এখন পড়ছেন
খবর, মামলা

বিশ্ব মিডিয়ায় মাহমুদুর রহমানের গ্রেপ্তার

933_1দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেপ্তারের খবর অনলাইন আল জাজিরা, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, দ্য হিন্দু, বিজনেস রেকর্ডার, ওয়াশিংটন পোস্টসহ প্রায় সব সাইটেই গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশিত হয়েছে।

আল জাজিরা ‘বাংলাদেশ নিউজপেপার এডিটর অ্যারেস্টেড ইন রেইড’ শীর্ষক রিপোর্টে লিখেছে, বাংলাদেশে শীর্ষস্থানীয় সরকার বিরোধী পত্রিকা দৈনিক আমার দেশ। সমপ্রতি এতে অনুসন্ধানী রিপোর্ট প্রকাশ ও সরকার-বিরোধী অবস্থান নেয়ার জন্য এ পত্রিকার প্রচার সংখ্যা ও অনলাইনে পাঠক বেড়েছে উল্লেখ করার মতো। মাহমুদুর রহমান ও তার পত্রিকাকে ক্ষমতাসীন দল হয়রান করছে বলে অভিযোগ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার। ২০০৯, ২০১০ ও ২০১২ সালে তার বিরুদ্ধে মানহানি ও রাষ্ট্রদ্রোহিতাসহ বেশ কিছু অভিযোগে মামলা করেছেন সরকারি কর্মকর্তারা।

