এখন পড়ছেন
খবর

দেবদেবীর নামে জবাই পশু হালাল: নতুন করে ক্ষোভ উস্কে দিচ্ছে

1st-32‘মৃত জন্তু, রক্ত, শুয়োরের গোশত এবং যে জন্তু আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে জবাই কিংবা উৎসর্গ করা হয়েছে, তা সবই তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে।…পূজার বেদীতে বলি দেয়া জন্তুও হারাম…।’ (সুরা আল মায়েদা: আয়াত ৩)

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) প্রণীত ‘ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা’ ২০১৩ সাল থেকে নবম-দশম শ্রেণীর জন্য পাঠ্য ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা বইয়ে ঠিক উল্টোটাই লেখা আছে। বইয়ের ৮২ পৃষ্ঠায় লেখা হয়েছে ‘দেবদেবীর বা আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নামে উৎসর্গকৃত পশুর গোশত খাওয়া হারাম’।

বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে ধর্মপ্রাণদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। কামাঙ্গীরচরে অনুষ্ঠিত ইসলামী দলগুলোর গতকালের সমাবেশে বিষয়টি উঠে আসে। গত কয়েকদিন এই বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিরা সরব। তারা বলছেন, এর মানে হলো দেবদেবীর নামে কোনো পশু উৎসর্গ করা হলে তার গোশত খাওয়া হালাল! যা দেবদেবীকে আল্লাহর সমকক্ষ বুঝায়! ‘জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)’ সম্প্রতি দেয়া তথ্যবিবরণীতে সংশোধনের কথা বললেও ক্ষোভ তাদের পিছু ছাড়ছে না।

সরকারের গণহত্যার প্রতিবাদ ও শহীদদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার দাবিতে কামরাঙ্গীর চরে অনুষ্টিত সমাবেশে খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমেদ আব্দুল কাদের বলেন, আল্লাহ ও রাসূলের বিরুদ্ধে কথা বলা সংবিধান, মানবাধিকার ও জাতিসঙ্ঘ সনদের পরিপন্থী। বাংলাদেশে ৯০ শতাংশ মুসলমানের ধর্মীয় অনুভূতিতে বারবার আঘাত হানা হচ্ছে। সরকার তাদের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলছে এগুলো অন্যরা লিখে দিয়েছে। তাহলে নবম শ্রেণীর পাঠ্যপুস্তকে দেবতার নামে প্রাণী বলি দেয়াকে হালাল বলে উল্লেখ করেছে কারা?

খেলাফতে ইসলামী বাংলাদেশের আমির মাওলানা আবুল হাসানাত আমিনী বলেন, মুসলিম অধ্যুষিত বাংলাদেশের জাতীয় মসজিদে আজ তালা কেন? মুসল্লিরা কেন নামাজ পড়তে পারছে না? যে সরকার মুসল্লিদের মসজিদে যেতে দেয় না সে সরকারের মুসলমানদের দেশে মতায় থাকার অধিকার নেই।

খেলাফত আন্দোলন ঢাকা মহানগরীর আমির মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী বলেন, সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা সংযোজন করে সরকার ইসলামের বিরুদ্ধে নাস্তিক্যবাদীদেরকে উসকে দিয়েছে। সেই ধর্মনিরপেক্ষতাকে রক্ষা করতেই দেব-দেবীর নামে জবাই করা হারাম পশুকে হালাল বলে সরকারি পাঠ্যবইয়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

