এখন পড়ছেন
খবর

দাবি না মানলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও

দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের মুক্তি, পত্রিকাটির ছাপাখানা খুলে দেয়াসহ চার দফা দাবি সোমবারের মধ্যে মেনে নেয়া না হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও করার হুমকি দিয়েছে সাংবাদিক ও পেশাজীবীরা।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ থেকে সাংবাদিক ও পেশাজীবী নেতারা এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। সমাবেশ শেষে সাংবাদিকরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি প্রেসক্লাব থেকে তোপখানা, পল্টন মোড় ঘুরে ফের প্রেসক্লাবে এসে শেষ হয়।

তারা বলেন, কারাগারে আমরণ অনশনে মাহমুদুর রহমান গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। সরকার তার সু-চিকিৎসার ব্যবস্থা করছে না। তার কিছু হলে এর দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে। এজন্য সরকারকে কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে।

সমাবেশ থেকে চার দফা দাবিতে আগামীকাল শুক্র ও শনিবার প্রেসক্লাবের সামনে প্রকৌশলীসহ পেশাজীবীদের সমাবেশ এবং সোমবার ১১টায় বিএফইউজে ও ডিইউজের উদ্যোগে মহাসমাবেশসহ লাগাতার কর্মসূচির ঘোষণা দেয়া হয়।

সোমবারের মধ্যে এসব দাবি মেনে না নেয়া হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও করারও হুঁশিয়ারি দেন সাংবাদিক নেতারা।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে/একাংশ) সভাপতি রুহুল আমিন গাজী বলেন, ‘মাহমুদুর রহমানের গ্রেপ্তারের পর আট দিন ধরে আমরা আন্দোলন করছি। সরকারকে বারবার অনুরোধ জানিয়েছি তাকে মুক্তি দেয়ার জন্য। কিন্তু সরকারের কানে আমাদের কথা পৌঁছেনি।’

তিনি বলেন, মাহমুদুর রহমান তার বৃদ্ধা মায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, আমার দেশ প্রেস খুলে দেয়া ও গ্রেপ্তারকৃত প্রেসের ১৯ কর্মচারীর মুক্তিসহ তিন দফা দাবিতে কারাগারে আমরণ অনশন করছেন। আমরা তার সঙ্গে আরও একদফা দাবি জানাচ্ছি- অবিলম্বে মাহমুদুর রহমানকে মুক্তি দেয়া হোক।

মাহমুদুর রহমানের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক উল্লেখ করে রুহুল আমিন গাজী বলেন, তিনি মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা না হলে তিনি মারাও যেতে পারেন।

সমাবেশ থেনে আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা দিয়ে তিনি আগামী সোমবারের মধ্যে মাহমুদুর রহমানকে মুক্তি ও আমার দেশের ছাপাখানা খুলে দেয়ার আহ্বান জানান। অন্যথায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও করারও হুঁশিয়ারি দেন এই সাংবাদিক নেতা।
 
বিএফইউজের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এম আবদুল্লাহ বলেন, মাহমুদুর রহমান যে তিন দফায় কারাগারে আমরণ অনশন করছেন তার মধ্যে তার নিজের মুক্তির কোনো দাবি নেই। এর মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে তিনি নিজের জন্য কোনো কিছু করছেন না। গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্যই তিনি কারাগারের প্রকোষ্ঠেও আন্দোলন করছেন।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে/একাংশ) সাধারণ সম্পাদক মুহম্মদ বাকের হোসাইন বলেন, দেশের মানুষ আজ তাদের মৌলিক অধিকারগুলো পাচ্ছে না। সেসব কথা জনগণকে জানানোর কারণেই সরকার মাহমুদুর রহমানকে গ্রেপ্তার ও আমার দেশ ছাপাখানা তালা লাগিয়ে দিয়েছে।

তিনি বলেন, মাহমুদুর রহমানকে সামনে নিয়ে দেশের মানুষ আজকে জেগে উঠেছে। সুতরাং আজ এমন আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে যাতে সরকার গণমাধ্যমের ওপর আর হামলা ও কোনো সম্পাদককে গ্রেপ্তার করতে না পারে।
 
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান বলেন, সরকারের কর্মকাণ্ডের কারণে গোটা দেশ আজ সাধারণ মানুষ আর আওয়ামী লীগ এই দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।

ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক আজিজুল হক বলেন, মাহমুদুর রহমান যেসব দাবিতে আমরণ অনশন করছেন সরকারের উচিত সে দাবি মেনে নিয়ে তাকে মুক্তি দেয়া। মাহমুদুর রহমানের কোনো ক্ষতি করলে এজন্য শেখ হাসিনাকে কঠিণ পরিণতি বরণ করতে হবে।

শিক্ষক-কর্মচারী ঐকজোটের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ সেলিম ভুইয়া বলেন, আজকে ইনু মার্কা যেসব মন্ত্রীরা আস্ফালন করছেন, সরকার পরিবর্তন হলে তাদের কেউ ছাড় পাবেন না।

আমার দেশের সিনিয়র সহকারী সম্পাদক কবি ও সাংবাদিক আবদুল হাই শিকদার বলেন, এ সরকারের কাছে সোজা আঙ্গুলের ঘি উঠবে না। গণআন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

মাহমুদুর রহমানের ১০ বছরের সাজা হওয়া উচিত-টকশোতে তথ্যমন্ত্রীর এমন মন্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, একমাঘে শীত যায় না। মাহমুদুর রহমানের কিছু হলে আপনাদেরকেও ছাড় দেয়া হবে না।

জাতীয় প্রেসক্লাবের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কাদের গণি চৌধুরী বলেন, এ সরকারের আমলে একের পর এক গণমাধ্যম গলা টিপে হত্যা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে আমার দেশ ছাড়াও বন্ধ করা হয়েছে চ্যানেল ওয়ান, সিএসবি চ্যানেল, সপ্তাহিক শীর্ষ নিউজ ও শীর্ষ নিউজ ডটকমসহ আরও বেশ কয়েকটি গণমাধ্যম।

এতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- বিএফইউজে সাবেক সহ-সভাপতি আমিরুল ইসলাম কাগজী, অ্যাব নেতা রিয়াজুল ইসলাম রিজু, ড্যাবের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, দৈনিক ইনকিলাবের সিনিয়র সহকারী সম্পাদক আবদুল আউয়াল ঠাকুর, শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের অতিরিক্ত মহাসচিব জাকির হোসেন, ডিইউজে আমার দেশ ইউনিট প্রধান বাছির জামাল, সংগ্রাম ইউনিট প্রধান শহিদুল ইসলাম, কবি জাহাঙ্গীর ফিরোজ, স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মো. রহমতুল্লাহ প্রমুখ। সমাবেশ পরিচালনা করেন ডিইউজের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান।

Advertisements

আলোচনা

কোন মন্তব্য নেই এখনও

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

হেফাজতে ইসলামের খবর

https://banglargangai.wordpress.com/wp-admin/widgets.php#available-widgets

ফরহাদ মজহারের কলাম

Join 253 other followers