এখন পড়ছেন
খবর

গার্মেন্টসকর্মী দিয়ে হেফাজতে ইসলামকে ঠেকাতে চায় সরকার

hiহেফাজতে ইসলামকে প্রতিহত করতে তৈরী পোশাক শিল্পমালিকদের শরণাপন্ন হয়েছে সরকার। অভিযোগ উঠেছে, আগামী ২৭ এপ্রিলের নারী মহাসমাবেশে চার লাখ কর্মী সরবরাহের শর্তে আদালত কর্তৃক অবৈধ ঘোষিত বিজিএমইএ ভবন রক্ষার প্রতিশ্রুতিও দেয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। হেফাজতের ১৩ দফার বিরুদ্ধে নারীদের ব্যাপক এ শোডাউনের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর ওপর। এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম বলেছেন, আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমেই বিজিএমইএ ভবন রক্ষা করা হবে।

বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা দাবির বিরুদ্ধে নারীসমাজকে ক্ষেপিয়ে তুলতে ব্যাপক কর্মসূচি নিয়েছে সরকার। ২৭ এপ্রিল প্রতিবাদী নারীসমাজ অথবা নারীমঞ্চের ব্যানারে রাজধানীর শাপলা চত্বরে অনুষ্ঠিত হবে পাল্টা এ মহাসমাবেশ। ৫ মে হেফাজতে ইসলামের ঢাকা অবরোধ কর্মসূচির আগেই পাল্টা কর্মসূচি পালনে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে গত বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের সাথে সমাবেশের উদ্যোক্তা নারীদের একটি মতবিনিময় সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাঁচ লাখ নারীর এ মহাসমাবেশের লক্ষ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে পোশাক শ্রমিক ও এনজিওকর্মীদের প্রতি। এ জন্য পাঁচ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, নারী সমাবেশ সফল করার জন্য সপ্তাহের শেষের দিকে শ্রমমন্ত্রী রাজিউদ্দিন রাজুর কক্ষে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দীন খান আলমগীর, নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুন্নুজান সুফিয়ান, পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক প্রমুখ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশ সফল করতে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবীর নানকের বিশেষ সহযোগিতা চাওয়া হয় ওই বৈঠক থেকে। চার লাখ কর্মী হাজির করার দায়িত্ব দেয়া হয় বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম ও বিকেএমইএ সভাপতি নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত ওসমান পরিবারের সদস্য এ কে এম সেলিম ওসমানকে।

সূত্র মতে, ২৭ এপ্রিলের সমাবেশে নারীশ্রমিক সরবরাহের ওপর বিজিএমইএ ভবন ভাঙার বিষয়টি নির্ভর করছে বলেও জানিয়ে দেয়া হয় দুই ব্যবসায়ী নেতাকে। পোশাকশিল্পে কর্মরত ৩৫ লাখ শ্রমিকের ৩০ লাখই নারী- স্মরণ করিয়ে দিয়ে তাদের বলা হয়, বিজিএমইএ-বিকেএমইএ নেতারা চাইলে ঢাকা শহর, এর আশপাশ, সাভার, আশুলিয়া, টঙ্গী, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ এলাকা থেকে পাঁচ লাখ নারীশ্রমিক জড়ো করা তেমন কঠিন কিছু নয়। বিজিএমইএ ভবন ভাঙা ও পোশাকশিল্পের জন্য বিভিন্ন প্রণোদনা দেয়ার লক্ষ্যে গঠিত মন্ত্রিসভা কমিটিও বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে বলেও জানিয়ে দেয়া হয় উদ্যোক্তা নেতাদের।

তবে বিজিএমইএ ভবন রক্ষায় সরকারের সাথে শ্রমিক সরবরাহের সমঝোতার কথা অস্বীকার করে বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম বলেছেন, সরকারের দু’জন সাবেক ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এ ভবন তৈরির সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত। আইনগত দিক রক্ষা করেই বিজিএমইএ ভবন তৈরি করা হয়েছে। দেশের সম্ভাবনাময় তৈরী পোশাকশিল্পের স্বার্থে এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এ ভবন রক্ষা করা হবে। এর সাথে নারী সমাবেশের কোনো সম্পর্ক নেই। যদিও গতকাল শুক্রবার দুপুরেও আদালতের রায় ও জনগণের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে বিজিএমইএ ভবন ভেঙে দেয়ার দাবিতে শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে সমাবেশ করেছে নাগরিক সংহতি।

সুত্র: নয়া দিগন্ত।

Advertisements

আলোচনা

কোন মন্তব্য নেই এখনও

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

হেফাজতে ইসলামের খবর

https://banglargangai.wordpress.com/wp-admin/widgets.php#available-widgets

ফরহাদ মজহারের কলাম

Join 253 other followers