এখন পড়ছেন
খবর

লংমার্চ নিয়ে সরকার আতঙ্কে

৬ এপ্রিলের লংমার্চ কর্মসূচিকে সামনে রেখে আতঙ্কে আছে সরকার। সরকার বলছে, হেফাজতে ইসলামের বেশ কিছু দাবি মেনে নেওয়ার ব্যাপারে সরকার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চসহ ইসলামবিরোধী ব্লগ বন্ধ এবং তদন্ত সাপেক্ষে ধর্ম অবমাননাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে। যদিও সরকার এই বিষয়ে এখনো পরিষ্কার কোন অবস্থান ব্যক্ত করেনি। বরাবরের মতো সরকারবিরোধি কর্মসূচিতে নাশকতার আগাম আশংকা রেখে লংমার্চ স্থগিত রাখতে আল্লামা শফীর সাথে কয়েকবার আলোচনা করেছে।

এরই মধ্যে সরকার যেসব ব্যবস্থা নিয়েছে, তা জানাতে আজ মঙ্গলবার দুপুরে আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর যৌথ সংবাদ সম্মেলন করবেন। সেখান ধর্ম অবমাননাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং এ ব্যাপারে প্রচলিত আইন কী, তা জানাবেন আইনমন্ত্রী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লগ বন্ধ করার ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ের নেওয়া পদক্ষেপগুলো উপস্থাপন করবেন। এ ছাড়া নবম শ্রেণীর পাঠ্যপুস্তকে ধর্ম অবমাননা-সম্পর্কিত অধ্যায়টি সংশোধন করার বিষয়টিও তুলে ধরা হবে।

সংবিধানের মূলনীতিতে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস কথাটি প্রতিস্থাপন; ধর্মের অবমাননাকারীদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের বিধান করে আইন পাস করা; আল্লাহ, রাসুল ও ইসলামি অনুশাসনের বিরুদ্ধে কটূক্তিকারী কথিত নাস্তিক ব্লগারদের শাস্তিসহ ১৩ দফা দাবিতে ৬ এপ্রিল ঢাকা অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে হেফাজতে ইসলাম।

ইতিমধ্যে সহিংসতা ও আইন-শৃংখলা বাহিনীর গুলিতে দেড়শয়ের বেশি সাধারণ মানুষ ও বিএনপি-জামায়াত-শিবিরকর্মী নিহত হবার ঘটনায় সরকার চাপের মধ্যে আছে। হেফাজতে ইসলামের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দুই দিন ধরে সরকার দফায় দফায় বৈঠক করছে। বৈঠক করা হয়েছে হেফাজতে ইসলামের সঙ্গেও। পরিবেশ ও বনমন্ত্রী হাছান মাহমুদ গত রোববার চট্টগ্রামে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফির সঙ্গে বৈঠক করেন। আগের দিন জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারও আল্লামা শাহ আহমদ শফির সঙ্গে বৈঠক করেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি হয়নি।সরকারি সূত্র জানায়, হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে আলোচনায় বনমন্ত্রীর পাশাপাশি অন্য নেতাদেরও যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে যুক্ত করা হতে পারে।

হেফাজতে ইসলামের দাবিদাওয়াসহ বর্তমান পরিস্থিতিতে করণীয় ঠিক করতে গতকাল সোমবার সচিবালয়ে কয়েকজন মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের নেতা বৈঠক করেন।বৈঠকে হেফাজতের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত হয়। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে জানা যায়, সরকার বিএনপি-জামায়াতের বাইরে কোনো ধর্মভিত্তিক দল বা সংগঠনের সঙ্গে বিরোধে না জড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তা ছাড়া ধর্মীয় বিষয়ের মতো একটি সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে বাড়াবাড়ি বা জেদাজেদিতে না যাওয়ার পক্ষে সরকারের নীতিনির্ধারকেরা। নির্বাচন সামনে রেখে বিষয়টি দ্রুত সমাধান চান তাঁরা।

সরকার মনে করছে, হেফাজতে ইসলামের কর্মসূচিতে বড় রকমের লোকসমাগম ঘটতে পারে। বিএনপি ও জামায়াতের সহায়তায় তা সহিংসতায় রূপ নিতে পারে। এ অবস্থায় কারও প্রাণহানি ঘটলে দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে।

এদিকে  গতকাল সচিবালয়ে বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, রাজশাহীসহ সারা দেশে মৌলবাদীদের মূলোৎপাটনের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।তিনি জানান, বর্তমান সমস্যা রাজনৈতিক। তাই রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করা হবে।

Advertisements

আলোচনা

কোন মন্তব্য নেই এখনও

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

হেফাজতে ইসলামের খবর

https://banglargangai.wordpress.com/wp-admin/widgets.php#available-widgets

ফরহাদ মজহারের কলাম

Join 253 other followers