এখন পড়ছেন
খবর

সরকারকে নিরাশ করে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি

আল্লামা শাহ আহমদ শফী ও হেফাজত নেতৃবৃন্দের সাথে গতকাল বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি বন ও পরিবেশমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এবং চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ সালাম

আল্লামা শাহ আহমদ শফী ও হেফাজত নেতৃবৃন্দের সাথে গতকাল বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি বন ও পরিবেশমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এবং চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ সালাম

৬ মার্চে ডাকা লংমার্চ স্থগিত করতে কয়েকদিন ধরে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা দেখা করেছেন হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ্ আহমদ শফীর সাথে। সর্বশেষ ৩১ মার্চ রবিবার প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ প্রতিনিধি বন ও পরিবেশমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ব্যর্থ হয়ে ফিরলেন। আল্লামা শাহ্ আহমদ শফী জাতীয় পর্যায়ের লংমার্চ কর্মসূচি এ মুহূর্তে স্থগিত করা কোনোভাবেই সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দেন।

এর আগে একই অনুরোধ নিয়ে শনিবার বিকালে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) এমএ মান্নান ও জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) হাফিজ আক্তার ব্যর্থ হন।

এদিকে ৬ মার্চের লংমার্চকে ঘিরে দেশজুড়ে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। লংমার্চ সফল করতে আজ চট্টগ্রামের লালদীঘি মদয়ানে শানে রেসালত সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

আল্লামা শফী বলেন, আল্লাহ, রাসূল (স.), কুরআন ও ইসলাম অবমাননার কারণে নাস্তিক ব্লগারদের শাস্তির দাবিতে আমরা দেড় মাস ধরে প্রতিবাদ ও আন্দোলন কর্মসূচি পালন করে আসছি। গত ৯ মার্চ জাতীয় ওলামা মাশায়েখ সম্মেলনে প্রায় তিন হাজার শীর্ষ আলেম ও ইসলামি নেতৃবৃন্দের সম্মিলিত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সরকারের প্রতি আমরা ১৩ দফা দাবি উত্থাপন এবং দাবি পূরণ না হলে ৬ এপ্রিল লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করেছি। এ পর্যন্ত সরকার দাবি আদায়ের ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ তো গ্রহণ করেইনি, বরং বিভিন্ন পর্যায়ে ইসলাম অবমাননার নতুন নতুন সংবাদ আমাদের কাছে আসছে। তাই কর্মসূচির সব প্রস্তুতি শেষে সরকারের সময় চাওয়াটা অনেকটা হাস্যকর ও অর্থহীন।

রোববার বেলা সাড়ে ১১টার এই সাক্ষাতে ড. হাছান মাহমুদের সাথে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এম সালাম, আওয়ামী যুব লীগের কেন্দ্রীয় ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক জাফর আহমদ, হাটহাজারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন নোমান, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আজম উদ্দীন। আরো উপস্থিত ছিলেন দারুল উলুম হাটহাজারী মাদরাসার প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ও হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় মহাসচিব আল্লামা হাফেজ মুহাম্মদ জুনায়েদ বাবুনগরী, হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির মুহাদ্দিস আল্লামা হাফেজ শামসুল আলম প্রমুখ।

আল্লামা শফী আরো বলেন, হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা দাবিতে কোনো অস্পষ্টতা নেই। এ নিয়ে কোনো অপব্যাখ্যা ও অপপ্রচারেরও সুযোগ নেই। আমাদের অন্যান্য দাবির পাশাপাশি দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সুরক্ষা ও শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে ধর্ম অবমাননার বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর আইন পাস করা ছাড়া ওলামা-মাশায়েখ ও তৌহিদি জনতা তাদের দাবি থেকে এক চুলও পিছপা হবে না। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে লংমার্চ কর্মসূচি পালন করব এবং সরকার আমাদের দাবি পূরণ না করলে আমাদের প্রতিবাদ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আজ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আদেশে সরকারের পক্ষ থেকে আমরা এখানে এসেছি। প্রথমত আমাদের সরকার কুরআন সুন্নাহর অবমাননা হয় এমন কিছু সহ্য করবে না। কুরআন সুন্নাহ ও হজরত মুহাম্মদ সা:-এর বিরুদ্ধে কেউ কটূক্তি করবে, সেটিও আমরা সহ্য করব না। বাংলাদেশ সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের দেশ। এ দেশে কেউ সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মনে আঘাত দেবে, সেটা কখনো কাম্য নয়, সেটা সঠিকও নয়। সুতরাং এ বিষয়গুলো নিয়ে তারা লংমার্চসহ নানা কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন, এগুলোর সাথে সরকার অনেক ক্ষেত্রেই একমত। আমাদের প্রশ্ন সেখানেই, এই আন্দোলনকে নিয়ে বিরোধী দল, বিশেষ করে জামায়াত-শিবির ঘোলাপানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টা চালাচ্ছে, আমরা সেই বিষয়টি হেফাজত নেতৃবৃন্দসহ আল্লামা আহমদ শফীর নজরে এনে আলোচনার চেষ্টা করেছি। লংমার্চ কর্মসূচি নিয়ে যাতে কেউ ঘোলাপানিতে মাছ শিকার করতে না পারে, সে বিষয়ে তারা সতর্ক থাকবেন বলে আমাদের জানিয়েছেন। যেহেতু সরকার এই দাবিগুলো বিবেচনায় নিয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য সরকার নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে, সে জন্য এ কর্মসূচি নিয়ে এ পর্যায়ে অন্যভাবে কোনো কিছু করা যায় কি না, সে বিষয়ও আমরা আলোচনায় এনেছি। এ বিষয়ে তারা চিন্তাভাবনা করবেন বলে আমাদের জানিয়েছেন

