এখন পড়ছেন
খবর

নারী নিয়ে হেফাজতের দাবি ভুলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে – ফরহাদ মজহার

62168_secনারী নিয়ে হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা দাবিকে জনগণের সামনে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন বিশিষ্ট কবি, চিন্তাবিদ ও কলামিস্ট ফরহাদ মজহার।

তিনি বলেছেন, ‘হেফাজতের ১৩ দফায় তারা কখনই বলেনি নারীনীতি বাতিল করতে হবে। তারা বলেছে, নারীনীতিতে যেসব বিষয় নারী পুরুষের অবাধ মেলামেশার জন্য ব্যাভিচার, অনাচার সৃষ্টি করছে সেগুলো বাতিল করতে হবে।’

শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে এসব কথা বলেন ফরহাদ মজহার।

সংলাপে প্যানেল বক্তা ছিলেন- প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম মিয়া, কলামিস্ট ফরহাদ মজহার ও তথ্য কমিশনার অধ্যাপক সাদেকা হালিম। সংলাপে দেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন আলোচকরা।

হেফাজত ও নারীনীতি
‘নারীনীতি বাতিলের জন্য হেফাজতে ইসলাম যে দাবি উত্থাপন করেছে, বাংলাদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে তা কি আদৌ গ্রহণযোগ্য?’ সংলাপে অংশগ্রহণকারী দর্শক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী লাবনী খাতুনের এমন প্রশ্নের উত্তরে ফরহাদ মজহার বলেন, ‘এই নীতি ডোনারদের চাপিয়ে দেয়া নীতি। পাশ্চাত্যের প্রভাবে ব্যক্তিকেন্দ্রিক এই নারীনীতি প্রণয়ন করা হয়েছে, যা আমাদের সমাজ, সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’

তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিকেন্দ্রিক নীতি হচ্ছে যেখানে সমাজ গৌণ এবং ব্যক্তি প্রধান। এমন নীতি কখনো সমাজ গঠনে সহায়ক নয়। আজ হেফাজতে ইসলাম এই ব্যক্তিকেন্দ্রিক নারীনীতির বিরোধিতা করছে। তারা একটি ইসলামী সংগঠন, তাই তাদের দাবিও ইসলামিকভাবে আসবে। আর তাদের দাবিতে ইসলাম কথাটি জড়িত রয়েছে বলে আমাদের এতো বিরোধিতা। কিন্তু যদি সেক্যুলারের জায়গা থেকে বলা হতো ব্যক্তিকেন্দ্রিক নারী নীতি বাতিল করতে হবে, তাহলে সবাই সেটিকে সমর্থন করতাম।’

বর্তমান নারী নীতি ক্ষুদ্র শহুরে নারীদের সমর্থিত নীতি দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমরা মুখে গণতন্ত্রের কথা বলব, কিন্তু গণতন্ত্র মানব না তা হয় না। শুধুমাত্র আজ শহুরে পাশ্চাত্যনির্ভর কিছু নারীর কথামতো একটি নীতি করা যায় না। এখন যদি শহরের নারীদের বিপক্ষে গ্রামের নারীদের যারা ভিন্নমত পোষণ করেন, তাদের ভোটাভুটির সুযোগ করে দিই তাহলে বিষয়টি কেমন হবে? তারা কেন তাদের নীতি প্রণয়নে মতামত দিতে পারবে না?’

এইচ টি ইমাম বলেন, ‘বর্তমান নারীনীতি অনেক গবেষণা ও বাংলাদেশের নারীদের আলোকে ২০১১ সালে সংশোধন করে সরকার। আর তাতে দেশের মাওলানারা সমর্থন জানিয়েছেন। তাই এই নীতি নিয়ে দেশের মানুষকে কোনো প্রকার দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভোগার অবকাশ নেই।’

তিনি বলেন, আল্লামা শফীর এ দাবি মেনে নিলে দেশের তৈরি পোশাক শিল্পে নিয়োজিত ৩০ লাখ নারী বেকার হয়ে পড়বে এবং এই খাত পুরোপুরি ধ্বংস হবে।

ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, ‘অবাধ মেলামেশা ও শালীনতা কথা দুটোর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক রয়েছে। দেখতে হবে নারী নীতিমালার কোনো বিষয়গুলোর প্রয়োগের ক্ষেত্রে সংবিধান ও আইন মানা হচ্ছে না। আর হেফাজতে ইসলামের দাবি অনুযায়ী তাদের সঙ্গে কথা বলে আলোচনা করে দেখা হোক তাদের দাবি সঠিক কিনা।’

তিনি বর্তমান নারীনীতি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পুনরায় সংশোধনের আহ্বান জানান।

অধ্যাপক সাদেকা হালিম বলেন, ‘উগ্রবাদী হেফাজতে ইসলামের এ দাবি যদি মানা হয়, তাহলে বাংলাদেশের নারীরা ঘরে বন্দি হয়ে পড়বে। আর ঘরে নারীকে ঘরে বন্দি করে রাখার কোনো বিধান ইসলামে নেই।’

আমার দেশ ও মাহমুদুর রহমান
‘আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে সরকার কি ভিন্নমত প্রকাশের রাস্তা বন্ধ করে দিল?’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সালাউদ্দিন বিশ্বাসের এমন প্রশ্নে জবাবে বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, ‘কয়েক মাস বন্দি রেখে মাহমুদুর রহমানকে যেভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তা খুবই ন্যাক্কারজনক।’

তিনি বলেন, ‘ভিন্নমত প্রকাশ করা সাংবিধানিক অধিকার। সে অধিকারটুকু মাহমুদুর রহমান করেছে বলেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তার ও পত্রিকার প্রেস সিলগালা করে সরকার ভিন্নমত প্রকাশের পথ রুদ্ধ করছে। সরকার আবারও বাকশালীর পরিচয় দিয়েছে।’

বিচারপতির স্কাইপি কেলেঙ্কারি প্রকাশ করে তিনি জনগণের তথ্য জানার যে অধিকার আছে তাই প্রকাশ করেছিলেন বলে জানান রফিকুল ইসলাম।

মাহমুদুর রহমানকে গ্রেপ্তারের পর পত্রিকার প্রেস যে সিলগালা করা হয়েছে তা ঠিক কিনা সঞ্চালকের এমন প্রশ্নের জবাবে সাদেকা হালিম বলেন, এ ব্যাপারে আমার কোনো ব্যক্তিগত মত নেই।’ তবে তদন্তের স্বার্থে এটা করা যেতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ফরহাদ মজহার বলেন, ‘এর আগেও সরকারের গোমর ফাঁস করে দেওয়ায় মাহমুদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে নির্যাতন করা হয়েছিল। এবারও সরকারের দুর্নীতি, দমন নীতি, ফ্যাসিবাদিতা প্রকাশ করায় একই কাণ্ড করেছে।’

তিনি সাংবাদিকতার নীতি মেনে চলেননি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ অভিযোগে তো তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়নি। অথচ তাকে গাড়ি পোড়ানোর মামলাসহ হাস্যকর কিছু মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।

এইচ টি ইমাম বলেন, ‘স্বাধীনতার ৪২ বছর পর জাতীয় পতাকা পোড়ানো হয়েছে। স্বাধীনতা দিবসের সময় গাড়ি পোড়ানো হয়েছে। ঘটনাগুলোর সঙ্গে মাহমুদুর রহমান জড়িত। তার বিরুদ্ধে এ অভিযোগের কারণে তাকে গ্রেপ্তার না করার কোনো যৌক্তিকতা দেখি না।’

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদক ওয়ালিউর রহমান মিরাজের পরিচালনায় সংলাপটি সঞ্চালনা করেন প্রতিবেদক আকবর হোসেন।

Advertisements

আলোচনা

কোন মন্তব্য নেই এখনও

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

হেফাজতে ইসলামের খবর

https://banglargangai.wordpress.com/wp-admin/widgets.php#available-widgets

ফরহাদ মজহারের কলাম

Join 253 other followers