ওই রিপোর্টে আরও বলা হয়, বিভিন্ন অভিযোগে সরকার-বিরোধী এই পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদককে গ্রেপ্তার করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। গতকাল ঢাকায় ওই পত্রিকা অফিস ঘেরাও করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে পাঠানো রিপোর্টে বলা হয়, তার বিরুদ্ধে কি অভিযোগ আনা হবে তা জানাতে পারছেন না নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। তবে ৭১ টেলিভিশন বলছে, তাকে রাষ্ট্রদ্রোহিতা ও সাইবার ক্রাইমসহ ৮টি অভিযোগের মুখোমুখি হতে হবে। সামপ্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় তার পত্রিকা সহিংসতাকে উসকে দিয়েছে বলে অভিযোগ ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল: যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের  শিরোনাম ‘বাংলাদেশ অ্যারেস্টস অ্যান্টি-গভর্নমেন্ট নিউজপেপার এডিটর’। এতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সরকার বিরোধী একটি পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদককে গ্রেপ্তার করেছে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ। ইসলামপন্থি ও ধর্মনিরপেক্ষদের মধ্যে সংঘাতময় পরিস্থিতির মধ্যে ধারাবাহিক গ্রেপ্তারের এটা সর্বশেষ ঘটনা। বাংলা ভাষায় প্রকাশিত পত্রিকা দৈনিক আমার দেশ। এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। সমপ্রতি ইসলাম নিয়ে পরিহাস করা অনলাইন ব্লগ-এর লেখালেখি তার পত্রিকায় প্রকাশ করার ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাংলাদেশের আইন কোন গোষ্ঠীগত সংঘাতকে উসকে দেয়া অনুমোদন করে না। ফেব্রুয়ারি থেকে দেশের ইসলামি দলগুলোর বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে ধর্মনিরপেক্ষ মানসিকতার ব্লগারদের একটি নেটওয়ার্ক। এতে যোগ দিয়েছে হাজার হাজার মানুষ। তারা প্রতিদিন প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। তারা বলছেন, ইসলামি দলগুলো বাংলাদেশকে একটি ধর্মীয় রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার ২০১০ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় যারা যুদ্ধাপরাধ করেছিল তাদের বিচারের জন্য গঠন করে যুদ্ধাপরাধ আদালত। এ আদালতে  যাদের বিচার করা হচ্ছে তাদের বেশির ভাগই ইসলামি দলের। ওই আদালতের রায়কে কেন্দ্র করে এই প্রতিবাদ বিক্ষোভের সূত্রপাত। ফেব্রুয়ারিতে ওই আদালত জামায়াতে ইসলামীর এক নেতাকে চার দশক আগে যুদ্ধের সময় সহিংসতায় তার ভূমিকার জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। এরপরই শুরু হয় প্রতিবাদ-বিক্ষোভ। তারপর থেকে ব্লগারদের নেটওয়ার্ক প্রতিদিন বিপুল মানুষকে প্রতিবাদে যোগ দেয়াতে সক্ষম হয়েছে। দাবি করা হয়েছে, যারা দোষী সাব্যস্ত হবে তাদের সবার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। সপ্তাহান্তে ইসলামি দলগুলো ঢাকায় বিশাল পাল্টা প্রতিবাদ বিক্ষোভ করে। সেখান থেকে ইসলাম রক্ষার জন্য ব্লাসফেমি আইন করতে সরকারের কাছে আহ্বান জানানো হয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে ইসলামপন্থিদের প্রতিবাদে গুলি চালিয়ে পুলিশ হত্যা করেছে বেশ কিছু প্রতিবাদীকে। কর্তৃপক্ষ বলছে, ধর্মনিরপেক্ষ ও ধর্মীয় সমপ্রদায়গুলোর মধ্যে বিভক্তি দেখা দিয়েছে। উত্তেজনাকর এ পরিস্থিতি অবনতির দিকে। মাহমুদুর রহমানকে গ্রেপ্তারের অর্থ হলো তার পত্রিকা বন্ধ করা। তার পত্রিকা ব্লগারদের লেখা পুনঃপ্রকাশ করেছে। এসব লেখায় ইসলামের অবমাননা রয়েছে। মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক চার্জ গঠন করা হয়নি। তার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা সফল হয়নি। তার পত্রিকায় গত ডিসেম্বরে যুদ্ধাপরাধ আদালতের স্কাইপ সংলাপ ছাপা হয়। এতে দেখা যায় যুদ্ধাপরাধ আদালতের বিচারে হস্তক্ষেপ করছে সরকার। স্কাইপ সংলাপে শোনা যায় সরকার রায় ঘোষণার বিষয়ে কিভাবে চাপ সৃষ্টি করছে তা নিয়ে দু’ব্যক্তি কথা বলছেন। তাদের একজন এই আদালত ১-এর সাবেক প্রধান বিচারপতি ও বাংলাদেশী একজন প্রবাসী আইনজীবী। এরপর আদালত ওই সংলাপ পত্রিকায় না ছাপতে নির্দেশনা দেয়। কিন্তু আমার দেশ তা ছাপা অব্যাহত রাখে। বিরোধী রাজনীতিকরা অভিযোগ করছেন, আদালতকে ব্যবহার করছে সরকার। তারা সামপ্রতিক উত্তেজনা বিরোধী রাজনীতিকে দমন করতে ব্যবহার করছে। যে ১০ জনের বিরুদ্ধে ওই আদালতে বিচার হচ্ছে তারা সবাই বিরোধী রাজনৈতিক দলের। এর মধ্যে ৮ জন দেশের শীর্ষ স্থানীয় ইসলামি দল জামায়াতে ইসলামীর। সামপ্রতিক সময়ে সারা দেশে হরতাল সমর্থন করে সামপ্রদায়িক সহিংসতা ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে পুলিশ সোমবার গ্রেপ্তার করেছে প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ১০ কর্মকর্তাকে। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মুবিন চৌধুরী বলেছেন, মিথ্যা ও অলীক অভিযোগে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শেখ হাসিনার ধর্ম-নিরপেক্ষ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার আদালতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সামপ্রতিক বক্তব্যে শেখ হাসিনা বলেছেন, আদালতের বিচার চলবে। এর মাধ্যমে যেসব পরিবার তাদের স্বজনদের হারিয়েছেন তারা ন্যায়বিচার পাবেন। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের কাছ থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল ইসলামী বিরোধীরা। যারা স্বাধীনতার পক্ষে ছিলেন তারা তাদেরকে টার্গেটে পরিণত করেছে। বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জনের পর তাদের অনেকে পাকিস্তান চলে গিয়েছে। আবার অনেকে এদেশেই রয়ে যায়। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, বিরোধীরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ঠেকানোর চেষ্টা করছে। তারা দেশকে পিছন দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। আওয়ামী লীগের সদস্যরা, বিশেষ করে এর যুব শাখার সদস্যরা ব্লগারদের প্রতিবাদে সমর্থন দিয়েছে। কিন্তু সরকার ধর্মপ্রাণ বাংলাদেশীদের ক্ষেপিয়ে তুলতে চায় না। এ দেশের ১৬ কোটি মানুষের বিরাট অংশ ধর্মপ্রাণ। গত বুধবার সরকার সামপ্রদায়িক সমপ্রীতিকে অস্থিতিশীল করার অভিযোগে ২ ব্লগারকে আটক করেছে। এ নিয়ে মোট ৬ জন ব্লগার নিরাপত্তা হেফাজতে রয়েছে। তাদের কারও বিরুদ্ধে এখনও আনুষ্ঠানিক কোন অভিযোগ গঠন করা হয়নি।

