এখন পড়ছেন
খবর

২৭ এপ্রিল হেফাজতও সমাবেশ করবে

হেফাজতে ইসলামের তের দফার চার নাম্বার দাবিটির প্রতিবাদে ঢাকায় সমাবেশ ডেকেছে বেশ ক’টি নারী সংগঠন। সমাবেশটি ২৭ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। এই সমাবেশে গার্মেন্টস ও এনজিও কর্মীদের জড়ো করার চেষ্টা করছে সংগঠকরা। একই দিনে পৃথক স্থানে সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম।

হেফাজতে ইসলামের তের দফার চার নাম্বারটি নারী সম্পর্কিত। এটি নিয়ে সরকার সমর্থিত বিভিন্ন সংগঠন প্রচারণা চালাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে দাবিটির ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে হেফাজতের পক্ষ ধেকে। দাবিটি হলো: দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য নারী জাতির সার্বিক উন্নতির বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যে তাদের নিরাপদ পরিবেশে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মস্থল, সম্মানজনক জীবিকা এবং কর্মজীবি নারীদের ন্যায্য পারিশ্রমিকের ব্যবস্থা করতে হবে। ঘরে-বাইরে ও কর্মস্থলে নারীদের ইজ্জত-আব্রু ও যৌন হয়রানী থেকে বেঁচে থাকার সহায়ক হিসেবে পোষাক ও বেশভূষায় শালীনতা প্রকাশ ও হিজাব পালনে উদ্বুব্ধকরণসহ সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এবং একই লক্ষ্যে নারী-পুরুষের সকল প্রকার বেহায়াপনা, অনাচার, ব্যভিচার, প্রকাশ্যে অবাধ ও অশালীন মেলামেশা, নারী-নির্যাতন, যৌন হয়রানী, নারীর বিরুদ্ধে সর্বপ্রকার সহিংসতা, যৌতুকপ্রথাসহ যাবতীয় নারী নিবর্তনমূলক ব্যবস্থা কঠোর হাতে দমন করতে হবে।

হেফাজত দাবিটি ব্যাখ্যা করছে এভাবে: তথাকথিত গণজাগরণ মঞ্চের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নাস্তিক্যবাদি ব্লগাররা শুধু আল্লাহ, রাসূল, ইসলাম ও মুসলমানদের নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করেই থামেনি। সাথে সাথে আবহমান বাংলার রক্ষণশীল সামাজিক অনুশাসন এবং সংস্কৃতির উপরও আঘাত করে অনেক কর্মকান্ড ইতিমধ্যেই করে ফেলেছে। বিয়ে বহির্ভুত ও ঘনিষ্ঠ অনাত্মীয় নারী-পুরুষের দৃষ্টিকটু বিচরণ ও রাস্তায় একঙ্গে; এমন কি একই তাবুতে অবস্থান করে রাত্রি যাপনের মত অনৈসলামিক, অনৈতিক, অসামাজিক ও এদেশের আবহমান কৃষ্টিকালচার সংস্কৃতি বিরোধী কাজ প্রকাশ্যে ঘটছে শাহবাগে। ধর্মীয় অনুভূতি ছাড়াও যা পারিবারিক, সামজিক এবং জাতীয় সাংস্কৃতিক দৃষ্টিতেও কখনো গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

