এখন পড়ছেন
খবর

বৃটেনের ইকোনমিস্ট বলছে -‘বাংলাদেশে সহিংসতা, বিভক্ত জাতি’

বৃটেনের প্রভাবশালী ম্যাগাজিন ইকোনমিস্ট ০৯ মার্চ শনিবার  ছাপা সংস্করণে ‘বাংলাদেশে সহিংসতা, বিভক্ত জাতি’ (আনরেস্ট ইন বাংলাদেশ, এ নেশন ডিভাইডেড) শিরোনামের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

the-economistসেখানে বলা হয়, ত্রুটিপূর্ণ ট্রাইব্যুনাল বাংলাদেশের পুরনো ক্ষতকে জাগিয়ে তুলছে এবং দেশের ভবিষ্যতকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারের রায়ে দেশটিতে ব্যাপক রাজনৈতিক সহিংসতা সৃষ্টি হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের জন্মের সময় দেশটি যে ভীতিকর অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছিল এই বিচারের মাধ্যমে সেটা প্রশমিত হবে বলে মনে করেছিল অনেক মহল। কিন্তু আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল গত ৪২ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ রাজনৈতিক সহিংসতার জন্ম দিয়েছে। প্রকৃতপক্ষে পাকিস্তানের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জনের সময় নৃশংসতার সাথে জড়িতদের বিচার স্থানীয়ভাবে গঠিত এই ট্রাইব্যুনালে করা হচ্ছে। বাংলাদেশের মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের দেয়া তথ্য অনুযায়ী গত ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ৭ মার্চের মধ্যে সহিংসতা নিয়ন্ত্রণের নামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ১০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। ট্রাইব্যুনাল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তৃতীয় রায় ঘোষণার পর কমপক্ষে ৬৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।

এতে বলা হয়, ট্রাইব্যুনালে ত্রুটি বিচ্যুতি থাকলে বিচার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নাও হতে পারে। অন্যদিকে বাংলাদেশের বিচার প্রক্রিয়ায় কোন ধরনের হস্তক্ষেপের চেষ্টা করা হলে তা আদালত অবমাননা বলে গণ্য হতে পারে।

এই রিপোর্ট মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদী সম্পর্কে বলছে, সাঈদী একজন ইসলামিক সুবক্তা। বাংলাদেশের অন্য যে কোন ধর্মীয় বক্তার চেয়ে তার বক্তৃতা শুনতে লোক সমাগম হয় বেশি। ওই রায়ের এক দিনের মধ্যেই পুলিশ এবং আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যদের গুলিতে কমপক্ষে ২৩ বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। ৩ মার্চ বগুড়ায় ১০ হাজারেরও বেশি জামায়াত সমর্থক লাঠিসোটা ও হাতে তৈরি বোমা নিয়ে থানা এবং সরকারি ভবনে হামলা করায় বগুড়া জেলায় সেনা মোতায়েন করা হয়েছিলো। চাঁদে সাঈদীর মুখ দেখা গেছে বলে ফেসবুকে গুজব ছড়িয়ে পড়েছিলো। অনেকে বিবেচনা করেছেন, তিনি নিরপরাধ এবং এটা তারই ইঙ্গিত। এ ঘটনা অনেক ধর্মীয় সমর্থককে তার প্রতি সহানুভূতিশীল করে তোলে।

যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে আরও সাতটি মামলার রায় এখনও বাকি। কয়েক মাসের মধ্যেই এগুলোর রায় ঘোষণা করা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। মামলার তালিকা অনুযায়ী পরবর্তী রায়ের জন্য অপেক্ষায় আছেন ১৯৭১ সালে জামায়াতের প্রধান গোলাম আযম। তার বিরুদ্ধে জামায়াতের ছাত্র সংগঠনের সদস্যদের মাধ্যমে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানপন্থী ডেথ স্কোয়াড গড়ে তোলার অভিযোগ আনা হয়েছে।

প্রসিকিউশন গোলাম আযমের মৃত্যুদণ্ড চাইছে। গত সপ্তাহে মামলার শুনানির শেষ দিনে তাকে এডলফ হিটলারের সাথে তুলনা করা হয়েছে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস ২৬ মার্চ তার বিচারের রায় ঘোষণা করা হতে পারে। বিবাদীরা যদি দোষী প্রমাণিত হন, তাহলে জামায়াতের সব নেতাকেই এ বছর ফাঁসিতে ঝোলানো হতে পারে।

এছাড়া, বাংলাদেশের মূল ধারার প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) দুই সদস্যের বিরুদ্ধেও একই ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে। গত ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সাঈদীর মামলার রায় দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিচারপতি নিজামুল হক ১১ ডিসেম্বর পদত্যাগ করায় সেই রায় প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়। বাংলাদেশে প্রকাশিত স্কাইপ কথোপকথনে বিচারক ও প্রসিকিউশনের মধ্যে মতবিরোধের বিষয়টি প্রকাশ পেয়ে যায় এবং দেখা যায় সরকারের অনুমতি ছাড়াই ব্রাসেলস ভিত্তিক আইনজীবী এতে জড়িয়ে গেছেন।

