এখন পড়ছেন
খবর

খুলনায় হেফাজতের মহাসমাবেশে জনতার ঢল

6488_1হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির আল্লামা নুর হোসাইন কাসেমী বলেছেন, ইমান ও স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ১৩ দফা দাবি। এটি রাজনৈতিক দাবি নয়।

এ সময় ৩০ এপ্রিলের মধ্যে ১৩ দফা মানা না হলে ৫ মে ঢাকা অবরোধ কর্মসূচিতে খুলনাবাসীকে অংশ নেয়ার আহবান জানান তিনি। শনিবার বিকেলে খুলনার ডাকবাংলা মোড়ে শানে রেসালাত বিভাগীয় মহা সম্মেলনে প্রধান অতিথির ভাষণে আল্লামা কাসেমী এই আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, কারাগারে আটক সকল বন্দির পাশাপাশি আমার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে মুক্তি দিতে হবে। তার ওপর জুলুম-নির্যাতন তৌহিদী জনতা সহ্য করবে না।

হেফাজতের কেন্দ্রীয় এই নেতা বলেন, ‘ইসলাম রক্ষার এ আন্দোলনে প্রয়োজনে আমরা শাহাদাৎ বরণ করবো। ১৩ দফা বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমরা পিছপা হবো না।’

মহাসমাবেশে হেফাজত নেতারা বলেন, ৫ মে’র মধ্যে ১৩ দফা মানা না হলে এক দফার আন্দোলন শুরু হবে। প্রয়োজন হলে সরকারকে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। ৩০ এপ্রিলের আগে নাস্তিক মুরতাদদের গ্রেপ্তার করে সরকারকে ইমানি দায়িত্ব পালন করতে হবে। অন্যথায় প্রমাণিত হবে তারা নাস্তিকদের সহায়তা করছে।

এ সময়ের মধ্যে শাহবাগের কর্মকাণ্ড বন্ধেরও দাবি জানিয়ে তারা বলেন, আগামী নির্বাচনে কাউকে ক্ষমতায় যেতে হলে অবশ্যই তাকে ১৩ দফা মানতে হবে। অন্যথায় দেশের ১৬ কোটি মানুষ সে দলকে রায় দেবে না।

সংগঠনের জেলা আমির হাফেজ মাওলানা মুশতাক আহমেদের সভাপতিত্ব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, সাবেক মন্ত্রী মাওলানা মো. ইসহাক, সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মুফতি মো. ওয়াক্কাস, হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতা মুফতি মো. ফয়জুল্লাহ, উপদেষ্টা অধ্যক্ষ মাওলানা হাবিবুর রহমান, মাওলানা মুজিবর রহমান হাবিবী, মুফতি সাখাওয়াত হুসাইন, মুফতি হাবিবুল্লাহ কাসেমী, মাওলানা মুনীর আহম্মদ, মুফতি ফখরুল ইসলাম, মাওলানা জালাল উদ্দিন, মাওলানা মুজিবর রহমান পেশওয়ারী, মুক্তিযোদ্ধা হুমায়ুন কবীর, মাওলানা মামুনুল হক, মাওলানা আবদুল হক কাওসারী, মাওলানা আহম্মদ আলী কাসেমী, মাওলানা আতিউল্লাহ আরমান প্রমুখ।

হেফাজতের মহাসমাবেশে মানুষের ঢল, বাধার অভিযোগ
খুলনায় হেফাজতে ইসলামের বিভাগীয় মহাসমাবেশ ডাকবাংলো চত্বরে শনিবার ফজর নামাযের পরে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শুরু হয়। তবে সম্মেলন আনুষ্ঠানিকভাবে সকাল ১০টায় শুরু হয়।

খুলনা বিভাগের ১০ জেলার হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা মাথায় জাতীয় পতাকা, কালেমা খচিত এবং নাস্তিক ব্লগারদের ফাঁসি চাই সংবলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে মহাসমাবেশে অংশ নেন।

দুপুর ১২টার মধ্যেই ডাকবাংলো চত্বরসহ আশপাশের সড়ক-মহাসড়কে মানুষের ঢল নামে। সকাল ১০টার মধ্যেই ভরে যায় সমাবেশ চত্বর। খণ্ড খণ্ড মিছিল সহকারে আরও মানুষ সমাবেশস্থলে আসে। বেলা যতই বাড়ে সমাবেশ স্থলে জনসমাগম ততই বাড়ে।

