এখন পড়ছেন
খবর, মামলা

কেমন আছেন রাজনৈতিক বন্দীরা

ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে আছেন কারাগারে আটক সরকারবিরোধী রাজবন্দীরা। তাদের বেশির ভাগই অসুস্থ হয়ে পড়লেও কারা কর্তৃপক্ষের বৈরিতার কারণে তারা মৌলিক চিকিৎসাটুকুও পাচ্ছেন না। এমনকি তাদের অসুস্থতার খবর পরিবার-পরিজনকেও জানতে দেয়া হচ্ছে না। অনেককেই তাদের স্বজনদের সাথে নিয়মমাফিক দেখাসাক্ষাৎ করার সুযোগও কমিয়ে দেয়া হয়েছে। বন্দীদের অনেকেই ন্যায্য খাবার, ঘুমের জায়গা ও নিয়মিত গোসলের সুযোগ পাচ্ছেন না। সব মিলিয়ে চরম অমানবিক অবস্থায় রাজবন্দীরা কারাগারে দুর্বিষহ দিনাতিপাত করছেন।

সারা দেশে পুলিশের গণহারে ধরপাকড়ের কারণে দেশের ৬৮টি কারাগারে এখন তিল ধারণের ঠাঁই নেই।  বন্দী ধারণক্ষমতা ৩০ হাজার হলেও বর্তমানে সেখানে চার গুণ বেশি বন্দী অবস্থান করছেন। প্রতিদিনই বাড়ছে বন্দীর সংখ্যা। ঢাকার বাইরেও চলছে একই পরিস্থিতি। সর্বত্রই লঙ্ঘিত হচ্ছে মানবাধিকার। স্থান সংকুলান না হওয়ায় আসামিদের কেউ কেউ থাকছেন খোলা আকাশের নিচে, বাথরুমের পাশে, আবার কাউকে কাউকে রাত কাটাতে হচ্ছে আরেকজনের ওপর পা তুলে। তা-ও আবার পালা করে।

শুধু যে ঘুমের কষ্ট হচ্ছে তা নয়, সাধারণ বন্দীদের খাবারেও দেয়া হচ্ছে কষ্ট। এ অবস্থায় আটক পুরুষ, নারী এবং তাদের সাথে থাকা শিশুরা নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে। তবে যাদের সামর্থ্য রয়েছে তারা অর্থের বিনিময়ে চিকিৎসার সুবিধা পেলেও সাধারণ বন্দীরা রয়েছেন চরম বেকায়দায়। অসুস্থতায় কারা ডাক্তারের কাছে গিয়ে সমস্যার কথা জানালে ডাক্তার যেকোনো রোগের জন্য শুধু প্যারাসিটামল জাতীয় ২-৩টি করে ট্যাবলেট ধরিয়ে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এ দিকে কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি সেন্ট্রাল কারাগারটি ফাঁসির আসামি, জঙ্গি ও শীর্ষ সন্ত্রাসীদের রাখার জন্য তৈরি করা হলেও এখন ওই কারাগারে ভিআইপি ও দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের রাখা হচ্ছে। আরো অভিযোগ রয়েছে, বেশ কিছু কারাগার থেকে বন্দীরা জামিনে মুক্তি পেলেও তাদের কাছ থেকে কারাগারের গেটে ভয়ভীতি দেখিয়ে কারা কর্মকর্তাদের যোগসাজশে পুলিশ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। যারা দিতে পারছে না তাদেরকেই নতুন- পুরাতন মামলায় ফাঁসিয়ে কারাগারের গেট থেকে আবার গ্রেফতার করে নিয়ে যাচ্ছে। এসব ঘটনা নিয়ে রহস্যজনক কারণে মানবাধিকার সংগঠনগুলো নীরব ভূমিকা পালন করছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন শুধু ঢাকার থানাগুলো থেকে সহস্রাধিক সন্দেহজনক আসামি গ্রেফতার করে গাড়ি ভাঙচুর, বোমা হামলা, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, ধর্ষণ, অপহরণ ও খুনের মামলার আসামি করা হচ্ছে। তার ওপর সম্প্রতি যোগ হয়েছে জামায়াত-শিবির বানানোর কুটিল খেলা। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে বিরোধীদলীয় রাজনৈতিক নেতা ও সাধারণ মানুষের সংখ্যাই বেশি। রাজনৈতিক নেতাদের অনেককে পুলিশ রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতনেরও অভিযোগ রয়েছে।

