এখন পড়ছেন
খবর

জমল না মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদের মহাসমাবেশ

fumমতিঝিল শাপলা চত্বরে জাতীয় শোক দিবসে আয়োজন করা সমাবেশটির বাজেট ছিল এক কোটি কথা। পাঁচ লাখ মানুষের সমাবেশ করার ঘোষণা দিলেও ছাত্রলীগ যুবলীগের কর্মীসহ জনসমাগম হয়েছে একহাজারেরও কম।

২৩ মার্চের এই সমাবেশ নিয়ে বিলি করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বেশ ক’জন খ্যাতনামা আলেমের নাম যোগ করা হয় বক্তার তালিকায়। অথচ তারা সমাবেশে উপস্থিতই ছিলেন না। মহাসমাবেশের উদ্যোক্তা ছিলেন সরকার সমর্থিত ‘বাংলাদেশ ওলামা মাশায়েখ তৌহিদী জনতা সংহতি’ নামে সংগঠনের আহবায়ক মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ। দেশের বৃহত্তম ঈদের জামাত শোলাকিয়ার এই ইমাম ২০০৫ সালের ১৭ই আগস্ট জেএমবি’র সিরিজ বোমা হামলার আসামী হিসেবে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।

সমাবেশকে ঘিরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ছিল ব্যাপক প্রস্তুতি। তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয়। ছিল বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার বিরামহীন তৎপরতা। সংবাদ মাধ্যমের সরব উপস্থিতি। আশপাশের এলাকাজুড়ে লাগানো হয় ১০০ মাইক। দক্ষিণে টিকাটুলি মোড়, উত্তরে আরামবাগ আল হেলাল মোড়, পশ্চিমে দৈনিক বাংলার মোড়, পূর্বে কমলাপুর বাজার রোড পর্যন্ত তৈরি করা হয় নিরাপত্তা বলয়। তুলে দেয়া হয় ফুটপাথের সব দোকানপাট। বন্ধ করে দেয়া হয় সব ধরনের যান চলাচল। নিরাপত্তার জন্য বসানো হয় আর্চওয়ে।  শাপলা চত্বরের মোড়ে তৈরি করা সুসজ্জিত মঞ্চ। পিচঢালা পথে বিছানো হয় কার্পেট। প্রায় দু’সপ্তাহ ধরে চলে প্রচার প্রচারণা। ঘোষণা দেয়া হয় পাঁচ লাখ লোকের মহাসমাবেশ করার।

জামায়াত নিষিদ্ধ, কোরান ও মহানবীর সম্মান রক্ষায় আইন করার দাবি এবং সাম্প্রদায়িক হলেও প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াত-শিবিরকে সন্ত্রাসী সংগঠন আখ্যা দিয়ে তাদের প্রতিহত করার আহ্বান জানিয়েছেন ফরিদ উদ্দিন মাসউদ। তিনি বলেন, জামায়াত-শিবিরের মূল গুরু (মওদুদী) আলেম ছিলেন না। ছিলেন সাংবাদিক। সে গুছিয়ে গুছিয়ে কথা লিখে পীর আওলিয়া আল্লাহ রাসুলের ওপর জুলুম করেছে। আল্লাহ-রাসুলকে অবমাননা করেছে মওদুদী। জামায়াত তার আদর্শ লালন করছে। জামায়াত-শিবির কোন রাজনৈতিক দল নয়, তারা সন্ত্রাসী ও উগ্রবাদী সংগঠন। আল্লাহ ও  রাসুলকে অবমাননা করে তারাই আজ বড় নাস্তিক ও মুরতাদে পরিণত হয়েছে। তাই তাদেরকেও প্রতিহত করতে হবে। জামায়াত-শিবিরকে উদ্দেশ্য করে ফরিদ উদ্দিন মাসউদ বলেন, আমরা আদবের সঙ্গে বলতে চাই, তওবা করে সঠিক পথে আসুন। আল্লাহ ক্ষমা করে দিলেও দিতে পারে। আর অন্যায়ের সঙ্গে থাকবেন না। তিনি বলেন, যারা ইসলামী ব্যাংকে একাউন্ট করেছেন তারা শয়তানকে সাহায্য করেছেন। তারা বিধর্মীদের সহায়তা করছেন। ইসলামী ব্যাংক ইসলামের কথা বলে সুদ খায়, ঘুষ দেয়। ইসলামী ব্যাংকে যারা টাকা রাখেন তারা জাহান্নামে পুড়ে মরবেন। আমি তাদের বলবো ইসলামী ব্যাংক থেকে একাউন্ট তুলে নেন।

