এখন পড়ছেন
কলাম, বিবৃতি

বিদেশী সৈনিকদের এ দেশে ডেকে আনার পাঁয়তারা চলছে: আল্লামা শফী

1st-17মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সমাবেশের উপস্থিতিকে হেফাজতে ইসলামের আমির শায়খুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী বলেছেন, ইসলামের কথা বললেই তাকে মৌলবাদ, জঙ্গিবাদের অপবাদ দিয়ে এ দেশ থেকে চিরতরে ইসলাম উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে। জঙ্গিবাদ দমনের নামে ইসলাম নির্মূলের উদ্দেশ্যে বিদেশী সৈনিকদের এ দেশে ডেকে আনার পাঁয়তারা চলছে।

নানা বাধা বিপত্তি উপেক্ষা করে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে তিনি বলেন, আজ সারা বাংলাদেশে মহাগণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা দাবি না মানা পর্যন্ত এই আন্দোলন আরো তীব্র থেকে তীব্রতর রূপ ধারণ করবে, যে আন্দোলনের তোড়ে এই ইসলামবিরোধী সরকারের পরিণতি হবে ফেরাউন, নমরুদ, সাদ্দাদ, হামান, আবু জাহল, আবু লাহাবের চেয়েও আরো ভয়াবহ। আজকের এই মহাসমুদ্র প্রমাণ করে এ দেশে নাস্তিক-মুরতাদদের, ইসলামবিরোধীদের ঠাঁই নেই। ঈমানদার জনতাই এ দেশ নিয়ন্ত্রণের অধিকার রাখে। ঈমান রক্ষার ও দেশ রক্ষার যে আন্দোলনের সূচনা হয়ে গেছে, মনজিলে মাকসুদে পৌঁছার আগ পর্যন্ত আমাদের আর ঘরে ফিরে যাওয়ার সুযোগ নেই।

৬ মার্চের লংমার্চ শেষে রাজধানীর শাপলা চত্বরে মহাসমাবেশে বিকেলে সভাপতির বক্তব্যে আল্লামা শফী এ কথা বলেন। আল্লামা শফীর পক্ষে তার ছেলে আনাস মাদানী লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।

সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলা সমাবেশে আল্লামা শফী তার বক্তব্যে বলেন, হাজারো বাধা প্রতিবন্ধকতার জাল ছিন্ন ভিন্ন করে সব অপশক্তির রক্তচক্ষু এবং তাদের তাবৎ ষড়যন্ত্র ও বাধার পাহাড় ডিঙিয়ে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের ১৩ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আজকের এই মহাজনসমুদ্রে উপস্থিত দেশের উলামা-মাশায়েখ, ছাত্র-শিক্ষক ও আমার সংগ্রামী তাওহিদি জনতা।

সত্যের কথা বললে, ন্যায় ও ইনসাফের কথা বললে বাতিল অপশক্তির গাত্রদাহ শুরু হয়, সত্যের টুঁটি চেপে ধরে হত্যা করার অপচেষ্টা করা হয়, কিন্তু বাতিল অপশক্তি কোনোকালেই টিকে থাকতে পারেনি, অত্যন্ত গ্লানিকর অবস্থায় তাদের পরাজয় হয়েছে, ইতিহাস তার জ্বলন্ত স্বাক্ষী। এখনো কোনো বাতিল শক্তি টিকে থাকতে পারবে না। তারাই ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবে। বিজয় হবে সত্যবাদীদের এই বিশ্বাস আমাদের আছে। কেননা আল্লাহর ইরশাদ : ‘সত্য সমাগত মিথ্যা অপসৃত নিশ্চয় মিথ্যা অপসৃয়মান।’ এই বাণী অচিরেই বাংলার মাটিতে বাস্তবায়ন হবে ইনশাল্লাহ! আপনারা হিম্মত করে বাতিলকে রুখে দাঁড়ান, বাতিল অপশক্তি আপনাদের পায়ের নিচে মাথা নত করতে বাধ্য হবেই হবে।

শয়তান হজরত আদম (আ.)-কে মিথ্যার পথে বিভ্রান্ত করতে চেয়েছিল, হজরত আদম (আ.) শয়তানের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে ছিলেন বলেই শয়তান হয়েছে অভিশপ্ত, লানতপ্রাপ্ত ও বিতাড়িত। হজরত নূহ (আ.) সত্যের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন বলেই তার বিপথগামী জাতি ধ্বংস হয়েছিল। হজরত লুত (আ.), হজরত ইউনুস (আ.) সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন বলেই তাদের বিজয় অর্জিত হয়েছে। হজরত মূসা (আ.) সত্যের পতাকা বহন করেছিলেন বলেই ফেরাউন ও তার বাহিনী সাগরে নিমজ্জিত হয়ে ধ্বংস হয়েছে। হজরত ইবরাহীম আ: সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন বলেই আগুন তাকে জ্বালাতে পারেনি; বরং একটি সামান্য মশার আক্রমণে নমরুদের অপমানজনক মৃত্যু হয়েছে। ইতিহাস স্বাক্ষী আবরাহা আল্লাহর ঘর ধ্বংস করতে বিশাল হস্তিবাহিনী নিয়ে এগিয়ে এলে তাকে এবং তার বাহিনীকে ছোট পাখির দ্বারা আল্লাহ তায়ালা ধ্বংস করে দিয়েছেন। আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সত্যের আহ্বানকে স্তিমিত করার হীন মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে এসেছিল আবু জাহল, আবু লাহাবসহ আরবের কাফের মুশরিকচক্র, কিন্তু তারাই পৃথিবীর আঁস্তাকুড়ে নিপ্তি হয়েছে। আর ইসলামের আলো ছড়িয়ে পড়েছে সমগ্র বিশ্ব-জাহানে।

