এখন পড়ছেন
খবর

সিলেটেও হেফাজতের সফল সমাবেশ

p1-15-300x185সমাবেশ বেলা ২টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও জনসমাগম আসতে শুরু করে বেলা ৯টা থেকে। কানায় কানায় পূর্ণ হয় দুপুর ১২টার মধ্যে সমাবেশস্থল সিটি পয়েন্টসহ আশপাশ এলাকা। বেলা বাড়ার সাথে সাথে বন্ধ হয়ে যায় নগরীর প্রবেশপথ কীনব্রিজ। সৃষ্টি হয় নগরজুড়ে ব্যাপক যানজট।

নাস্তিক ব্লগারদের ফাঁসি ও হেফাজতে ইসলামের ঘোষিত ১৩ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে সারা দেশে ধারাবাহিক নাতে রাসূল (স.) মহাসমাবেশের অংশ হিসেবে গতকাল শনিবার বেলা ২টায় এ সমাবেশ শুরু হয়। মহাসমাবেশে নানা ধরণের দৃশ্য দেখা গেছে। একদিকে  মঞ্চে নাস্তিক- মুরতাদদের শাস্তির দাবিতে গান গাইছেন শিল্পীরা। অন্য দিকে মঞ্চের পাশেই রাস্তার ওপর লেখা হয় নাস্তিকদের ফাঁসির দাবিতে ‘রোড পোস্টার’। একই দাবিতে বিশাল ক্যানভাসে সংগ্রহ করা হয় গণস্বাক্ষর।

হেফাজতে ইসলাম সূত্র জানায়, গতকালের সমাবেশ সামনে রেখে সিলেটসহ বিভাগের সব জেলা, উপজেলায় ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়। লিফলেট বিতরণ, গণসংযোগ, প্রচার মিছিল, ভ্রাম্যমাণ পথ সভা, মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা ও ট্রাক মিছিল হয়েছে।

সমাবেশস্থলের আশপাশে শতাধিক মাইক ব্যবহার করা হয়েছে জানিয়ে সিলেট হেফাজতে ইসলামের প্রচার কমিটির প্রধান মাওলানা জয়নাল আবেদীন জানান, নগরীর শেখঘাট পয়েন্ট, ওসমানী শিশুপার্কের সামনে ও জিন্দাবাজার পয়েন্ট পর্যন্ত এসব মাইক টাঙানো হয়।

হেফাজতে ইসলাম সিলেট শাখা আয়োজিত সিটি পয়েন্টের সমাবেশে বক্তারা বলেছেন, আলেমরা টাকায় বিক্রি হয় না, যারা আলেমদের আন্দোলন নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিচ্ছে তারা কখনো জনগণের বন্ধু হতে পারে না। তারা ইহুদি নাসারাদের চর, নাস্তিকদের মদদদাতা। তাদেরকে চিহ্নিত করতে হবে। বক্তারা বলেন, মহানবী (স.) সম্পর্কে কটূক্তিকারী সব নাস্তিক ব্লগারকে গ্রেফতার করতে হবে। বর্তমান সরকার তাদের লালন করছে অভিযোগ করে তারা বলেন, এদের লালন করে ক্ষমতায় থাকা যাবে না। অবিলম্বে পার্লামেন্টে নাস্তিক মুরতাদদের শাস্তির আইন পাস করুন, অন্যথায় তৌহিদি জনতার বুকের মধ্যে যে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে তা নিভবে না।

তারা বলেন, ১৩ দফা ঈমানের দাবি। এ দাবি উপো করে রাজনীতিতে টিকে থাকতে পারবেন না। এ দাবি সম্পর্কে নানা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে উল্লেখ করে তারা বলেন, একটি মহল নারীদের ক্ষেপিয়ে তোলার চেষ্টা করছে। তারা হেফাজতের বিরুদ্ধে রাজধানীতে নারী সমাবেশের পরিকল্পনা করছে। আমরাও রাজধানীতে পর্দানশীল নারীদের জমায়েত করে মহাজাগরণ সৃষ্টি করব।

তারা বলেন, ৬ এপ্রিল হেফাজতের লংমার্চের মহাসমাবেশ দেখে কিছু মন্ত্রীসহ অনেকের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। সে দিন সমাবেশে লোক সমাগম ঠেকাতে হরতালসহ নানা অপতৎপরতা চালানো হয়। যদি সেদিন বাধা দেয়া না হতো তা হলে দুই কোটি লোক সমাগম হতো ঢাকায়। তারা বলেন, বিদেশী প্রচারমাধ্যমে বলা হচ্ছে আল্লামা আহমদ শফীর কর্মসূচি সরকারের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছে।

হেফাজতে ইসলাম সিলেটের সভাপতি শায়খুল হাদিস মুফতি মাওলানা মুহিববুল হক গাছবাড়ীর সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ আহমদ বাবুনগরী। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ বলেছেন হেফাজতে ইসলাম নাকি লেজগুটিয়ে চলে গেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি সৈয়দ আশরাফকে উদ্দেশ করে বলেন, হেফাজত নয়, ৬ এপ্রিল লংমার্চের ঢেউয়ে লেজ গুটিয়ে চলে গেছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, শাহবাগী নাস্তিক মুরতাদ ও ঘাদানিক নেতা শাহরিয়ার কবিরের নেতৃত্বাধীন গণজাগরণ মঞ্চ।

তিনি দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে একজন আদর্শ লেখক উল্লেখ করে তার গ্রেফতারে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাকে অবিলম্বে মুক্তি দেয়া না হলে লংমার্চের মতো আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

Advertisements

আলোচনা

কোন মন্তব্য নেই এখনও

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

হেফাজতে ইসলামের খবর

https://banglargangai.wordpress.com/wp-admin/widgets.php#available-widgets

ফরহাদ মজহারের কলাম

Join 253 other followers