর হামলা পর্যন্ত করছে।

প্রশ্নঃ আপনারা কি অভিযোগ দায়ের করেছেন কোনো?

উত্তর: হেফাজতে ইসলাম ইসলামের মৌলিক শিক্ষার চর্চ্চায় বিশ্বাস করে। তাই বৃহত্তর ইসলামী মূল্যবোধের কথা বিবেচনা করে আমাদের উপর যে কোন হামলাও বেআইনী কর্মকান্ডকে যৌক্তিক সময় পর্যন্ত ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখা হবে। কথিত সুন্নীয়ত পন্থীদের ক্ষুদ্র একটি অংশ হেফাজতের কর্মীদের উপর অজ্ঞতা বশত হামলা করছে। আমরা বিশ্বাস রাখতে চাই তারা আমাদের সম্পর্কে তাদের ধারনা পাল্টাবে। বৃহত্তর মুসলিম ঐক্যের স্বার্থে আমরা এই মনোভাব রাখছি। যে কোন ধরনের উস্কানীর মধ্যেও আমরা কারো সাথে বিরোধে জড়াবো না।

প্রশ্নঃ দেশজুড়ে হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের মন্দির ভাঙা বিষয়ে আপনাদের কী অবস্থান?

উত্তর: পবিত্র ইসলামের বিধান হচ্ছে, মুসলমান সমাজে অন্য ধর্মের লোকদের জানমালের নিরাপত্তার দায়িত্ব মুসলমানদের উপর বর্তায়। সংখ্যালঘুদের উপর যেকোন হামলা জঘন্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত। এটা অবশ্যই একটি শাস্তি যোগ্য অপরাধ। যে এই অপরাধে জড়িত থাকুকনা কেন প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে রাষ্ট্রকে। আমরা দাবি করছি সম্প্রতি যেসব ঘটনা ঘটেছে তার প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।

Advertisements

আলোচনা

কোন মন্তব্য নেই এখনও

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

হেফাজতে ইসলামের খবর

https://banglargangai.wordpress.com/wp-admin/widgets.php#available-widgets

ফরহাদ মজহারের কলাম

Join 253 other followers