অন্য দিকে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় মহাসচিব আল্লামা হাফেজ মুহাম্মদ জুনায়েদ বাবুনগরী প্রেস বিফিংয়ে জানান, মাননীয় মন্ত্রীসহ সরকারি প্রতিনিধিদল হেফাজতে ইসলামের দাবিগুলোর প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে দাবি আদায়ে সরকারকে কিছু সময় দিয়ে লংমার্চ কর্মসূচি স্থগিত করা যায় কি না, বিবেচনা করার অনুরোধ করেন। আমরা তাদের স্পষ্ট জানিয়েছি যে, শাহবাগী নাস্তিক-ব্লগার কর্তৃক রাসূল (স.) ও ইসলাম অবমাননা নিয়ে আমরা দেড় মাস আগে থেকে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে আসছি। সরকার এ পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপই গ্রহণ করেনি। বরং ইসলাম বিদ্বেষীরা এখনো প্রায় প্রতিদিনই নানাভাবে ইসলাম অবমাননা অব্যাহত রেখেছে। প্রাথমিক থেকে শুরু করে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত স্কুলের বইয়ে ইসলাম অবমাননার বহু তথ্য আসছে। আমাদের লংমার্চ কর্মসূচির প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। ইতোমধ্যেই সারা দেশে লংমার্চের পক্ষে ব্যাপক গণসংযোগ, পোস্টার-লিফলেট বিতরণ এবং পরিবহনসহ অন্যান্য প্রস্তুতিও শেষ হওয়ার পথে। এ পর্যায়ে হেফাজতে ইসলামের উত্থাপিত সংবিধানে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস পুনঃস্থাপন এবং দেশে ইসলাম অবমাননা বন্ধ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সুরক্ষা ও শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে ধর্ম অবমাননার বিরুদ্ধে কঠোর আইন পাস, ফেসবুক, টুইটারসহ বিভিন্ন ব্লগ ও সাইটে মহান আল্লাহ্, রাসূল সা:, ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে যেসব অবমাননাকর জঘন্য কটূক্তিকর প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে, সেসব বন্ধ করে বস্তুনিষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্লগ, ব্লগার ও পোস্টদাতাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা, পাঠ্য বইয়ের সব ধর্ম অবমাননাকর মন্তব্য ও উদ্ধৃতির জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করে অবিলম্বে সংশোধনী প্রকাশ, সব অনাচার, ব্যভিচার ও অশ্লীলতা এবং নাটক-সিনেমায় ব্যক্তি জীবনে ধর্মীয় নিদর্শন তথা দাড়ি-টুপি, হিজাব ও ধর্মীয় শিক্ষার অবমাননা রোধে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দান, শিক্ষার সব স্তরে ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা ইত্যাদিসহ ১৩টি দাবি যথাযথভাবে পূরণ না হলে আমরা জাতীয়ভাবে লংমার্চের মতো একটি বিশাল কর্মসূচি স্থগিত করতে পারি না।

তিনি আরো বলেন, প্রতিনিধিদল লংমার্চ কর্মসূচিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির ব্যাপারে আশঙ্কা প্রকাশ করলে আমরা তাদের জানিয়েছি যে, হেফাজতে ইসলামের লংমার্চসহ সব কর্মসূচি অরাজনৈতিক ও শান্তিপূর্ণ। এ পর্যন্ত আমাদের সব কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালন হয়েছে। ঈমান-আকিদা ও ইসলাম অবমাননার বিরুদ্ধে আমাদের লংমার্চ কর্মসূচিও শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হবে। এবং এ ব্যাপারে সরকারের সার্বিক সহযোগিতা পাওয়ার ব্যাপারে আমরা পূর্ণ আশাবাদী।

