এখন পড়ছেন
খবর

বাঁধা দিলে সরকার পতনের আন্দোলন করবে হেফাজতে ইসলাম

p1-22আল্লাহ ও রাসূল সা:-এর প্রতি কটূক্তিকারী শাহবাগী নাস্তিক ব্লগারদের শাস্তি দাবি, আলেম-ওলামা ও মাদরাসা ছাত্রদের ওপর হামলা-মামলা এবং জামায়াত-শিবির দমনের নামে গণহত্যার প্রতিবাদে গতকাল বাদ জুমা সারা দেশে তৌহিদি জনতার ব্যানারে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে। গণজমায়েত ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে চট্টগ্রামের হাটহাজারীমহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। হাটহাজারীতে বক্তারা বলেন, জালিম সরকারের পতনে তৌহিদি জনতার ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের বিকল্প নেই। সমাবেশ থেকে ৫ এপ্রিলের মধ্যে নাস্তিকদের গ্রেফতার করা না হলে ৬ এপ্রিল ঢাকা অভিমুখে লংমার্চ করে সরকার পতনের আন্দোলন ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ার করে দেন বক্তারা।

এদিকে কড়া পাহারার মধ্যে আশুলিয়ার ফ্যান্টাসী কিংডমের সামনে গতকাল জাগরণ মঞ্চের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে বৃগস্পতিবার সমাবেশটি প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছিল আশুলিয়া থানা হেফাজতে ইসলাম।

জুমার নামাজ শেষ হওয়ার সাথে সাথে হাটহাজারীর প্রতিটি মসজিদ থেকে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলে হেফাজতের কর্মী, সমর্থক ও সর্বস্তরের তৌহিদি জনতার দাবি ছিল- ব্লগার নাস্তিকদের ফাঁসি চাই, গণহত্যার বিচার চাই, নিরপরাধ আলেম-ওলামার মুক্তি চাই ইত্যাদি। উপজেলার সবচেয়ে বড় মিছিল ও মিছিলোত্তর সমাবেশটি হয় হাটহাজারী বাসস্ট্যান্ড চত্বরে। সমাবেশে আগামী ৬ এপ্রিল দেশের ৬৮টি জেলা থেকে লংমার্চের মাধ্যমে ঢাকা ঘেরাও কর্মসূচি পালনের প্রত্যয় ঘোষণা করা হয়। হাটহাজারী ডাকবাংলো থেকে শুরু হয়ে বাসস্ট্যান্ড চত্বরে এসে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ইসলামী ঐক্যজোট চট্টগ্রাম উত্তর জেলা সেক্রেটারি ও হেফাজতে ইসলাম নেতা মাওলানা নাছির উদ্দিন মুনির। হেফাজতে ইসলামের উপজেলা শাখা সেক্রেটারি মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়জীর সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন খেলাফত আন্দোলন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আহবায়ক মাওলানা মীর ইদ্রিস। মাওলানা জাহাঙ্গীর মেহেদীর সঞ্চালনে আরও বক্তব্য রাখেন মুফতি হাবিবুর রহমান, হেফাজতে ইসলাম হাটহাজারী উপজেলা সভাপতি মাওলানা মাহমুদ হাসান, মাওলানা কামরুল ইসলাম, মাসিক মুঈনুল ইসলামের নির্বাহী সম্পাদক মাওলানা মুনির আহ্মদ, মাওলানা শফিউল আলম, মাওলানা জামাল উদ্দিন, নুর মোহাম্মদ, আতিকুর রহমান, মো: সেলিম রেজা, মাওলানা ইব্রাহীম খলীল সিকদার, মুহাম্মদ রাশেদ আলম, মাওলানা লোকমান আলী, মাওলানা আবুল হাসেম প্রমুখ।