কারা অধিদফতর থেকে দাবি করা হয়েছে, বর্তমানে দেশের ৬৮ কারাগারে ৭৫ থেকে ৮০ হাজার বন্দী রয়েছে। কিন্তু বাস্তব চিত্র একেবারে ভিন্ন। সূত্র মতে, শুধু ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারেই এখন রয়েছে ১০ হাজারের বেশি বন্দী। গত ফেব্রুয়ারি মাসে কারাগারে টাঙানো তালিকা অনুযায়ী বন্দীর সংখ্যা ছিল ৯০ হাজারের মতো (অগমন-নির্গমন মিলে)। বন্দীর চাপ বৃদ্ধির কারণে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারা কর্তৃপক্ষ রাজবন্দীসহ বহু বন্দীকে অন্য কারাগারে স্থানান্তর করছে। জানা গেছে, কারাগারে স্থান সঙ্কুলান না হওয়ায় চারটি সরকারি স্কুলকে অস্থায়ী কারাগার বানানোর পরিকল্পনা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের এক ডেপুটি জেলার জানান, প্রতিদিন গড়ে ৩০০-৪০০ বন্দী আদালত থেকে কারাগারে আসছে। এর মধ্যে দু’তিনজন রাজবন্দী ছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সব নেতাকর্মীকেই কাশিমপুর কারাগার-১, ২, ৩, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সম্প্রতি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়া মহিবুর রহমান, থানাহাজত, আদালতের গারদখানা ও কারাগারের অভ্যন্তরে দেড় মাস কিভাবে নির্মমভাবে দিন কাটাতে হয়েছে তার বর্ণনা দিতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন। তিনি বলেন, আমি কোনো রাজনীতি করি না। তবুও জীবনের বিভীষিকাময় সময় আমাকে কাটাতে হয়েছে। তিনি বলেন, মনিহার সেলে যাওয়ার আগে আমদানিতে এক রাত আমাকে থাকতে হয়েছে। সেখানেই কয়েদির কাছে এক হাজার টাকায় প্যাকেজ ইনফরমেশন কিনতে হয়েছে। আমদানি সেলে যাওয়ার পর যে কষ্ট তা প্রথম রাতেই টের পেয়েছি। এরপর যে কেউ ভালো থাকার জন্য সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগ করে। পরে তাকে জানানো হয় এক সপ্তাহের প্যাকেজের কথা। এই প্যাকেজের জন্য তাকে দিতে হবে সাড়ে তিন হাজার টাকা। কয়েদিদের কথামতো সাড়ে তিন হাজার টাকায় রাজি হলে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় মনিহার সেলে। যে সেলে কোনো সুস্থ স্বাভাবিক লোক থাকতে পারে না। রাতে ঘুমাতে হয় এক পা তুলে। তাও আবার পালা করে। এক সপ্তাহ তাকে খাবার দেয়া হয়েছে দুপুরে শুধু ভাত আর আলুভর্তা। নামাজ পড়তে চাইলে টাকা দাবি করে কারারক্ষীরা। বলা হয়, তুই হইলি গিয়া অপরাধী। তোর আবার নামাজ কিসের? ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের মতো দেশের ১৩টি কেন্দ্রীয় কারাগার ও ৫৫টি জেলা কারাগারের মধ্যে বেশির ভাগ বন্দীদের ওপর এমন কমবেশি অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন। এর আগে থানা হাজতে মারধর থেকে বাঁচতে নগদ টাকা আর গারদ ঘরের গরমে অসুস্থ হওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, কারাগারে আমার মতো অনেকেই অসুস্থ। অনেকের চিকিৎসা হচ্ছে না। আর যারা চিকিৎসার সুযোগ পাচ্ছে তাদের জ্বর, মাথা ব্যথা, পাতলা পায়খানাসহ যেকোনো রোগের জন্য দু-তিনটি করে প্যারাসিটামল ট্যাবলেট দিয়ে বিদায় করছে।

বর্তমানে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার, কাশিমপুর কারাগার পার্ট-১ ও পার্ট-২ এবং হাই সিকিউরিটি সেন্ট্রাল কারাগার, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন কারাগারে বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা বন্দী রয়েছেন। এর মধ্যে কাশিমপুর কারাগার পার্ট-২-এ রয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আবদুল্লাহ আল নোমান, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, জয়নুল আবদিন ফারুক, গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, সংসদ সদস্য গোলাম মর্তুজা এবং জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতারা। কারাগারে অন্য সমস্যার সাথে রয়েছে লোডশেডিং। এতে গরমে সবাই অতিষ্ঠ। আর হাই সিকিউরিটি সেন্ট্রাল কারাগার তৈরি করা হয়েছিল মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি, টপটেরর, জঙ্গি, হিজবুত তাহরীর ও যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের জন্য। কিন্তু এ কারাগারে সাবেক সংসদ সদস্য নাসিরউদ্দিন আহম্মেদ পিন্টু, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, বরকতউল্লাহ বুলু ও জামায়াত-শিবিরের শত শত নেতাকর্মীকে আইজি প্রিজনের নির্দেশে পাঠানো হয় বলে জানা গেছে। বর্তমানে এ কারাগারে ৫৫০ জন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি, শীর্ষ সন্ত্রাসী সুইডেন আসলাম, তাজ, অপু চাকমা, মামুন, লম্বু সেলিম, হিজবুত তাহরীর সদস্য, সেনাবাহিনীর দু’জন অফিসার, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার আসামি মুফতি হান্নান ও তার গ্রুপ এবং যাবজ্জীবন সাজা মামলার আসামিরা রয়েছেন।