উল্লেখ যে, ‘ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা’ বইয়ের দ্বিতীয় অধ্যায়ের পাঠ ২৪-এর একটি বিষয় হলো ‘শরিয়তের আহকাম সংক্রান্ত পরিভাষা’। এর অধীনে একটি বিষয় হলো ‘হালাল-হারামের সংখ্যা’। হারাম-হালালের সংখ্যা বিষয়ে ৮২ পৃষ্ঠায় ১৭ ধরনের হারাম বস্তুর তালিকা দেয়া হয়েছে। তালিকার ৫ নম্বর ক্রমিকে লেখা হয়েছে ‘দেবদেবীর বা আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নামে উৎসর্গকৃত পশুর গোশত খাওয়া হারাম’। বইটির রচয়িতা হলেন মুহম্মদ আবদুল মালেক, ড. মুহম্মদ আবদুর রশীদ ও ড. মোহাম্মদ ইউছুফ। সম্পাদনা করেছেন ডক্টর মো: আখতারুজ্জামান। বইটিতে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে নাম লেখা রয়েছে প্রফেসর মো: মোস্তফা কামালউদ্দিনের।

এর আগে নবম-দশম শ্রেণীর জন্য ধর্ম শিক্ষা হিসেবে পাঠ্যবইটির নাম ছিল ‘ইসলাম শিক্ষা’। ইসলাম শিক্ষা বইটি ১৯৯৬ সাল থেকে পাঠ্য হিসেবে নির্ধারিত ছিল। এই বইয়ের ৪৩ পৃষ্ঠায় ‘হালাল ও হারাম’ শিরোনামে হারাম বস্তুর যে তালিকা উল্লেখ ছিল সেখানে ৫ নম্বর ক্রমিকে লেখা ছিল ‘যে সকল প্রাণীকে কোন দেবদেবীর নামে উৎসর্গ করা হয়, তার গোশত হারাম।’ এ ছাড়া আগের ইসলাম শিক্ষা বইয়ে পিতামাতার অধিকার নামে একটি বিষয় ছিল। কিন্তু ২০১৩ সালের জন্য প্রণীত ‘ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা’ বইয়ে এ বিষয়টি বাদ দেয়া হয়েছে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো: মোস্তফা কামালউদ্দিন এ বিষয়ে একটি জাতীয় দৈনিককে বলেন, তাদের কাছে আগেই ভুলটি ধরা পড়েছে। জানুয়ারি মাসেই তারা দেশের সব জেলা, থানা শিক্ষা অফিসারকে চিঠি লিখে নির্দেশ দিয়েছেন ভুল সংশোধন করে যেন শিক্ষকেরা কাসে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দেন। তিনি বলেন, তা ছাড়া বইটি যারা লিখেছেন তাদের কাছেও এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

তথ্য বিবরণী :  বিষয়টি গণমাধ্যমে ০৭ মার্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে একটি তথ্য বিবরণী প্রকাশ করা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে ‘জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) কর্তৃক প্রণীত নবম-১০ম শ্রেণীর ‘ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা’ পুস্তকের দ্বিতীয় অধ্যায় পাঠ ২৪ (শিরোনাম-শরিয়তের আহকাম সংক্রান্ত পরিভাষা)-এর ৮২ নম্বর পৃষ্ঠায় কিছু হারাম বিষয় ও দ্রব্যের তালিকার ক্ষেত্রে ১৫ নম্বর লাইনে ভুলবশত যা ছাপানো হয়েছিল, তা শুদ্ধ করে ‘আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নামে উৎসর্গকৃত পশুর গোশত খাওয়া’ পড়তে হবে।

তথ্য বিবরণীতে আরো বলা হয়, ‘এ বিষয়ে গত ৩ জানুয়ারি ২০১৩ তারিখে এনসিটিবির নং শি: উ: ২৪২/২০১৩/৮১ স্মারক মোতাবেক মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক, সব উপপরিচালক, সব জেলা শিক্ষা অফিসার ও সব উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একইভাবে ওয়েবসাইটেও তা সংশোধন করা হয়েছে।

Advertisements

আলোচনা

কোন মন্তব্য নেই এখনও

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

হেফাজতে ইসলামের খবর

https://banglargangai.wordpress.com/wp-admin/widgets.php#available-widgets

ফরহাদ মজহারের কলাম

Join 253 other followers