অবিলম্বে আল্লাহ্, রাসূল সা: ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে কুৎসারোধে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে জাতীয় সংসদে আইন পাস এবং এই আইনের আওতায় রাসূল সা: ও ইসলাম অবমাননাকারী ব্লগারদের গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দের দাবি জানান হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দ। সমাবেশে হেফাজতে ইসলাম নেতৃবৃন্দ আল্লাহ, রাসূল সা: এবং ইসলামের বিভিন্ন বিধিবিধান নিয়ে কটূক্তিকারী নাস্তিক ব্লগারদের ফাঁসি দাবি, মসজিদ, মাদ্রাসা, আলেম-ওলামা ও মাদ্রাসা ছাত্রদের ওপর বিভিন্ন স্থানে হামলা-মামলা ও দমন-পীড়ন বন্ধ, উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণীর ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষার বইয়ে ভয়াবহ ধর্ম অবমাননা এবং প্রতিবাদী ধর্মপ্রাণ আলেম-ওলামা ও জনসাধারণের ওপর দমন-পীড়ন ও হয়রানি বন্ধের দাবি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন।

সমাবেশে আল্লামা হবীবুর রহমান কাসেমী বলেন, সরকারের প্রত্যক্ষ ইন্ধনে চিহ্নিত নাস্তিক-মুরতাদরা এ দেশের বিশাল মুসলিম জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ সা:, পবিত্র কুরআন, ইসলাম ধর্ম ও ইসলামের রীতিনীতি নিয়ে মিথ্যা, বানোয়াট, অশ্লীল ও উদ্ভট কল্পকাহিনী প্রচার এবং সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত ও পথভ্রষ্ট করার জঘন্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। দেশে বর্তমানে ভয়াবহ ইসলাম অবমাননা চলছে। স্কুলের নবম-দশম শ্রেণীর ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা বইয়ে দেব-দেবীর নামে উৎসর্গকৃত পশুর গোশত খাওয়া হালাল বলে রাষ্ট্রীয়ভাবে ভয়াবহ ইসলাম অবমাননা করা হচ্ছে। এই জালিম সরকারের অধীনে ইসলাম, মুসলমান এবং দেশের সাধারণ নাগরিক নিরাপদ নয়। তিনি অবিলম্বে আল্লাহ, রাসূল সা: ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে কুৎসারোধে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে জাতীয় সংসদে আইন পাস এবং এই আইনের আওতায় রাসূল সা: ও ইসলাম অবমাননাকারী ব্লগারদের গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দের দাবি জানিয়ে বলেন, রাসূল সা:-এর জঘন্য কুৎসাকারী এসব নাস্তিকের শাস্তির ব্যাপারে সরকার জরুরি পদক্ষেপ না নিলে তৌহিদি জনতার শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ক্রমান্বয়ে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেবে।

মীর মুহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবির আড়ালে মূলত শাহবাগী নাস্তিকরা কথিত প্রজন্ম মঞ্চকে ইসলাম-বিরুদ্ধাচরণের প্লাটফরমে পরিণত করেছে। বর্তমানে শাহবাগী নাস্তিকরা ইসলামের বিরুদ্ধে ভয়াবহ কুৎসা রটিয়ে মারাত্মকভাবে ইসলাম ধর্ম ও মুসলমানদের অবমাননা শুরু করেছে। সরকার এদের এই অপতৎপরতা বন্ধ করা তো দূরের কথা, বরং রাষ্ট্রীয় শক্তিকে নাস্তিকদের রক্ষায় নিয়োজিত করে আলেম-ওলামা ও মুসলমানদের ওপর ভয়াবহ দমন-পীড়ন চালাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ওলামা সম্মেলন ও তাফসির মাহফিলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরওপ করে ইসলামবিরোধী অবস্থান নিয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, শুধু চট্টগ্রামে নয়, কোটি কোটি তৌহিদি জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ইসলামের দুশমনদের এই দেশ থেকে বিতাড়িত করবে।

হেফাজতে ইসলাম নেতা জাকারিয়া নোমান ফয়জী বলেন, অবিলম্বে নাস্তিক-মুরতাদদের সব অপতৎপরতা বন্ধ করে দোষীদের কঠোর শাস্তির পদক্ষেপ এবং গণহত্যা ও জুলুম-অত্যাচার বন্ধ না করলে এই সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত তৌহিদি জনতার দুর্বার প্রতিবাদ-আন্দোলন শত জুলুম চালিয়েও থামানো যাবে না।