এ কারাগারের একজন কর্মকর্তা নয়া দিগন্তকে বলেন, হাই সিকিউরিটি কারাগারের আসামিরা সেল থেকে মূলত বের হতে পারেন না। এখানে থাকার তেমন সমস্যা না থাকলেও বর্তমানে খাবারের মান খুবই খারাপ। আর কারাগারের ক্যান্টিনে বাইরে থেকে তিন গুণ বেশি দাম নেয়া হচ্ছে। ওই কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, এ কারাগার থেকে যারাই জামিনে বের হয়ে যাচ্ছে তাদেরকে গেটে আবার গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে তিন থেকে পাঁচ হাজার, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে।

তার দাবি, কারাগারে কমপক্ষে একশ-দেড়শ মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে বন্দীরা। তবে জামিনে মুক্তি পাওয়া আসামিদের মধ্যে যারা টাকা দিতে পারছে না তাদের সকাল বেলা জেলগেটে এনে বসিয়ে রাখা হলেও সন্ধ্যার পর লোকজন ডেকে এনে একটি চক্র টাকা আদায় করে তার পর মুক্তি দিচ্ছে। এ ঘটনার সাথে হাজতি কয়েদি শাখার ইনচার্জ মুস্তাফিজসহ একটি চক্র তৎপর বলে জানা গেছে। এসব ঘটনা জেলার দিদারুল আলম জানার পরও না দেখার ভান করছেন বলে জামিনে মুক্তি পাওয়া বন্দী ও আসামির স্বজনদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গতকাল বুধবার কারা অধিদফতরের একজন কর্মকর্তা বলেন, বর্তমানে কারাগারে বন্দীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকহারে বাড়ছে। অত্যাধিক চাপ সামলাতে প্রতি সপ্তাহে ঢাকা থেকে বন্দী অন্যান্য কারাগারে পাঠাচ্ছি। কারাগারে ডাক্তার স্বল্পতা থাকলেও যেসব ডাক্তার বর্তমানে রয়েছেন, তাদের মধ্যে কেউ কেউ রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সুস্থ রোগীকে অসুস্থ বানিয়ে কারা হাসপাতালে সিটবাণিজ্য করে চলেছেন। ওষুধ ঠিকমতো দেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেও অবহিত করা হয়েছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, যেভাবে দেশে গ্রেফতার অভিযান শুরু হয়েছে, তা চলতে থাকলে কারাগারের শৃঙ্খলা ভেঙে পড়তে পারে।

গতকাল হাই সিকিউরিটি সেন্ট্রাল কারাগারের জেলার দিদারুল আলমের সাথে বার বার যোগাযোগ করা হলেও তিনি টেলিফোন ধরেননি। কাশিমপুর কারাগার পার্ট-১-এর সিনিয়র জেল সুপার ও কারা সিকিউরিটি সেলের প্রধান জামিল আহমেদ চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি নয়া দিগন্তকে বলেন, আমি সিকিউরিটি সেলের দায়িত্বে নেই। তাই সারা দেশে কতজন বন্দী রয়েছেন তা বলতে পারব না। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বন্দীর সংখ্যা বাড়লেও প্রতিদিন বন্দী মুক্তিও পাচ্ছে। বর্তমানে কাশিমপুর কারাগার পার্ট-১-এ এক হাজার ১২ জন বন্দী আছে। সারা দেশে বন্দীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকহারে বাড়ছে- এমন প্রশ্ন করতেই তিনি টেলিফোন লাইন কেটে দেন।

মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আদিলুর রহমান খানের সাথে গতকাল যোগাযোগ করা হলে তিনি নয়া দিগন্তকে বলেন, কারাগারে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। তার চেয়ে বড় কথা, এখন তো পুরো দেশটাই কারাগারে পরিণত হয়েছে। প্রতিনিয়ত রাজনৈতিক ভিন্নমতের লোকদের কারাগারে নিক্ষেপ করা হচ্ছে। আমার দেশ সম্পাদককে গ্রেফতার করে রিমান্ডের নামে বন্দী করা হয়েছে।

গতকাল বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আইজি প্রিজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) আশরাফুল ইসলাম খানের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি টেলিফোন ধরেননি। কারাগারের এক কর্মকর্তা জানান, দেশের প্রতিটি কারাগারের সার্বিক পরিস্থিতি দেখতে প্রতি মাসে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্দেশে একটি টিম পরিদর্শন করছে। তারা কারাগারের সার্বিক পরিস্থিতি দেখে প্রতিবেদন দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট দফতরে।

হিউম্যান রাইটস ফোরামের আহ্বায়ক ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেছেন, কারাবন্দীদের শারীরিক, মানসিক ও যৌন নির্যাতনের ঘটনাও ঘটছে। কিন্তু সরকার মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি অস্বীকার করে চলেছে।

Advertisements

আলোচনা

কোন মন্তব্য নেই এখনও

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

হেফাজতে ইসলামের খবর

https://banglargangai.wordpress.com/wp-admin/widgets.php#available-widgets

ফরহাদ মজহারের কলাম

Join 253 other followers