এখন পড়ছেন
খবর

প্রশ্ন ও বিতর্কে ট্রাইব্যুনালের তিনবছর পূর্ণ

তিন বছর পূর্ণ করল ট্রাইব্যুনালএকাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আজ সোমবার তিন বছর পূর্ণ করল। এই সময়ে তিনটি মামলার রায় হয়েছে। যার দুটিতে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর একটিতে যাবজ্জীবন করাদণ্ড।

এসব রায় ঘিরে নানা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। বিশ্লেষকদের মতে, যে উদ্দেশে ট্রাইব্যুনাল গঠিত, তা এখন বিতর্কের ঘেরাটোপে বন্দি। দেশে-বিদেশে এই বিচারের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এজন্য সরকার বা এই বিচারের রাষ্ট্রপক্ষ প্রসিকিউশনের দুর্বলতাকেই সামনে এনেছেন সংশ্লিষ্টরা।

ট্রাইব্যুনালের ভেতর থেকেই কথা উঠেছে, প্রথমদিকের চিফ প্রসিকিউটরদের হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া কেউ ট্রাইব্যুানালে নিয়মিত নন। আর যারা অফিসে আসেন তাদের অনেকেই নিজেদের ইচ্ছামতো অফিসে আসেন, ইচ্ছামতো যান। কোন অফিস ডেকোরাম নেই, নেই কোন রেজিস্ট্রার খাতা, সার্ভিস রুল নেই, যে যার মতো করে কাজ করে, কোন সুপারভিশন নেই, অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

২০১০ সালের ২৫ মার্চ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, তদন্তকারী সংস্থা ও আইনজীবী প্যানেল গঠন করা হয়।

দুটি ট্রাইব্যুনাল মিলে তিনটি রায় দিয়েছে। এর মধ্যে ট্রাইব্যুনাল-১ জামায়াত ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। আর ট্রাইব্যুনাল-২ জামায়াত নেতা আবদুল কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন এবং ইসলামী ব্যক্তিত্ব পলাতক মাওলানা আবুল কালাম আযাদকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।

প্রথম ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান করা হয় বিচারক নিজামুল হক নাসিমকে। তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালের বাকি সদস্যরা হলেন- বর্তমান ট্রাইব্যুনাল-১- এর চেয়ারম্যান বিচারক এটিএম ফজলে কবীর ও পদত্যাগী বিচারক একেএম জহির আহমেদ।

এরপর বিচার কার্যক্রমকে আরো তরান্বিত করতে ২০১২ সালের ২২ মার্চ দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। বিচারক এটিএম ফজলে কবীরকে এটির চেয়ারম্যান করা হয়। আর সদস্য করা হয় বিচারক ওবায়দুল হাসান শাহিন ও ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার শাহিনুর ইসলামকে।

স্কাইপে কথোপকথনের জের ধরে চেয়ারমান পদ থেকে গত ১১ জানুয়ারি বিচারক নিজামুল হক নাসিম পদত্যাগ করেন। এরপর ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান এটিএম ফজলে কবীরকে ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান করা হয়। আর বিচারক জাহাঙ্গীর হোসেন এবং আনোয়ারুল হককে এই ট্রাইব্যুনালের সদস্য করা হয়।

এরআগে বিচারক একেএম জহির আহমেদ পদত্যাগ করেন।

বর্তমানে ট্রাইব্যুনাল-১ এ আটটি মামলার কার্যক্রম চলছে। মামলা হলো- জামায়াত ইসলামীর সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযম, বর্তমান আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহার, নায়েবে আমির মাওলানা আবদুস সোবহান, দিগন্ত করপোরেশনের চেয়ারম্যান মীর কাশেম আলী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আওয়ামী লীগ নেতা মোবাবরক হোসেন ও  বরিশালের রুস্তম আলী।

অন্যদিকে ট্রাইব্যুনাল-২ এ পাচঁটি মামলার মধ্যে দুটির কার্যক্রম শেষ হয়েছে। বর্তমানে আরও তিনটি মামলার কার্যক্রম চলছে। মামলাগুলো হলো- জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কামারুজ্জামান ও বিএনপি নেতা আব্দুল আলীম।

চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু আরটিএনএন-কে বলেন, ‘বিচার সম্পন্ন করতে প্রসিকিউশন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিচার কার্যক্রমে আসামিপক্ষ সব ধরনের আইনি সুবিধা ভোগ করছে।’

চলতি বছরের বাকি সময়ের মধ্যে ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলাগুলোর রায় হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম আরটিএনএন-কে বলেন, ‘আমরা আইনি সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছি কিনা সে বিতর্কে যাব না। শুধু বলব প্রসিকিউশন তাদের সাক্ষী হাজির করতে ২৪ দিন সময় পেলেও আমাদের সে সুযোগ দেয়া হয়নি।’

তদন্তসংস্থার জ্যেষ্ঠ সদস্য সাবেক আইজিপি সানাউল হক আরটিএনএন-কে বলেন, ‘ট্রাইব্যুনাল গঠনের তিন বছর পূর্ণ হলেও আমরা যোগ দিয়েছি দুই বছর।’

কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমরা ততটা সন্তোষ না; আবার বেশি অসন্তোষও না। কেন না কম্বোডিয়া, যুগস্লোভিয়া, লাইবেরিয়ার ট্রাইব্যুনালে একটি করে মামলার রায় হয়েছে। সেখানে আমাদের তিন বছরে তিনটি রায় হয়েছে এবং অল্প দিনের মধ্যে আশা করছি আরও কয়েকটি মামলার রায় হবে।’

তদন্তসংস্থার জনবল সংকট নিয়ে সানাউল হক বলেন, ‘আমরা এখন সরকারের সঙ্গে যুদ্ধ করছি। অনেক দিন আগে তদন্তসংস্থার জনবল সংকট নিয়ে অর্গানোগ্রাম প্রধানমন্ত্রী স্বাক্ষর করেছেন। কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয়ে তা আটকে গেছে।’

চলমান মামলার সঙ্গে তদন্তসংস্থা নতুন আরও ১২টি মামলা তদন্ত করছে বলেও তিনি জানান।

আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) অ্যাক্ট-১৯৭৩ এর অধীনে প্রণীত রুলস অনুযায়ী এই মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কার্যক্রম চলছে। সর্বশেষ কাদের মোল্লার রায় ঘিরে বিতর্কের জন্ম হলে আইন সংশোধন করে উভয়পক্ষের আপিলের বিধান যোগ করা হয়েছে ট্রাইব্যুনাল অ্যাক্টে।

Advertisements

আলোচনা

কোন মন্তব্য নেই এখনও

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

হেফাজতে ইসলামের খবর

https://banglargangai.wordpress.com/wp-admin/widgets.php#available-widgets

ফরহাদ মজহারের কলাম

Join 253 other followers