বহুবার চেষ্টা করা হয়েছে ইসলামের আলোকে নিভিয়ে দেয়ার, কিন্তু ইসলামের আলো নেভাতে সম হয়নি ইসলামের দুশমনেরা। সত্যের পতাকাবাহীরা বাতিল শক্তিকে চুরমার করে দিয়ে তাদের ষড়যন্ত্রের জালকে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছেন সব যুগেই। সেই ইতিহাস সবারই জানা।বাতিলের এই আক্রমণ কিয়ামত পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে, কিন্তু সাময়িক সফলতার আস্ফালন দেখালেও চূড়ান্ত সফলতা মুসলমানদেরই হবে।

বাংলাদেশের মুসলমানেরা বাতিলের ভয়ঙ্কর থাবায় আক্রান্ত, সংবিধান থেকে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস মুছে দিয়ে ফিরাউনি ও নমররুদি শাসনব্যবস্থা কায়েমের অপচেষ্টা দেশকে খোদায়ি গজব অনিবার্য করে তুলছে। আল্লাহকে কটাক্ষ করার মতো দুঃসাহস দেখানো হচ্ছে। আমার পেয়ারা নবী (স.) এবং আমাদের প্রাণপ্রিয় ধর্ম ইসলামের অবমাননা করা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীকে কটা করার কারণে তার শাস্তির ত্বরিত ব্যবস্থা নেয়া হলেও আল্লাহ ও তার রাসূলের বিরুদ্ধে কটূক্তিকারীদের শাস্তির আওতায় আনার কোনো উদ্যোগ পরিলতি হচ্ছে না; বরং হাইকোর্টের একজন বিচারপতি এ বিষয়টি সহযোগীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে গেলে তার বিরুদ্ধে সরকারি নির্দেশে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করে হয়রানিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ব্লগার রাজীবকে শহীদ আখ্যা দেয়া হয়েছে, সংসদে তার প্রতি সম্মান দেখানো হয়েছে। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় শাহবাগের নাস্তিক ব্লাগারদের ইসলামের বিরুদ্ধে উসকে দেয়া হয়েছে। তারা ইসলামি রাজনীতি বন্ধের দাবি জানিয়ে স্পিকারকে স্মারকলিপি দেয়ার দুঃসাহস দেখিয়েছে। ইসলামের নিদর্শনাবলিকে চরমভাবে অবমাননা করা হয়েছে।

কুরআন-সুন্নাহবিরোধী নারীনীতি, ইসলামবিরোধী শিক্ষানীতি পাস করা হয়েছে। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ বিভিন্ন মসজিদে নামাজের সময় বিভিন্নভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি এবং আলেম, ইমাম, খতিবদের হক কথা বলার কারণে তাদের ওপর অত্যাচার নির্যাতন চালানো হচ্ছে, হত্যা, হুমকি-ধমকি, হামলা-মামলার মাধ্যমে তাদেরকে দমিয়ে রাখার অপচেষ্টা ও চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে। কাদিয়ানি এনজিওসহ ইসলামবিরোধী অপশক্তিকে বিভিন্নভাবে আাশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়া হচ্ছে। মুসলিম সভ্যতা সংস্কৃতিকে ধ্বংস করে বিজাতীয় সভ্যতা সংস্কৃতি ও বেহায়াপনা বেলেল্লাপনা আমদানি করা হচ্ছে। মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, ভাস্কর্যের নামে মূর্তি স্থাপনসহ শেরেকি কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মুসলিম এ দেশটিকে অগ্নিপূজারী ও মূর্তিপূজারীদের দেশ বানানোর চক্রান্ত হচ্ছে। ইসলামের কথা বললেই তাকে মৌলবাদ, জঙ্গিবাদের অপবাদ দিয়ে এ দেশ থেকে চিরতরে ইসলাম উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে। জঙ্গিবাদ দমনের নামে ইসলাম নির্মূলের উদ্দেশ্যে বিদেশী সৈনিকদের এ দেশে ডেকে আনার পাঁয়তারা চলছে।