রাজশাহীতে শহীদী কাফেলা

রাসূল (স.) সম্পর্কে কটূক্তি ও ইসলাম অবমাননার প্রতিবাদ এবং নাস্তিক ব্লগারদের শাস্তির দাবিতে রাজশাহীতে মিছিল ও সমাবেশ করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।

গতকাল বাদ জুমা হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের রাজশাহী শাখার উদ্যোগে নগরীর সোনাদীঘি মোড় জামে মসজিদের সামনে থেকে  মিছিল বের হয়। মিছিলটি নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদণি করে মালোপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির সামনে গিয়ে শেষ হয়। এতে নেতৃত্ব দেন হেফাজতে ইসলাম রাজশাহী শাখার আহবায়ক মাওলানা আব্দুস ছামাদ, যুগ্ম আহবায়ক ও জামিয়া রহমানিয়ার অধ্য মাওলানা আব্দুল জাব্বার।

এর আগে সোনাদীঘি জামে মসজিদ চত্বরে এক সংপ্তি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন নগরীর লক্ষ্মীপুর চৌরঙ্গী জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, আলীগঞ্জ বাথানপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা গোলাম ফারুক, মাওলানা হাফিজুর রহমান প্রমুখ। তারা বলেন, নাস্তিক-ধর্মদ্রোহী ব্লাগরদের উত্তরাঞ্চলে প্রবেশ যেকোনো মূল্যে প্রতিহত করা হবে। প্রয়োজনে উত্তরাঞ্চলের প্রবেশমুখ যমুনা সেতুতে তাদের প্রতিহত করা হবে। এ জন্য বদরের যুদ্ধের মতো ৩১৩ জনের শহীদী কাফেলা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

তারা আরও বলেন, যেদিন তারা রাজশাহীতে সমাবেশের ঘোষণা দেবে সেই দিন থেকেই রাজশাহীতে হরতালের ডাক দেয়া হবে। একই সাথে শনিবারের মধ্যে রাজশাহীতে আটক ইমামগণসহ সব মুসল্লির নিঃশর্ত মুক্তি দাবি জানান। অন্যথায়, রোববার সকালে নগরীর সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে মানববন্ধনসহ পরে কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেয়া হবে বলে উল্লেখ করেন তারা।

এ দিকে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সকাল থেকেই নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বাড়ানো হয় গোয়েন্দা নজরদারি।

খুলনায় নামাজ শেষে মুসল্লিদের বাড়ি ফিরে যেতে বলে পুলিশ

শুক্রবার বাদ জুমা নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার দারুস সালাম জামে মসজিদের সামনে খুলনা-সাতীরা মহাসড়কে হেফাজতে ইসলামের উদ্যোগে সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলে নেতৃত্ব দেন মাওলানা এমদাদুল হক, ওলিউল্লাহ আরমান, আব্দুল্লাহ জুবায়ের, হাফেজ মো: ওয়াহিদুজ্জামান, হাফেজ শফিকুর রহমান, এমদাদুল্লাহ আজমি ডালিম প্রমুখ।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, বর্তমান সরকার শাহবাগীদের লেলিয়ে দিয়ে ইসলাম ও মুসলমানদের ঈমানের ওপর আঘাত হানছে। সুতরাং সরকার ও শাহবাগীদের ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দেশের তৌহিদি জনতাকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। সরকার মতায় আসার আগে জনগণের যেসব ওয়াদা করেছিল তার কিছুই বাস্তবায়ন না করে এখন ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। দেশের প্রখ্যাত আলেম-ওলামাদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের কুৎসা রটিয়ে তাদেরকে নাজেহাল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। ব্লগারদের সাথে আলেম-ওলামাদের কোনো আলাপ আলোচনা হতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের ধ্বংস না করে আমরা ঘরে ফিরে যাবো না।

এ দিকে গত কয়েকটি জুমার মতো গতকালও নগরীর ইসলামপুর জামে মসজিদ, ডাকবাংলো জামে মসজিদ, বায়তুন নূর জামে মসজিদ, মতি মসজিদসহ বিভিন্ন মসজিদের সামনে সকাল থেকে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়। কেএমপির সদর দফতরের সামনে পুলিশের রায়টকার ও জলকামান ছিল প্রস্তুত। সাধারণ মুসল্লিবেশে গোয়েন্দারা ছিলেন সক্রিয়। নামাজ শেষ হওয়ার সাথে সাথে মুসল্লিদেরকে বাড়ি ফিরে যেতে ঘোষণা দিয়ে বাধ্য করে পুলিশ। নগরীর কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছেন খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহবুদ্দিন আজাদ।

