এখন পড়ছেন
মামলা

তিন লাখ আসামির মধ্যে মৃত ব্যক্তিও আছেন

মামলা-গ্রেফতার৫ নভেম্বর রাজধানীর মতিঝিলে পুলিশের ওপর  হামলা থেকে ১৯ মার্চ পর্যন্ত দেশজুড়ে চলা সহিংসতার ঘটনায় ৩৬০টি মামলা করেছে পুলিশ। এসব মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয় তিন লাখেরও বেশি লোককে। নাম উল্লেখ করা আসামির সংখ্যা পাঁচ হাজারের মতো। পুলিশ সদর দপ্তরের সূত্রে প্রথম আলো জানায়, এসব মামলায় এ পর্যন্ত দুই হাজারের কিছু বেশি লোককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সম্প্রতি এইসব মামলাকে কেন্দ্র করে নিরপরাধ লোককে হয়রানি ও টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি দশ বছর আগে মারা যাওয়া ব্যক্তিকে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের মামলায় আসামি করা হয়েছে।

মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের দায়ে জামায়াতের নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর ২৮ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে নিহত হয় চার পুলিশ। সেদিন সুন্দরগঞ্জ সদরে সহিংসতায় নিহত হন আরও চারজন। এসব ঘটনায় জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে ২৮টি মামলা হয়। এক হাজার ৩৬৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫৯ হাজার ৮৪৫ জনকে মামলাগুলোয় আসামি করা হয়। ২১ দিনে সেখানে গ্রেফতার হয়েছে ৬০ জন। এদের মধ্যে জামায়াত-শিবিরের এক হাজার ১০০ জন নেতা-কর্মী বলে পুলিশ দাবি করেছে। গ্রেফতার হওয়া সবাই কারাগারে রয়েছেন। এই সহিংসতার মামলা ছাড়াও ৫ নভেম্বর থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশে বিভিন্ন মামলায় ১৬ হাজার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

অন্যদিকে দৈনিক নয়া দিগন্ত জানায়, গত কয়েক সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে জামায়াত-শিবির ও বিএনপির নেতাকর্মীসহ প্রায় ৪০ হাজার লোককে গ্রেফতার করা হয়েছে। সহিংস ঘটনায় রাজধানীসহ সারা দেশে দুই শতাধিক মামলা হয়েছে। এসব মামলায় দুই লক্ষাধিক মানুষকে আসামি করে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা করেছে পুলিশ। গত কয়েক সপ্তাহের সহিংসতায় সারা দেশে প্রায় ২০০ লোক নিহত হয়েছেন। অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর, লুটতরাজ, সঙ্ঘাত ও সংঘর্ষে পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করছে। মামলা ও পুলিশের ভয়ে কোনো কোনো এলাকা জনশূন্য হয়ে পড়ছে। মামলাকে কেন্দ্র করে পুলিশও চালাচ্ছে গণগ্রেফতার। এ নিয়ে পুলিশ বিভিন্নমুখী রমরমা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার রায় ঘোষণার পর সারা দেশের বিভিন্ন জেলায় আন্দোলনের পর সরকারের শীর্ষপর্যায় থেকে গ্রাম, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের তালিকা তৈরির ঘোষণা দেয়া হয়। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে সরকারদলীয় সংগঠনের সহায়তায় পুলিশ নির্বিচারে আটক ও গ্রেফতারবাণিজ্য শুরু করে। বিভিন্ন থানা পুলিশ সাধারণ মানুষকে গ্রেফতার করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। এ টাকার ভাগ পেয়েছেন পুলিশের পাশাপাশি সরকারদলীয় সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী। কোথাও ভাঙচুর বা গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটলেই সংশ্লিষ্ট বিরোধী দলের তালিকাভুক্ত নেতাকর্মী ছাড়াও বিত্তশালীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। বেশির ভাগ থানায় মামলার এজাহারে নাম উল্লেখের পাশাপাশি ‘অজ্ঞাত’ আসামি করা হয়েছে। ওই ‘অজ্ঞাতদের’ ভয় দেখিয়েই ধনাঢ্য ব্যক্তিদের টার্গেট করে টাকা আদায় করা হচ্ছে।

পুলিশের আইজি হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেন, গণগ্রেফতার বা গণহারে মামলা দেয়ার অভিযোগ ঢালাওভাবে সত্য নয়। পুলিশ বাহিনী একটি বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান। সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। কোনো পুলিশ যদি অনিয়ম করে থাকে এবং সেই ব্যাপারে ক্ষতিগ্রস্ত কেউ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনেন, তবে পুলিশ বাহিনী সে বিষয়ে তদন্তের উদ্যোগ নেবে।

বিনা কারণে মামলা দিয়ে হয়রানি করার কথা অস্বীকার করেন পুলিশপ্রধান।

এদিকে গণগ্রেফতারে দেশের কারাগারগুলোতে তিল ধারণের ঠাঁই নেই।  দেশের কারাগারে ধারণ ক্ষমতা রয়েছে ৭৮ হাজার ৯৯১ জন বন্দীর। কিন্তু বর্তমানে এক লাখ ৫৮ হাজারের বেশি বন্দী রয়েছেন। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ধারণ মতা দুই হাজার ৭০০ জনের, কিন্তু বর্তমানে সেখানে ১২ হাজার ১০০ জনের বেশি কারাবন্দী রাখা হয়েছে। ওই কারাগারে ৩০০ মহিলার ধারণ মতা থাকলেও বর্তমানে সাত শতাধিক মহিলাকে রাখা হয়েছে। এ চিত্র সারা দেশের কারাগারগুলোর। নতুন করে যোগ হয়েছে গণগ্রেফতার।

এ দিকে ঢালাও মামলা দিতে গিয়ে অনেক জায়গায় মৃত ব্যক্তিদের পুলিশ মামলা দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে। গত ১৮ ও ১৯ মার্চ ঢাকায় বিরোধী দলের হরতালে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় দায়ের করা মামলায় বিএনপি নেতা বাবুল আহমেদকে আসামি করা হয়; অথচ তিনি ২০০১ সালে মারা যান। একই মামলায় আবদুর রহমান বাদশাকে আসামি করা হয়েছে। বাদশা ৪৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ছিলেন। ২০০৯ সালে তিনি মারা গেলেও অগ্নিসংযোগের মামলায় পুলিশ তাকে আসামি করেছে।

Advertisements

আলোচনা

কোন মন্তব্য নেই এখনও

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

হেফাজতে ইসলামের খবর

https://banglargangai.wordpress.com/wp-admin/widgets.php#available-widgets

ফরহাদ মজহারের কলাম

Join 253 other followers