ওয়াশিংটন পোস্ট: যুক্তরাষ্ট্রের আরেক প্রভাবশালী পত্রিকা ওয়াশিংটন পোস্টের শিরোনাম ‘পুলিশ ইন বাংলাদেশ অ্যারেস্ট অ্যাক্টিং এডিটর অব প্রো-অপোজিশন নিউজপেপার, রিপোর্টেডলি ফর সিডিশন’।

বার্তা সংস্থা এপি থেকে নেয়া ওই রিপোর্টে বলা হয়, বিভিন্ন অভিযোগে বাংলাদেশে সরকার-বিরোধী একটি পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান বলেছেন, তারা বৃহস্পতিবার আমার দেশ পত্রিকা অফিস ঘেরাও করে গ্রেপ্তার করেছেন মাহমুদুর রহমানকে। তবে তার বিরুদ্ধে কি কি অভিযোগ আনা হবে তা তিনি তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেননি। তবে ৭১ টেলিভিশন বলেছে, রাষ্ট্রদ্রোহিতা ও সাইবার ক্রাইমসহ ৮টি অভিযোগের মুখোমুখি হতে হবে তাকে। ক্ষমতাসীন দলের নেতারা অভিযোগ করেছেন, আমার দেশ সামপ্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতায় সহিংসতা ছড়িয়ে দিয়েছে।

দ্য হিন্দু: ভারতের অনলাইন দ্য হিন্দু’র শিরোনাম ‘পুলিশ অ্যারেস্ট প্রো-অপোজিশন এডিটর ইন বাংলাদেশ’। এতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সাইবার ক্রাইম ও ধর্ম সংক্রান্ত অভিযোগে সরকার-বিরোধী বাংলাদেশী একটি পত্রিকার সম্পাদককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি দৈনিক আমার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। ঢাকায় অফিসের ভেতর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সাংবাদিকদের এ কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর। মাহমুদুর রহমানকে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক হ্যাকিং ও ধর্মবিদ্বেষী লেখা প্রকাশ করে লোকজনকে উস্কে দেয়ার অভিযোগ মোকাবিলা করতে হবে। মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তাতে বলা হয়েছে, ২০১০ সালে গঠিত আদালতের কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হয়েছে। এ কথা বলেছেন পুলিশের মুখপাত্র মাসুদুর রহমান। তার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ আছে রাষ্ট্রদ্রোহিতা, ষড়যন্ত্র ও কম্পিউটার সিস্টেম হ্যাক করার। স্কাইপ সংলাপ প্রকাশের অভিযোগ তার বিরুদ্ধে সরকার একটি মামলা করে। তারপর থেকেই তিনি গ্রেপ্তার এড়ানোর জন্য নিজ অফিসে অবস্থান করছিলেন। অভিযোগ আছে, মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে ‘নাস্তিক’ ব্লগারদের এমন লেখা তার পত্রিকায় প্রকাশ করা হয়েছে। পুলিশের ওই মুখপাত্র বলেছেন, এ অপরাধের শাস্তি হতে পারে ১০ বছরের জেল ও জরিমানা।

এএফপি: বার্তা সংস্থা এএফপির রিপোর্ট প্রকাশ করে পাকিস্তানের বিজনেস রেকর্ডার। এর শিরোনাম ‘বাংলাদেশ অ্যারেস্টস এডিটর অব টপ প্রো-অপোজিশন ডেইলি’। তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগের কথা বলা হয়েছে। দমনপীড়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সিনিয়র ২ শতাধিক নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে সবচেয়ে বৃহৎ ইসলামি দল জামায়াতে ইসলামীর পুরো নেতৃত্বকে। এর পরই এই গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটলো। পুলিশ বলেছে, মাহমুদুর রহমানের পত্রিকায় দেশের আইন লংঘন করে এমন রিপোর্ট ছাপা হয়েছে। এ অভিযোগে তাকে তার অফিস থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঢাকা পুলিশের মুখপাত্র মাসুদুর রহমান বলেছেন, তার বিরুদ্ধে ডিসেম্বরে দায়ের করা মামলায় তাকে আমরা গ্রেপ্তার করছি। তিনি মিথ্যা ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে এমন রিপোর্ট প্রকাশের দায়েও অভিযুক্ত। ডিসেম্বর মাসে তার বিরুদ্ধে যে মামলা হয়েছে তাতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ১-এর সাবেক চেয়ারম্যান ও বিদেশে একজন আইনজীবীর স্কাইপ সংলাপ হ্যাক করে তিনি তা প্রকাশ করেছেন। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত খালেদা জিয়ার সরকারে তিনি জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন। দৈনিক আমার দেশ প্রকাশ করেন ২০০৮ সালে। এ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হন এবং পত্রিকাটিকে বিরোধী দলের মুখপত্রে পরিণত করেন। রাজনৈতিক উত্তেজনা, হরতাল ও ভয়াবহ প্রতিবাদ বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে দৈনিক আমার দেশের প্রচারসংখ্যা সামপ্রতিক মাসগুলোতে ৬ গুণ বৃদ্ধি পায়। প্রতিদিন এর প্রচার সংখ্যা দাঁড়ায় ২ লাখ। এখন এটি অনলাইনে সর্বাধিক পঠিত বাংলাদেশী পত্রিকা।