ব্লগারদের পদ্মার এপাড়ে আসতে দেয়া হবে না

নাস্তিক ব্লগারদের শাস্তির দাবিতে গতকাল বাদ জুমা বরিশাল নগরীর প্রায় প্রতিটি মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেছে তৌহিদি জনতা।

নগরীর জামে কসাই মসজিদ থেকে বের হওয়া মিছিলটি গির্জামহল্লা ও চকবাজারে দুই দফা পুলিশি বাধার মুখে পড়ে। বাজার রোড হাটখোলা বায়তুল মোকাদ্দাস জামে মসজিদসহ আরও বেশ কয়েকটি মসজিদের মুসল্লিরা মিছিল নিয়ে একত্র হয়ে সমাবেশ করেন নগরীর সোনালী আইসক্রিম মোড়ে। সেখানকার সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাজার রোড খাজা মঈনউদ্দিন মাদরাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মাওলানা গোলাম মোস্তফা। বক্তব্য রাখেন মাওলানা তৈয়ব কাসেমী, মুফতি সুলতান মাহমুদ, মাওলানা দেলোয়ার হোসেন, মুফতি আশরাফ আলী, মুফতি আবদুল্লাহ, অধ্যাপক আবুল কাশেম শাজাহান প্রমুখ।

এ ছাড়াও নগরীর উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন মসজিদ থেকে বের হওয়া মুসল্লিরা সমাবেশ করেন আমানতগঞ্জ টিবি স্কুল মোড়ে। এতে সভাপতিত্ব করেন হেফাজতে ইসলামের বরিশাল বিভাগীয় আহবায়ক মাওলানা ওবায়দুর রহমান মাহবুব। বক্তব্য রাখেন মাওলানা আবদুল হালিম, শায়খ সানাউল্যাহ মাহমুদী, মাওলানা আবদুর রহমান, মাওলানা জামাল উদ্দিন ফারুকী প্রমুখ।

দেব-দেবীর নামে জবাইকৃত পশু হালাল, রাসূল সা: কে ধর্মনিরপে আখ্যা দেয়া, মহাজোট সরকারকে মদিনার সরকারের সাথে তুলনা করা, বিতর্কিত ব্লগগুলো বন্ধ ও নাস্তিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করা, বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট বন্ধ রাখা, প্রজন্ম মঞ্চ উচ্ছেদ না করা, প্রতিবাদী ওলামা ও জনতার ওপর হামলা মামলা ও গণহত্যার প্রতিবাদে এসব বিােভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশগুলো থেকে দেশের সব নাস্তিক ব্লগারদের বরিশাল বিভাগে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। বক্তারা বলেন, শাহবাগে আন্দোলনকারী নাস্তিক ব্লগাররা বরিশালে আসতে চাইলে দক্ষিণাঞ্চলের লাখ লাখ তৌহিদি জনতা জীবন দিয়ে তাদের প্রতিরোধ করবে। তাদের কোনোক্রমেই পদ্মার এপাড়ে আসতে দেয়া হবে না। আগামী ২২ ও ২৩ মার্চ বরিশাল বিভাগীয় কওমি মাদ্রাসা ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে নগরীর কে বি হেমায়েত উদ্দিন ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিতব্য ইসলামি মহাসম্মেলনে যোগ দেয়ার জন্য সর্বস্তরের তৌহিদি জনতাকে আহ্বান জানানো হয়। একই সাথে আগামী ৬ এপ্রিল হেফাজতে ইসলামের আয়োজনে ঢাকা অভিমুখী লংমার্চ সফল করার আমন্ত্রণ জানান বক্তারা। সমাবেশগুলোতে হাজার হাজার তৌহিদি জনতার ঢল নামে।

সংবিধানে ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক বিষয়গুলো সংশোধন করতে হবে