মাওলানা মাসউদ বলেন, ইসলাম কোন ধর্মের অবমাননা সহ্য করে না। সরকার ব্লগের অবমাননার বিচার করতে কমিটি করেছে। আমরা সাধুবাদ জানাই। তবে যাদের দিয়ে কমিটি করা হয়েছে তারা এ বিষয়ে সঠিক জ্ঞান রাখেন না। তারা কি করে বুঝবেন ব্লগে অবমাননা করা হয়েছে। তিনি বলেন, সুষ্ঠুভাবে বিচার করতে হলে আলীয়া মাদরাসা, কওমী মাদরাসা ও পীর-মাশায়েখদের প্রতিনিধিদের সংযুক্ত করতে হবে। তবেই প্রকৃত বিচার সম্ভব হবে। মওলানা মাসউদ বলেন, সরকারের অন্যতম দু’টি ওয়াদা ছিল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা।  যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে কোন রকম টালবাহনা বরদাশত করা হবে না।

সকাল ১১টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত চলার কথা ছিল সমাবেশ। কিন্তু শুরু হয়েছে ২টায়। বেলা আড়াইটার দিকে পুলিশ পাহারায় একটি সাদা মাইক্রোবাসে চড়ে সমাবেশস্থলে যান মাওলানা ফরিদ উদ্দিন। তখন মঞ্চ এবং এর আশপাশ মিলে আড়াই শ’ থেকে তিন শ’ লোকের সমাগম। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লোকজনের উপস্থিতি খানিকটা বাড়ে। ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কিছু কর্মী মিছিল নিয়ে সমাবেশে যোগ দেন। তবু শেষ পর্যন্ত হাজারের কোটা অতিক্রম করেনি।

বিরোধীপক্ষের অপপ্রচার আর হুমকি-ধমকির কারণে লোকজন আসেনি বলে মন্তব্য করেন মাসউদের ঘনিষ্ঠ লোকজন। তারা বলেন, মহাসমাবেশ না বলে দোয়া মাহফিল অথবা প্রেসিডেন্টের মৃত্যুতে শোকসভা বললে ভাল  হতো। একই রকম মন্তব্য করলেন আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্বে নিয়োজিত মতিঝিল থানার ওসি হায়াতুজ্জামান। তিনি বলেন, মহাসমাবেশ নয়-দোয়া মাহফিল করলেই উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্য সফল হতো। সমাবেশ দেখতে গিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান এটিএম গোলাম মাওলা চৌধুরীসহ অনেক পথচারী ও উৎসুক জনতা। তারা  বলেন, গুটিকয়েক লোকের জন্য এভাবে রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র অচল করে রাখার কোন মানে হয় না।

বেলা তিনটার দিকে মহাসমাবেশ লেখা ব্যানারের ওপর কালো কাপড়ে লেখা দোয়া মাহফিলের ব্যানার লাগানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু আকার ছোট হওয়ায় ওই ব্যানার মঞ্চের সামনে ঝুলিয়ে দেয়া হয়। সমাবেশের উপস্থিতি দেখে হতাশ হন উদ্যোক্তাদের অনেকেই। তারা বলেন, বিরোধী আলেমদের প্ররোচনায় অনেকেই আসেননি। তারপরও মাওলানা মাসউদ তার বক্তৃতায় লাখ লাখ লোকের উপস্থিতির দাবি করেন।

Advertisements

আলোচনা

কোন মন্তব্য নেই এখনও

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

হেফাজতে ইসলামের খবর

https://banglargangai.wordpress.com/wp-admin/widgets.php#available-widgets

ফরহাদ মজহারের কলাম

Join 253 other followers