পুনর্গঠিত আদালত এ ঘটনায় পদক্ষেপ নেন এবং বিষয়টি নিয়ে সর্বসাধারনের আলোচনা নিষিদ্ধ করেন। সাঈদী ও অন্যদের পুনর্বিচারের আবেদনও খারিজ করে দেন।

অপরদিকে, সাঈদীর রায় ঘোষণাকারী তিন বিচারকের মধ্যে কেবল একজন সাক্ষ্য প্রমাণের কিছু অংশ শুনেছেন। অন্য দু’জন সাক্ষ্য প্রমাণের কিছুই শোনেন নি।

অথচ এ বিষয়গুলো ট্রাইব্যুনাল আইন অনুযায়ী বিচারকদের অধিকারের আওতার মধ্যেই পড়ে। কিন্তু এই ইঙ্গিতই জোরালো হয়ে দেখা দিচ্ছে যে, এ বছরের শেষের দিকে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের আগেই বিচারকাজ শেষ করার তাগিদ রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, টিকে থাকার জন্য জামায়াতের এই সহিংস লড়াইয়ে যে বিষয়টি সুষ্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে তা হলো ইসলামী মিত্রদের সাথে বিএনপির একীভূত থাকার সিদ্ধান্ত। এটা এখন পরিস্কার যে, ক্ষমতায় গেলে বিএনপি এ বিচারকে ব্যহত করবে।

বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া জামায়াত সমর্থকদের প্রাণহানির ঘটনাকে ‘গণহত্যা’ বলে উল্লেখ করেছেন। বাংলাদেশে এ শব্দটি কেবল পাকিস্তানিদের হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়ে থাকে। বিএনপি ও তার মিত্ররা শাহবাগের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকে ধর্মপ্রাণদের সাথে ইসলামবিরোধী শক্তির লড়াই হিসেবে বিবেচনা করছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপন্থী মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশে ধর্মনিরপেক্ষতার যে অঙ্কুরোদগম ঘটেছে, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে তা হুমকির মুখে পড়তে পারে। আর প্রতিবেশী দেশ ভারত চাইবে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে। দেশটির রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জী গত ৩ থেকে ৫ মার্চ ঢাকা সফর করেন। এ সময় জামায়াতের হরতাল থাকায় বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া হরতালের কথা বলে ভারতের রাষ্ট্রপতির সাথে সাক্ষাত বাতিল করেন যা বৈরিতার প্রকাশ ঘটায়।

দোষী সাব্যস্ত যুদ্ধাপরাধীর মৃত্যুদণ্ডের দাবিতে ঢাকার শাহবাগে হাজার হাজার মানুষের যে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল সেটা রাজনৈতিক লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। এটি এখন দেশে বিভাজন তৈরি করছে। বিক্ষোভকারীরা প্রাথমিকভাবে যুদ্ধাপরাধের বিচারের জবাবদিহি দাবি করেছিল। পরে তারা জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার দাবির পাশাপাশি জামায়াত সংশ্লিষ্টদের পরিচালিত ব্যাংক, ব্যবসায়িক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিষিদ্ধ করার দাবি তোলে। দাবি পরিবর্তনের কারণে সর্বস্তরের জনতা এমনকি রাজনৈতিক অঙ্গন থেকেও গণজাগরণের প্রতি ব্যাপক সমর্থন মিলেছে।

ঢাকায় বিদেশি কূটনীতিকরা সঠিক প্রক্রিয়ায় ট্রাইব্যুনালে বিচার সম্পন্ন করার এবং রাজপথে বিক্ষোভ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে তারা এও বলেছেন, এটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং এতে তাদের মাথা ঘামানোর কিছু নেই। যুক্তরাষ্ট্র এ ব্যাপারে একটু বেশি সংযত। কারণ, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় তারা পাকিস্তানের পক্ষাবলম্বন করেছিল। সৌদি আরবও এ ব্যাপারে নীরব রয়েছে। ভারত বাংলাদেশের সরকারকেই সমর্থন করছে। আর চীন এ ব্যাপারে কোন প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে না।

২০০৭ সালের জানুয়ারিতে বহির্বিশ্ব সামরিক বাহিনী সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে পরোক্ষ সমর্থন দিয়েছিল। বর্তমানে বিদেশীরা উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। কারণ, ট্রাইব্যুনালে ত্রুটি বিচ্যুতি থাকলে বিচার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নাও হতে পারে। অন্যদিকে বাংলাদেশের বিচার প্রক্রিয়ায় কোন ধরনের হস্তক্ষেপের চেষ্টা করা হলে তা আদালত অবমাননা বলে গণ্য হতে পারে।

সুত্র: পরিবর্তন.কম

Advertisements

আলোচনা

কোন মন্তব্য নেই এখনও

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

হেফাজতে ইসলামের খবর

https://banglargangai.wordpress.com/wp-admin/widgets.php#available-widgets

ফরহাদ মজহারের কলাম

Join 253 other followers