সিলেটের ওলামা-মাশায়েখরা অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের সাথে মতবিনিময়কালে বলেছেন, ইসলাম ও হজরত মোহাম্মদ সা:কে নিয়ে কটূক্তিকারী নাস্তিক ব্লগারদের শাস্তি ও গ্রেফতার এবং সংবিধানে ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক বিষয়গুলো সংশোধন করতে হবে।

গতকাল দুপুরে সিলেট সার্কিট হাউজে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের সাথে মতবিনিময়কালে ওলামা-মাশায়েখরা এ কথা বলেন।

ওলামা-মাশায়েখদের বক্তব্যের জবাবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুুল মুহিত বলেন, ইসলামের খেদমতকারী প্রকৃত আলেম-ওলামাদের সাথে আওয়ামী লীগের সম্পর্ক সবসময় ভালো ছিল, এখনো আছে।

মতবিনিময়কালে উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক আবদুজ জহির চৌধুরী সুফিয়ান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী এমপি, মহানগর পুলিশ কমিশনার নিবাস চন্দ্র মাঝি, জেলা প্রশাসক খান মো: বিলাল, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ প্রমুখ। ওলামা-মাখায়েখদের পে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা শফিকুল হক আমকুনী, মাওলানা আবদুল বাছিত বরকতপুরী, মাওলানা আলীম উদ্দিন দুর্লভপুরী, মাওলানা ইউসূফ হরিপুরী প্রমুখ।

নাস্তিক-ব্লগারদের ফাঁসি এবং সরকারের ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আহ্বানে গতকাল বাদ জুমা চট্টগ্রামের মসজিদে মসজিদে বিক্ষোভ হয়েছে।  চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ থেকে বের হয় সর্বস্তরের নবীপ্রেমিক তৌহিদি জনতার অংশগ্রহণে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল। আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদের উত্তর গেট চত্বরে মিছিলপূর্ব সমাবেশে হেফাজতে ইসলাম নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশ নবীপ্রেমিক তৌহিদি জনতার। এ দেশে কোনো নাস্তিক ধর্মদ্রোহীর স্থান নেই। কথিত গণজাগরণ মঞ্চের নাস্তিক-ব্লগারদের গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত মুসলমানেরা ঘরে ফিরে যাবে না। হজরত মুহাম্মদ সা:কে অবমাননাকারী ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতকারী ব্লগারদের তওবা করে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। ইসলাম ধর্মে নবী করিম সা:কে কটা করলে মুরতাদ হয়ে যায়। তারা বলেন, সারা দেশে নাস্তিকদের মুকাবেলায় ইসলামি জাগরণ শুরু হয়েছে। চট্টগ্রামের মানুষ নাস্তিক-ব্লগারদের নেতা ডা: ইমরানকে জুতা দেখিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছেন। বক্তারা বলেন, শাহবাগী নাস্তিক-ব্লগারেরা চট্টগ্রামে আসতে পারবে না, যখন আসবে, যে দিন আসবে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। নেতৃবৃন্দ বলেন, আমাদের এই আন্দোলন কোনো সুনির্দিষ্ট দলের বিরুদ্ধে নয়, সব নবীপ্রেমিক মানুষের জন্য। আওয়ামী লীগ-বিএনপি-জামায়াতের যেকোনো নবীপ্রেমিক মুসলমান আমাদের সাথে আসতে পারবেন।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মঈনুদ্দিন রুহির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামবাদী, সাহিত্য প্রশিণ সম্পাদক মুফতি হারুন ইজহার, অর্থ সম্পাদক মাওলানা ইলিয়াছ ওসমানী, হেফাজতে ইসলাম নেতা মাওলানা মিয়া শরিফ হোসাইন, মাওলানা হাফেজ ফয়সাল, মাওলানা আনোয়ার হোসেন রব্বানী, মাওলানা মোহাম্মদ ইউনুছ, মাওলানা হাবিবুল্লাহ, মাওলানা ইকবাল খলিল, মাওলানা এনামুল হক, মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ, মাওলানা আনোয়ার শাহ প্রমুখ।

মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, শাহবাগী নাস্তিক-ব্লগারেরা মহানবী, পবিত্র কুরআন, পর্দাসহ ইসলামের বিধানাবলি সম্পর্কে কটূক্তি করার যে দুঃসাহস করেছে, ৯০ ভাগ মুসলমানের এ দেশে আর কেউ কখনও করেনি। রাসূল সা:-এর পবিত্র চরিত্রের ওপর কালিমা লেপনকারী নাস্তিকদের খতম করতে হবে। তিনি বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের দেশের জাতীয় সংসদে মহানবী সা: ও ধর্ম অবমাননাকারীর মৃত্যদণ্ডের বিধান রেখে আইন পাস করতে হবে।

মাওলানা মুফতি হারুন ইজহার বলেন, পীর আউলিয়ার ভূমি চট্টগ্রামে নাস্তিকদের ঠাঁই নেই। এদের প্রতিরোধে পাড়ায়-মহল্লায় গণ-আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

সভাপতির ভাষণে মাওলানা মুঈনুদ্দিন রুহি বলেন, শাহবাগীরা দেশের সাম্প্রদায়িক উসকানি দিয়ে ধর্ম অবমাননা করে জনসাধারণের মাঝে সঙ্ঘাত সৃষ্টির চক্রান্ত করছে, যা সরকারকে বেকায়দায় ফেলার অপকৌশল। এদের তৎপরতা বন্ধ করে দেশকে অনিবার্য সঙ্ঘাত থেকে রা করার জন্য সরকারের নিকট আহ্বান জানান।

সমাবেশ শেষে লাখো জনতার এক বিশাল মিছিল নগরির বিভিন্ন সড়ক প্রদণি করে লালদীঘি চত্বরে এসে শেষ হয়। সমাবেশে আগামী ৬ এপ্রিল ঢাকা অভিমুখে লংমার্চ সফল করার জন্য দেশের সর্বস্তরের আলেম-ওলামা ও তৌহিদি জনতার প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

ভোলা সংবাদদাতা জানান, হেফাজতে ইসলামের মিছিলে বাধা দেয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভোলার দৌলতখানে মুসল্লিদের সাথে আওয়ামী লীগ কর্মীদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ হয়েছে। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে আটজনকে ভোলা ও দৌলতখান হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে দফায় দফায় হামলা, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনাটি উপজেলা সদরে জানাজানি হলে মুসল্লিরা মিছিল করে সৈয়দপুর ইউপি ভবন ঘেরাও করেন। এ সময় ইউপি চেয়ারম্যান ভবনের পেছনের দরজা দিয়ে চলে যান বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। দৌলতখান থানার ওসি মোবাশ্বের আলী জানান, পরিস্থিতি এখন শান্ত। ঘটনাস্থলে বিপুল পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

গাজীপুর সংবাদদাতা জানান, গাজীপুরের বিভিন্ন স্থানে বিােভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে যেকোনো মূল্যে গাজীপুরে ব্লগারদের ১৯ মার্চের সমাবেশ প্রতিহত করার ঘোষণা দেয়া হয়েছে এবং শাহবাগের নাস্তিক-ব্লগারদের গাজীপুরে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। পুলিশ ও র‌্যাবের কড়া নজরদারি সত্ত্বেও শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে এসব বিােভ মিছিল ও সমাবেশ হয়।

জানা গেছে, হেফাজতে ইসলাম গাজীপুর সদর উপজেলা শাখার উদ্যোগে গাজীপুরের পশ্চিম জয়দেবপুর জামে মসজিদ থেকে একটি বিােভ মিছিল বের হয়। হেফাজতে ইসলাম গাজীপুর সদর উপজেলার আহ্বায়ক মুফতি নাছির উদ্দিনের নেতৃত্বে মিছিলটি জয়দেবপুর শহর এলাকা প্রদণি করে শহরের শিববাড়ি মোড় এলাকায় একটি প্রতিবাদ সমাশে করে। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন গাজীপুর জেলা পরিষদ মসজিদের খতিব মাওলানা হাবিবুর রহমান নিয়াজী, ডা: রমজান আলী, মাওলানা জাকারিয়া, মুফতি শফিকুল্লাহ, মুফতি আব্দুল মান্নান, মাওলানা আবু বক্কর, মাওলানা আব্দুল্লাহ প্রমুখ। এ সময় বক্তারা বলেন, আগামী ১৯ মার্চ শাহবাগের নাস্তিক-ব্লগার চক্রের নেতা ইমরান এইচ সরকার গাজীপুরের সমাবেশ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। যেকোনো মূল্যে গাজীপুরের ইসলামপ্রিয় জনতা এ সমাবেশ প্রতিহত করবেন। টঙ্গীর তুরাগ নদী পার হয়ে শাহবাগের নাস্তিক-ব্লগারদের গাজীপুরে আসতে দেয়া হবে না বলে ঘোষণা দেয়া হয়।