এ দেশের কোটি কোটি তাওহিদি জনতাকে সাথে নিয়ে হেফাজতে ইসলাম শান্তিপূর্ণ উপায়ে দেশ ও ইসলামবিরোধী এসব অপতৎপরতা বন্ধে বদ্ধপরিকর। কোনো অপশক্তিই হেফাজতে ইসলামকে তার অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনে দমাতে পারবে না। এ লক্ষ্যে হেফাজতে ইসলাম দেশ ও ঈমান রক্ষার তাগিদে সুস্পষ্ট ১৩ দফা দাবি পেশ করে ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। এসব দাবি কোনো রাজনৈতিক দাবি নয়। মতা থেকে কাউকে সারানো বা কাউকে মতায় বসানোর দাবি নয়। কিন্তু ক্ষমতায় থাকতে হলে এসব দাবি মেনেই থাকতে হবে, আবার মতায় যেতে হলেও এসব দাবি মেনেই যেতে হবে।

আমরা বারবার বলেছি আমাদের আন্দোলন ঈমান ও দেশ রক্ষার অহিংস আন্দোলন। এ আন্দোলনকে দমানোর অপচেষ্টা করা হলে এর পরিণতি হবে ভয়াবহ। সরকার নির্বাচনের আগে ইসলামবিরোধী, কুরআন ও সুন্নাহবিরোধী কোনো কাজ না করার অঙ্গীকার নিয়ে ক্ষমতাসীন হলেও এখন তারা সুস্পষ্ট ইসলামের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। সরকার আমাদের দাবিদাওয়ার প্রতি কর্ণপাত না করে দেশের কোটি কোটি মুসলমানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। আমাদের আজকের এই লংমার্চ কর্মসূচিকে একটি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ঘোষণা করা হলেও সরকার লাখো কোটি জনতার এই কর্মসূচি বানচালের সব প্রচেষ্টাই চালিয়েছে। সরকারের সহযোগী নাস্তিক-মুরতাদদের ঘাদানিক, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, পরিকল্পনা মন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম এবং শাহবাগি নাস্তিক মুরতাদদের তথাকথিত গণজাগরণ মঞ্চের মাধ্যমে হরতাল ও অবরোধ আহ্বান করিয়ে আমাদের শান্তিপূর্ণ এই কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। তার পরও আজকের এই মহাসমুদ্র প্রমাণ করে এ দেশে নাস্তিক-মুরতাদদের, ইসলামবিরোধীদের ঠাঁই নেই। ঈমানদার জনতাই এ দেশ নিয়ন্ত্রণের অধিকার রাখে।

আজ সারা বাংলাদেশে মহাগণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা দাবি না মানা পর্যন্ত এই আন্দোলন আরো তীব্র থেকে তীব্রতর রূপ ধারণ করবে। যে আন্দোলনের তোড়ে এই ইসলামবিরোধী সরকারের পরিণতি হবে ফেরাউন, নমরুদ, সাদ্দাদ, হামান, আবু জাহল, আবু লাহাবের চেয়েও আরো ভয়াবহ। তাই এখনো সময় আছে আল্লাহর গজব আসার আগেই আমাদের দাবিগুলো মেনে নিয়ে নিজেরাও বাঁচুন, দেশকে ও দেশের জনগণকে বাঁচান।

আজকের এই জনসমুদ্র প্রমাণ করেছে- এ দেশ চলবে আলেম-উলামা ও তাওহিদি জনতার কথায়। নাস্তিক, মুরতাদ, ব্লগারদের কথায় নয়। জীবন বাজি রেখে লংমার্চে অংশগ্রহণ করে আজকের এই মহাজনসমুদ্রকে নিজের অর্থ শ্রম খরচ করে সশরীরে হাজির হয়ে ঈমানি দায়িত্ব পালন করার জন্য হেফাজতের ইসলামের সব নেতাকর্মী, অন্যান্য সংগঠন, দল, দেশের শীর্ষস্থানীয় উলামা মাশায়েখ, ইসলামি চিন্তাশীল ব্যক্তিবর্গ, সামাজিক সংগঠন, পেশাজীবী সংগঠন, মাদরাসা, স্কুল, ভার্সিটির ছাত্র-শিকদের প্রতি আন্তরিক অভিনন্দন ও মোবারকবাদ জানাচ্ছি। যুবক তরুণ তোমরা ইসলামের মূল শক্তি, তাবৎ বাতিল জাগরণ স্তিমিত করার জন্য আজকের মতো ভবিষ্যতেও জীবন বাজি রেখে ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়ে শহীদ হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। আমি ঢাকা ও তার আশপাশের অঞ্চলের মানুষের লংমার্চ কাফেলাকে সার্বিক সহযোগিতার জন্যও আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি।

পরিশেষে ঈমান রক্ষার, দেশ রক্ষার যে আন্দোলনের সূচনা হয়ে গেছে, মনজিলে মাকসুদে পৌঁছার আগ পর্যন্ত আমাদের আর ঘরে ফিরে যাওয়ার সুযোগ নেই।

Advertisements

আলোচনা

কোন মন্তব্য নেই এখনও

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

হেফাজতে ইসলামের খবর

https://banglargangai.wordpress.com/wp-admin/widgets.php#available-widgets

ফরহাদ মজহারের কলাম

Join 253 other followers