এখন পড়ছেন
খবর

আমার দেশ প্রকাশের অনুমতি কার হাতে!

6392_1দৈনিক আমার দেশ সরকার বন্ধ করেনি, পত্রিকাটির প্রকাশনায় সরকারের পক্ষ থেকে কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। একই দিনে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর এমন বক্তব্যকে অসত্য দাবি করে এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে পত্রিকাটির সাংবাদিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

অন্যদিকে, দি প্রিন্টিং প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন (ডিক্লারেশন অ্যান্ড রেজিস্ট্রেশন) অ্যাক্ট অনুসারে বিকল্প প্রেসে পত্রিকা ছাপাতে জেলা প্রশাসককে লিখিতভাবে জানিয়েছিল পত্রিকা কর্তৃপক্ষ। বিকল্প প্রেসেও পুলিশ পত্রিকা ছাপতে বাধা দিয়েছে। এই প্রেক্ষিতে পরিষ্কার নয় আমার দেশ পত্রিকা প্রকাশনার অনুমতি কার হাতে।

তথ্যমন্ত্রী: মঙ্গলবার বিকেলে সচিবালয়ের তথ্য অধিদপ্তর (পিআইডি) মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে মন্ত্রী পত্রিকা প্রকাশে বাধা নেই বলে জানান। মন্ত্রী বলেন, পত্রিকাটি অন্য জায়গা থেকে প্রকাশ করতেও কোনো বাধা নেই। তবে এ জন্য নিয়ম মেনে আবেদন করতে হবে।

পত্রিকাটির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের গ্রেফতার প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তাকে ফৌজদারি আইনের অপরাধী হিসেবে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর সঙ্গে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার কোনো সম্পর্ক নেই।’

আমার দেশ কর্তৃপক্ষ নিজস্ব ছাপাখানা সরকার সীলগালা করে দেয়ায় ঢাকা জেলা প্রশাসনকে জানিয়ে আইন অনুসারে দৈনিক সংগ্রামের ছাপাখানায় (আল ফালাহ প্রিন্টিং প্রেস) পত্রিকাটি ছাপা হচ্ছিল। সেখান থেকে পত্রিকাটির ছাপা বন্ধ করে দিয়ে ১৯জন সংবাদকর্মীকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় পুলিশ।

তথ্যমন্ত্রী জানান, আল ফালাহ প্রেস লিখিতভাবে জানিয়েছে তারা আর আমার দেশ ছাপাবে না।

মন্ত্রী বলেন, ‘দি প্রিন্টিং প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন (ডিক্লারেশন অ্যান্ড রেজিস্ট্রেশন) অ্যাক্ট অনুযায়ী, ছাপাখানা পরিবর্তন করতে হলে আগে জেলা প্রশাসকের অনুমতির প্রয়োজন হয়। কিন্তু এখানে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মাহমুদা বেগম নামের একজনকে “আমার দেশ” পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেখিয়ে সাময়িক সময়ের জন্য আল ফালাহ প্রিন্টিং প্রেস থেকে পত্রিকাটি ছাপানো হবে মর্মে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে একটি চিঠি দেওয়া হয়। পরে জানা যায়, মাহমুদা বেগম “আমার দেশ” পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের মা। তিনি এই পত্রিকার সঙ্গে পেশাগতভাবে সম্পৃক্ত—এমন কোনো তথ্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নেই। এতে বোঝা যায়, মাহমুদুর রহমান উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাঁর মাকে ব্যবহার করেছেন। তাঁর কাছে রাজনৈতিক ও গোষ্ঠীস্বার্থ বড়।’

তথ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অসত্য: মঙ্গলবার পত্রিকাটির স্টাফ রিপোর্টার মাহাবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রতিবাদলিপিতে তথ্যমন্ত্রীর বক্তব্যকে অসত্য দাবি করে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।

তথ্যমন্ত্রী বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে পত্রিকাটির নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ বলেন, বর্তমান সরকার আইন বহির্ভুতভাবে গত ১১ এপ্রিল রাত সাড়ে ১০টায় দৈনিক আমার দেশ-এর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত ছাপাখানায় তালা দেয়। ডিসি অফিসের সার্চ ওয়ারেন্টের কথা বলে দুই ঘণ্টা তল্লাশি শেষে অধিকতর তদন্তের অজুহাতে ডিবি পুলিশের একটি দল ছাপাখানায় তালা দিয়ে চলে যায়।