টঙ্গী সংবাদদাতা জানান, হেফাজতে ইসলাম গতকাল বাদ জুমা টঙ্গীতে এক বিশাল বিােভ মিছিল বের করে। মিছিলটি ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক প্রদণি শেষে টঙ্গী প্রেস কাবের সামনে এক বিােভ সমাবেশ করে। মুফতি মাসুদুল করিমের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেনÑ মাওলানা মুফতি শাহ্ মোহাম্মদ হাফিজ উদ্দিন নূরী, মাওলানা মোসাদ্দেক, মাওলানা আবু বকর, মাওলানা আবদুল মালেক জামালী, মাওলানা শামীম আহমেদ কাসমী, মাওলানা হোসাইন আহমেদ, মাওলানা মিসবাহ উদ্দিন নূরী, মাওলানা ইকবাল হোসেন, মাওলানা বাকিবিল্লাহ, মাওলানা রিয়াজুল ইসলাম, মাওলানা মোসাদ্দিকুর রহমান, মাওলানা আমির হোসেন, হাফেজ মাওলানা হালিম উদ্দিন প্রমুখ।

নাস্তিক ইমরান আসতে চাইলে যশোর অচল করে দেয়া হবে

যশোরে হেফাজতে ইসলামের বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশে শাহবাগ আন্দোলনের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে বক্তারা বলেছেন, নাস্তিক ইমরান যশোরে আসতে চাইলে যশোর অচল করে দেয়া হবে। কাফনের কাপড় মাথায় বেঁধে শাহবাগী নাস্তিকদের যশোরে মোকাবেলা করা হবে। সরকার যদি আলেমদের আন্দোলনের পরও শাস্তির ব্যবস্থা না করে কুরআন ও মহানবী সা:কে নিয়ে কটূক্তিকারী নাস্তিক ব্লগারদের তাদের পক্ষ অবলম্বন করে তবে সরকারের শেষ রক্ষা হবে না। আলেম-ওলামা ও তৌহিদি জনতাকে সাথে নিয়ে সরকার পতনের আন্দোলন করা হবে। এ ছাড়া নাস্তিক ইমরানদের দেশত্যাগে বাধ্য করা হবে। গতকাল বাদ জুমা যশোর শহরের দড়াটানা ভৈরব চত্বরে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা এ কথা বলেন।

হেফাজতে ইসলামের জেলা শাখার আহ্বায়ক মাওলানা আনোয়ারুল করিম যশোরীর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের জেলা শাখার সদস্যসচিব মাওলানা আবদুল মান্নান, অন্যতম নেতা রফিকুল ইসলাম, মাওলানা হারুনুর রশিদ কাসেমী, মাওলানা নাসিরুল্লাহ, মাওলানা বেলায়েত হোসেন, মুফতি ফোরকান আহমেদ, মাওলানা নাজীর উদ্দিন ও হাফেজ আবুল খয়ের প্রমুখ।

জুমার নামাজের পর সভাবেশ স্থলে আসতে শুরু করে ধর্মপ্রাণ তৌহিদি জনতা ও আলেম-ওলামারা। হাজার হাজার মানুষ সমাবেত হন এ বিক্ষোভ সমাবেশে।

সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, ইমরান এইচ সরকার যশোরে আসবে বলে শোনা যাচ্ছে। যদি তিনি যশোরে আসা দূরে থাক, ইচ্ছা পোষণ করলে অচল করে দেয়া হবে যশোর। ধর্মপ্রাণ মানুষের শেষ রক্তবিন্দু থাকা পর্যন্ত শাহবাগী নাস্তিকেরা যশোরে প্রবেশ করতে পারবে না।