বিবিসি: বিবিসির খবরে বলা হয়, বাংলাদেশে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢাকার একটি আদালত ১৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। পুলিশ প্রথমে জানায়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের একজন বিচারপতির কথোপকথন ফাঁস হওয়ার ঘটনা নিয়ে মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অবশ্য আদালতে মোট তিনটি মামলায় রহমানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। পাবলিক প্রসিকিউটর আবু আবদুল্লাহ জানিয়েছেন, বিচারপতির কথোপকথন ফাঁস ছাড়াও হরতালের সময় গাড়ি পোড়ানো ও ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত থাকার দু’টি মামলাতেও  তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই তিনটি মামলায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানা গেছে। এর আগে, গতকাল সকাল ৯টার দিকে ঢাকার কাওরান বাজার এলাকায় দৈনিক আমার দেশ কার্যালয় থেকে তাকে গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেপ্তার করে। পুলিশ জানায়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের একজন বিচারপতির কথোপকথন ফাঁস হওয়ার ঘটনা নিয়ে মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে ঢাকার একটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান বলেছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের একজন বিচারপতির কথোপকথন পত্রিকায় ফাঁস করার অভিযোগ ওঠার পর মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে এবং রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে দু’টি মামলা ছিল। সেই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমার দেশ কার্যালয় থেকে তার ব্যবহৃত কম্পিউটার, নথিপত্র আর সিসিটিভির ভিডিও ফুটেজ পুলিশ নিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন পত্রিকাটির কর্মীরা। এই গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপি। সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশ মাহমুদুর রহমানের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে। তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মুক্তি না দিলে কঠোর কর্মসূচি দেয়ার হুমকি দিয়েছেন ইউনিয়ন নেতারা। মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে ধর্মকে ঘিরে বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ এনে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে আসছিল শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ। এজন্যে তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপিও দিয়েছে। আমার দেশ পত্রিকার প্রকাশক হাসমত আলীর করা একটি প্রতারণা মামলায় এর আগে মাহমুদুর রহমানকে ২০১০ সালের ২রা জুন গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে আদালত অবমাননার একটি মামলায় সে বছর ১৯শে আগস্ট মাহমুদুর রহমানকে ৬ মাসের কারাদণ্ড এবং ১ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১ মাসের কারাদণ্ডাদেশ দেয় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। সব মিলিয়ে ৯ মাস পর কারাগার থেকে ছাড়া পান মাহমুদুর রহমান। তবে এরপর থেকে গ্রেপ্তার আশঙ্কায় তিনি আমার দেশ কার্যালয়েই অবস্থান করছিলেন। বিএনপি জামায়াত জোট সরকার ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসার পর মাহমুদুর রহমানকে বিনিয়োগ বোর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেয়া হয়। ২০০৫ সালে তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব নেন। ২০০৮ সালে তিনি বিএনপি নেতা মোসাদ্দেক আলীর মালিকানাধীন আমার দেশ পত্রিকার ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নেন। সে সময় থেকেই তিনি পত্রিকাটির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।

Advertisements

আলোচনা

কোন মন্তব্য নেই এখনও

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

হেফাজতে ইসলামের খবর

https://banglargangai.wordpress.com/wp-admin/widgets.php#available-widgets

ফরহাদ মজহারের কলাম

Join 253 other followers