এতে আরো বলা হয়, শাহবাগে যে কালচারের চর্চা চলেছে ও চলছে, তা দেশে চালু হলে নারীদের নিরাপত্তা সর্বক্ষেত্রেই বিঘ্ন হবে। দেশের নারী সমাজকে ইভটিজিং, ধর্ষণ ও যৌনহয়নারী থেকে বাঁচিয়ে রেখে সর্বোপরি নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই উপরোক্ত কর্মকান্ড বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। ইসলাম নারীর মর্যাদা, নিরাপত্তা এবং যৌনহয়নারী থেকে বেঁচে থাকার জন্য হিজাব প্রথা বাধ্যতামূলক করেছে এবং পুরুষদেরকেও বৈধ সম্পর্কের বাইরে নারীদের সাথে দৃষ্টিঅবনত রেখে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে চলাচল করতে বলে চমৎকার ভারসাম্য রক্ষা করেছে। কাজেই হিজাব পালন করে, অথবা যৌন উদ্দীপনা তৈরী করে না- এমন শোভনীয় পোষাক পরে নারীরা নিরাপদ কর্মক্ষেত্রে কাজ করতে বা ঘর থেকে বের হতে তো কোন বাধা নেই। ইসলাম নারীর নিরাপত্তার দিকটা কঠোরভাবে দেখে। কেবল সুযোগসন্ধানীরাই এটাকে নারী অবদমন বলে অপপ্রচার চালায়। আমাদের কথা পরিস্কার যে, হিজাব বা শালীনতার সাথে নারীদের নিরাপদ পথচলাচল, শিক্ষার্জন ও কর্মক্ষেত্রে যেতে কোন বাধা নেই। উদাহরণতঃ নারীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার জন্য আলাদা বালিকা বিদ্যালয় বা মহিলা কলেজ থাকতে পারলে আলাদা কর্মক্ষেত্র প্রতিষ্ঠার দাবীতে আপত্তি তোলার যুক্তি থাকতে পারে না।

এদিকে সমাবেশকে কেন্দ্রকে গার্মেন্টেস ও এনজিও কর্তাদের সরকারীভাবে বলা হয়েছে তারা যেন জনবল নিয়ে আসে। ইতিমধ্যে চার লাখ কর্মীকে সমাবেশে অংশগ্রহনের সুযোগ দিয়ে বিতর্কিত বিজিএমইএ ভবন না ভাঙ্গার শর্তটিও গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। জানা গেছে এনজিওদেরও একই নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যদিও নারী সংগঠনগুরো দাবি করছে ১৪ দলের সমর্থন থাকলেও নারী সমাবেশের সঙ্গে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কোনো সম্পৃক্ততা নেই । আগামী ২৭ এপ্রিল বিকাল ৩টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে কদম ফোয়ারায় সমাবেশের মূলমঞ্চ স্থাপন করা হবে।

সমাবেশ প্রসঙ্গে নারীনেত্রী খুশি কবীর বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আমরা সমাবেশে লাখের মতো নারীর অংশগ্রহণ আশা করলেও এ সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। তবে সমাবেশে অংশগ্রহণের জন্য নারীদের বাস-ট্রাকে করে নিয়ে আসা হবে না। তারা স্বেচ্ছায় আসবেন এবং আরেক নারীকেও নিয়ে আসবেন বলে বিশ্বাস।’

আরও বলেন, কোনো শোডাউনের জন্য নয়, বরং নিজেদের নিরাপত্তা ও হেফাজতে ইসলামের নারীদের নিয়ে অপব্যাখ্যার প্রতিবাদে এ সমাবেশ করছি।’

গার্মেন্ট শ্রমিক ঐক্য ফোরামের সভাপতি মোশরেফা মিশু বলেন, ‘আমরা গার্মেন্ট মালিকদের ২৭ এপ্রিল একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কর্মবিরতির কথা বলেছি। আমরা আশা করি ৪০ লাখ শ্রমিকের মধ্যে যদি প্রতি কারখানা থেকে ১০০ জন করে নারীশ্রমিক ২ ঘণ্টার জন্য সমাবেশে যোগ দেন তবে কাজের তেমন ক্ষতি হবে না।

গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ধানমন্ডির কার্যালয়ে ১৪ দলের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় নারীনেত্রীরা নারী সমাবেশের তথ্য জানান। সমাবেশে দেশের ৮০টি নারী সংগঠন একাত্মতা প্রকাশ করেছে।

এদিকে একই দিনে ঢাকায় পাল্টা সমাবেশ ডেকেছে হেফাজতে ইসলাম। এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে লালবাগে। মূলত: ১৩ দফা দাবি নিয়ে নানা অপপ্রচার, বিভ্রান্তি ও ৫ মে ঢাকা অবরোধ কর্মসূচিতে সরকার বাধা দেওয়ার অভিযোগে এই সমাবেশের ডাক দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম।

Advertisements

আলোচনা

কোন মন্তব্য নেই এখনও

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

হেফাজতে ইসলামের খবর

https://banglargangai.wordpress.com/wp-admin/widgets.php#available-widgets

ফরহাদ মজহারের কলাম

Join 253 other followers