ইমরান এইচ সরকারের সহযোগী তফছিরকে সরাইলে অবাঞ্ছিত ঘোষণা

শাহবাগ গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র (আহ্বায়ক) ডা: ইমরান এইচ সরকারসহ তার সহযোগীদের বিচারের দাবিতে গতকাল বাদ জুমা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল করেছে তৌহিদি জনতা। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে।

বিক্ষুব্ধ তৌহিদি জনতা শাহবাগ আন্দোলনের আহ্বায়ক ইমরান এইচ সরকারের প্রধান সহযোগী জাসদ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হুসাইন আহমেদ তফছিরকে সরাইলে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জুমা নামাজের পর উপজেলার বিভিন্ন পাড়া মহল্লা থেকে ব্যানার ফেস্টুন সহকারে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে হেফাজতে ইসলামের ব্যানারে তৌহিদি জনতা মহাসড়ক অবরোধ করে। মালিহাতা মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে মহাসড়কে বিক্ষোভ মিছিল শেষে তারা সরাইল বিশ্বরোড মোড় এলাকায় সভায় মিলিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেনÑ মাওলানা উবায়দুল্লাহ, জুনায়েদ আল হাবিব, আমান উল্লাহ, বোরহান উদ্দিন, কুতুব উদ্দিন প্রমুখ।

যমুনা সেতু পার হলে কাফনের কাপড় পরে প্রতিরোধ

গতকাল বাদ জুমা বগুড়ায় হেফাজতে ইসলাম আয়োজিত সমাবেশে ওলামা-মাশায়েখরা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, নাস্তিক-ব্লগারদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে ফাঁসি দিতে হবে। নইলে কঠোর আন্দোলন শুরু করা হবে। তারা যদি বগুড়ায় আসতে চায় তাহলে যমুনা সেতুর পশ্চিম পাশেই কাফনের কাপড় পরনে নিয়ে মোকাবেলা করা হবে। কোনো নাস্তিককে বরদাস্ত করা হবে না। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে জুমার নামাজ শেষে শহরের কলোনির জেলা কার্যালয় থেকে একটি বিােভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি শহরের ইয়াকুবিয়া স্কুল মোড়ে পৌঁছলে পুলিশ বাধা দেয়। তখন সেখানেই এক সমাবেশ জেলা আহ্বায়ক হজরত মাওলানা আছাফুদ্দৌলার (মোকাররম) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলা সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার শামছুল হক, মাওলানা সুলতান আহমদ, মাওলানা আবদুল ওয়াহেদ বক্তব্য রাখেন। হেফাজতে ইসলামের মিছিল সমাবেশ ঘিরে প্রশাসন কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

এ দিকে বগুড়ার ওলামায়ে কেরামদের নিয়ে হেফাজতে ইসলাম বগুড়া জেলা শাখার কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত ১৪ মার্চ সংগঠনের অস্থায়ী কার্যালয় শহরের কলোনিতে এক সভায় ১৮ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির কর্মকর্তারা হলেন- আহ্বায়ক হজরত মাওলানা আছাফুদ্দৌলা মোকাররম, যুগ্ম আহ্বায়ক মাওলানা ফজলুল করিম, মাওলানা গোলাম কিবরিয়া, সদস্যসচিব ইঞ্জিনিয়ার শামছুল হক, সদস্য মাওলানা আবদুল মতিন, মুফতি মাওলানা আবদুল ওয়াহেদ, হাফেজ মাওলানা মুজাহিদুল ইসলাম, আবদুর রহমান মকিমপুরী, মোখলেছুর রহমান, মাসউদুর রহমান, হাবিবুর রহমান, আবদুল হামিদ, আবদুল জোববার, আবদুল বাতেন, মনসুরুল হক, সিরাজুল ইসলাম, ইদ্রিস আলী ও আবদুল আজিজ।

এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

Advertisements

আলোচনা

কোন মন্তব্য নেই এখনও

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

হেফাজতে ইসলামের খবর

https://banglargangai.wordpress.com/wp-admin/widgets.php#available-widgets

ফরহাদ মজহারের কলাম

Join 253 other followers