দেশজুড়ে প্রস্তুতি

এদিকে রোববার বিকেল ৩টায় লালবাগের কার্যালয়ে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের এক সংবাদ সম্মেলনে অনুষ্ঠিত হয়। এতে হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগরের আহ্বায়ক মাওলানা নুর হোসাইন কাসেমীর লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা জাফরুল্লাহ খান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি ঢাকা অভিমুখী লংমার্চ সফল করার আহ্বান জানিয়ে হেফাজতে ইসলামের ঢাকা মহানগর শাখার নেতারা বলেছেন, নাস্তিক ব্লগারদের ফাঁসিসহ ১২ দফা দাবিতে আগামী ৬ এপ্রিল সারা দেশ থেকে ঢাকা অভিমুখে লংমার্চ করে ঢাকায় আমাদের মহাসমাবেশ হবে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও অহিংস। আমরা কোনো জ্বালাও, পোড়াও ও ভাঙচুরে বিশ্বাস করি না। আমরা আমাদের দাবি সরকারকে জানিয়ে দিয়েছি, বল এখন সরকারের কোর্টে, সিদ্ধান্ত নেয়ার দায়িত্ব এখন সরকারের। আমরা মনে করি, রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে নয়, মুসলমান হিসেবে সবাই আমাদের এ অহিংস আন্দোলনে অংশ নিতে পারেন। আশা করি, সরকার আমাদের এ কর্মসূচি পালনে সর্বাত্মক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে বাধাগ্রস্ত করতেই কি আপনারা এই আন্দোলনে নেমেছেন কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে মাওলানা নুর হোসাইন কাসেমী বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলছে প্রায় চার বছর ধরে। আমরা এতদিন সে বিষয়ে কোনো কথা বলিনি। কিন্তু যখন আল্লাহ, রাসূল (স.) এবং দ্বীন ইসলাম নিয়ে ধৃষ্টতাপূর্ণ অবমাননা করা হয়েছে, কুরুচীপূর্ণভাবে তাদের চিত্রায়িত করা হয়েছে তখন একজন নবীপ্রেমিক হিসেবে আমরা বসে থাকতে পারিনি।

তিনি আরো বলেন, আগামী ৬ এপ্রিলের লংমার্চকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে আমাদের নেতাকর্মী, মাদরাসার দায়িত্বশীল ও মসজিদের ইমাম-খতিবদের নানানভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। পুলিশ প্রশাসন ও সরকার দলীয় নেতাকর্মীরা জীবননাশের হুমকির মাধ্যমে তাদের নিবৃত করার চেষ্টা করছে। এলাকার আলেম, ইমাম ও মাদরাসার দায়িত্বশীলদের থানায় ডেকে নিয়ে হুমকি-ধামকি প্রদান করা হচ্ছে, গ্রেফতার ও জেল-জুলুমের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। আমরা পরিষ্কার বলছি, ৬ এপ্রিলের লংমার্চে যদি বাধা প্রদান করা হয়, হেফাজতে ইসলামের কোনো নেতাকর্মীকে যদি গ্রেফতার করা হয় তাহলে ৭ এপ্রিল থেকে লাগাতার হরতালসহ এমন কঠোর কর্মসূচি আসবে যা সামাল দেয়া সরকারের পক্ষে সম্ভব হবে না।

তিনি কোনো প্রকার অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে ঈমানের তাগিদে রাসূল সা:-এর মহব্বতে চিড়া, মুড়ি ও শুকনো খাবারসহ সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়ে তৌহিদি জনতাকে ৬ এপ্রিল লংমার্চ করে ঢাকায় আসার আহ্বান জানান।

এছাড়া দেশজুড়ে চলছে নানা প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম। এরমধ্যে রয়েছে ৩ এপ্রিল বরিশালে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশ, ময়মনসিংহে গণসংযোগ ও মতবিনিময়, দিনাজপুর ও মুন্সীগঞ্জে প্রস্তুতি সভা।

Advertisements

আলোচনা

কোন মন্তব্য নেই এখনও

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

হেফাজতে ইসলামের খবর

https://banglargangai.wordpress.com/wp-admin/widgets.php#available-widgets

ফরহাদ মজহারের কলাম

Join 253 other followers