এ সময় মঞ্চ থেকে খুলনা জেলা হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাওলানা জিহাদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, সরকার পেটোয়া পুলিশ বাহিনী দিয়ে হেফাজতের নেতাকর্মীদের সমাবেশে আসতে বিভিন্ন স্থানে বাধা সৃষ্টি করছে।

তিনি জানান, সাতক্ষীরার শ্যামনগর, কলারোয়া, বাগেরহাটের মোল্লাহাট, খুলনার ডুমুরিয়া ও কয়রা এলাকায় গাড়ি আটকে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শ্যামনগর উপজেলা হেফাজতের তিন নেতাকে পুলিশ আটক করেছে।

জিহাদুল ইসলাম আরও বলেন, ‘খুলনা শহরের প্রবেশদ্বার রূপসা ও দিঘলিয়া ঘাটের নদী পারাপার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ ঘোষণার পর সমাবেশস্থলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।’

হেফাজতের বিভাগীয় মহাসমাবেশকে ঘিরে নিরাপত্তার বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে খুলনা মহানগর পুলিশ (কেএমপি)। এদিকে, হেফাজতের নেতাকর্মীদের খাবার পরিবেশনের জন্য বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান শুকনো খাবার ও পানি নিয়ে আসে।

হেফাজতের সমাবেশে চারজনের ফাঁসির দাবি
খুলনার ডাকবাংলা মোড়ে অনুষ্ঠিত হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে চার জনের ফাঁসির দাবিতে প্লাকার্ড টানানো হয়েছে। সমাবেশে বক্তারা, মুসলমানদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনো বন্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে জাতীয় সংসদে আইন পাস করার দাবি জানিয়েছে।

যাদের ফাঁসির দাবি সম্বলিত ছবিসহ প্লাকার্ড টানানো হয়েছে তারা হচ্ছেন- ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির (ঘাদানিক) নির্বাহী সভাপতি শাহরিয়ার কবির, মুসতাসির মামুন, নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু ও ডা. ইমরান এইচ সরকার।

হেফাজতের মহাসমাবেশে বিএনপির সংহতি প্রকাশ
ডাকবাংলা মোড়ে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের শানে রেসালাত মহাসম্মেলনে বিএনপির পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদল সংহতি প্রকাশ করে। বিকেল সাড়ে ৪টায় সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মুফতি মো: ওয়াক্কাসের বক্তৃতা চলাকালে বিএনপির পক্ষ থেকে সংহতি প্রকাশ করতে সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জুর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল মঞ্চে আসন নেন।

প্রতিনিধিদলে অন্যান্য সদস্যরা হচ্ছেন- দলের নগর শাখার সহ-সভাপতি সাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক ফকরুল ইসলাম এবং সেকেন্দার জাফর উল্লাহ খান সাচ্চু।

প্রথম তিন ঘন্টার সমাবেশে ৩২ বক্তা
নাস্তিক-মুরতাদদের সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকর করাসহ ১৩ দফা দাবি আদায়ের লক্ষে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশের প্রথম দফা শেষ হয় ৩২ জন বক্তার বক্তৃতার মাধ্যমে। সকাল ১০টায় শুরু হয়ে শেষ হয় দুপুর ১টায়।

সমাবেশের শুরুতে উপসি’ত তৌহদী জনতার মধ্যে বোতলজাত পানি, শুকনো খাবার সরবরাহ করা হয়। ডাকবাংলা চত্বর থেকে বাবরী চত্বর পর্যন্ত দুই হাজার স্বেচ্ছাসেবক শান্তি-শৃঙ্খলা ও খাবার পরিবেশনের দায়িত্ব পালন করে।

ড্যাবের চিকিৎসা শিবির
হেফাজেত ইসলামী বাংলাদেশের খুলনা জেলা শাখার বিভাগীয় মহাসম্মেলনে আগত ধর্মপ্রাণ মানুষদের চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য খুলনা ড্যাব বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করে। মূলমঞ্চের পাশে, মিনাবাজার ও শিববাড়ি মোড়ে ড্যাবের প্রতিনিধি দল চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন।

Advertisements

আলোচনা

কোন মন্তব্য নেই এখনও

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

হেফাজতে ইসলামের খবর

https://banglargangai.wordpress.com/wp-admin/widgets.php#available-widgets

ফরহাদ মজহারের কলাম

Join 253 other followers