এরপর বিকল্প ব্যবস্থায় আল-ফালাহ প্রিন্টিং প্রেসে আমার দেশ প্রকাশ করা হয়। প্রিন্টিং প্রেসেস অ্যান্ড পাবলিকেশন্স অ্যাক্ট (ডিক্লারেশন এন্ড রেজিষ্ট্রেশন) ১৯৭৩ অনুযায়ী পত্রিকা প্রকাশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়। সেখানে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে অভিযান চালিয়ে পত্রিকার প্রকাশিত সব কপি বাজেয়াপ্ত এবং ১৯ জন বাইন্ডারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

‘এমনকি মিথ্যা অভিযোগ এনে দৈনিক আমার দেশ-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাহমুদা বেগম ও দৈনিক সংগ্রামের সম্পাদক আবুল আসাদকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করে জেলা প্রশাসন। সরকার যে বেআইনিভাবে আমার দেশ পত্রিকা ছাপাতে দিচ্ছে না, উল্লেখিত পদক্ষেপের মাধ্যমে তা স্পষ্ট’ যোগ করে আবদাল আহমেদ।

তিনি বলেন, ‘এতোসব বেআইনি ও উদ্দেশ্যমূলক বাধা এবং হয়রানির পরেও দৈনিক আমার দেশ পত্রিকা ছাপাতে সরকারের বাধা না দেয়া সংক্রান্ত তথ্যমন্ত্রীর দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’

‘এ পরিস্থিতিতে এটা স্পষ্ট যে, সরকার সম্পূর্ণ আইন বহির্ভুতভাবে পুলিশি জবরদস্তি খাটিয়ে আমার দেশ-এর ছাপাখানা বন্ধ করে রেখেছে। অন্য ছাপাখানায় পত্রিকা ছাপানোর চেষ্টা করলে সেখানেও সরকার নানাবিধ হয়রানি করছে’ অভিযোগ করেন পত্রিকাটির নির্বাহী সম্পাদক।

প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, তথ্যমন্ত্রীর কোনো সৎ উদ্দেশ্য থাকলে অবিলম্বে আমার দেশ-এর ছাপাখানার তালা খুলে দিয়ে এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাহমুদা বেগম ও দৈনিক সংগ্রামের সম্পাদক আবুল আসাদের নামে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করাহোক।

এতে পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে মুক্তিসহ আমার দেশ-এর ওপর থেকে সব ধরনের হয়রানি বন্ধের দাবি জানায় পত্রিকাটির সাংবাদিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

দি প্রিন্টিং প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন (ডিক্লারেশন অ্যান্ড রেজিস্ট্রেশন) অ্যাক্ট: দি প্রিন্টিং প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন (ডিক্লারেশন অ্যান্ড রেজিস্ট্রেশন) অ্যাক্ট-এ ‘অনুমতি’ নেয়ার কোনো বিধান নেই। আইনের ধারা ১০-এ বলা হয়েছে, কোনো পত্রিকা নির্ধারিত ছাপাখানার বদলে অন্য কোনো ছাপাখানায় এক নাগাড়ে ৩০ দিন পর্যন্ত ছাপানো যেতে পারে- তবে এমন অন্য ছাপাখানায় ছাপানো শুরু করার পরের ৭২ ঘন্টার মধ্যে তা জেলা প্রশাসককে লিখিতভাবে ‘জানাতে’ হবে।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, পত্রিকা মালিক কোম্পানি আমার দেশ পাবলিকেশন্স লিমিটেডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও মাহমুদুর রহমানের মা মাহমুদা খাতুন অন্য ছাপাখানায় পত্রিকা ছাপানোর আগেই তা ঢাকা জেলা প্রশাসককে জানিয়েছেন। এবিষয়টি ঢাকা জেলা প্রশাসক স্বীকারও করেছেন।

Advertisements

আলোচনা

কোন মন্তব্য নেই এখনও

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

হেফাজতে ইসলামের খবর

https://banglargangai.wordpress.com/wp-admin/widgets.php#available-widgets

ফরহাদ মজহারের কলাম

Join 253 other followers