এখন পড়ছেন
খবর

শুক্রবার বিক্ষোভ মিছিল আর শনিবারে সম্মেলনের ডাক আল্লামা শাহ আহমদ শফীর

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ নাস্তিক ব্লগারদের ফাঁসি, আলেম-ওলামা ও মাদ্রাসায় তল্লাশি ও হয়রানি বন্ধ এবং আলেম ও মুসল্লিদের ওপর হামলাকারীদের শাস্তির দাবিতে ৮ আট মার্চ জুমা নামাজের পর আল্লামা শাহ আহমদ শফীর আহ্বানে সারা দেশের সব মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিল ও আগামী শনিবার চট্টগ্রামে জাতীয় ওলামা-মাশায়েখ সম্মেলনের ডাক দিয়েছে। দুই দিনের এ কর্মসূচি সফল করতে এক প্রস্তুতিসভা গতকাল হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির ও জামিয়া আহলিয়া হাটহাজারীর মুহাদ্দিস মাওলানা শামসুল আলমের সভাপতিত্বে হাটহাজারী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।

এতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, মাওলানা আবদুল মালেক হালিম, মাওলানা জুনাইদ বাবুনগরী, মাওলানা হাফেজ তাজুল ইসলাম, মাওলানা লোকমান হাকিম, মাওলানা মাহমুদুল হাসান ফতেহপুরী, মাওলানা মুফতি জসিমুদ্দিন, মাওলানা ফোরকান সাতকানভী, মাওলানা মুঈনুদ্দিন রূহী, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মাওলানা কাতেব ইলিয়াস ওসমানী, মাওলানা আনাস মাদানী, মুফতি হারুন ইজহার, মাওলানা হাফেজ মুজাম্মেল হক, মাওলানা মীর মুহাম্মদ ইদরিস, মাওলানা নাছির উদ্দিন মুনির, মাওলানা মুহাম্মদ শফী ও মাওলানা জাকারিয়া ফয়েজী।

সভায় সর্বসম্মতিক্রমে আগামী শনিবার আল্লামা শাহ্ আহমদ শফীর আহ্বানে দেশের সর্বস্তরের ওলামা-পীর-মাশায়েখ ও ইসলামি চিন্তাবিদদের নিয়ে জাতীয় ওলামা-মাশায়েখ সম্মেলন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সম্মেলন সফল করতে সর্বস্তরের ওলামা-মাশায়েখদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। এ ছাড়াও আগামীকাল জুমাবার বাদ জুমা নাস্তিক ব্লগারদের ফাঁসি, আলেম-ওলামা ও মাদরাসায় তল্লাশি ও হয়রানি বন্ধ এবং আলেম ও মুসল্লিদের ওপর হামলাকারীদের শাস্তির দাবিতে বাংলাদেশের সব মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করতে আলেম-ওলামা, নবীপ্রেমিক তৌহিদি জনতার প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

এর আগে মার্চের ৩ তারিখে আল্লামা শফী বলেছিলেন, ‘কোনো যুদ্ধপীড়িত দেশেও এক দিনে এত মানুষ মারা যায় না’। তিনি দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসার মহাপরিচালক, বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড (বেফাক) সভাপতি ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি।

আল্লামা শফী বলেন, কয়েক দিন ধরে যে হারে বিপুলসংখ্যক জনসাধারণ গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাচ্ছেন, বিভিন্ন মসজিদ-মাদরাসা, আলেম-ওলামা, মাদরাসাছাত্রসহ জনসাধারণের জান-মালের ওপর নির্বিচার হামলা, দমনপীড়ন ও অগ্নিসংযোগ হচ্ছে; তা খুবই হতাশা ও দুর্ভাগ্যজনক। দেশে নির্বাচিত সরকার বহাল থাকাবস্থায় জনসাধারণের এমন অসহায়ত্ব কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। মাত্র কয়েক দিনে যত মানুষ নির্বিচারে খুন ও হত্যার শিকার হয়েছেন, কোনো যুদ্ধপীড়িত দেশেও সচরাচর এক দিনে এত মানুষ মারা যান না। জাতি হিসেবে আমাদের জন্য এটি খুবই কলঙ্কের ও ভয়াবহ হতাশার। তিনি সরকারের প্রতি খুন-হত্যা ও সব জুলুম-অত্যাচার বন্ধে নিরপেক্ষভাবে পদক্ষেপ এবং জনসাধারণের প্রতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরো সদয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, অন্যথায় জাতি বিভক্ত হয়ে দেশে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে; যা হবে খুবই হতাশার। হাটহাজারী মাদরাসা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছিল।

আল্লামা শাহ আহমদ শফী বলেন, সরকারের কোনো পদক্ষেপ ও সিদ্ধান্ত মনঃপূত না হলে প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ করা আইনসম্মত নাগরিক অধিকার। এবং সরকারের কাছে সব নাগরিকেরই সমান সুযোগ ও আচরণ পাওয়া কাম্য। যে পরিস্থিতি এখন দেশে বিরাজ করছে, তা একই সাথে অভূতপূর্ব, অনভিপ্রেত ও চরম উদ্বেগজনক। সামনের দিনগুলোতে দেশ কোন দিকে যাবে, কী হবে- তা নিয়ে সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে দুর্ভাবনা ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করে বলছেন, দেশ আফগান-ইরাকের মতো পরিস্থিতির দিকে এগোচ্ছে। ওই সব দেশে যুদ্ধ, যুদ্ধপরিস্থিতি বা গৃহযুদ্ধে জনগণের জানমালের কোনো নিরাপত্তা নেই। হামলা-প্রতিহামলায় প্রায় প্রতিদিনই মানুষ মরছে। শান্তিপূর্ণ ও স্বাভাবিক-নিরাপদ জীবনযাপন কল্পনাতীত। বাংলাদেশে কোনো কারণে আফগান-ইরাকের মতো অনুরূপ পরিস্থিতি সৃষ্টি হোক, তা কোনো বিবেচনায়ই প্রত্যাশিত হতে পারে না। কেন মানুষের ক্ষোভ জাগছে, কেন মানুষ প্রতিবাদমুখর হচ্ছেন, তার কারণ উদঘাটন করে প্রশমনের দায়িত্ব রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে এটি সরকারের।

তিনি বলেন, উপমহাদেশীয় দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশই সন্ত্রাস-সহিংসতামুক্ত। এখানে জাতিগত, ধর্মগত, গোষ্ঠীগত, বর্ণগত, ভাষাগত কেনো বিরোধ-বিসম্বাদ নেই বললেই চলে। এমন একটি দেশে সঙ্ঘাত-সহিংসতার বিস্তার ঘটবে, গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে, এটি কিভাবে এ দেশের মানুষের কাম্য হতে পারে? সুতরাং বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্দ্বিধায় বলা যায়, দেশ এখন একটি বড় ধরনের ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। স্পর্শকাতর বিভিন্ন ইস্যুতে রাজনীতি, রাজনৈতিক দল ও জনগণ বিভক্ত হয়ে আছে। এ অবস্থায় স্বার্থশিকারি শক্তিগুলো সক্রিয় ও তৎপর হয়ে উঠতে পারে। বাংলাদেশে শান্তি- স্থিতিশীলতা বজায় থাক, বাংলাদেশ সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হোক, এটি সব দেশ চায়, তাও মনে করার কারণ নেই।

আল্লামা শাহ আহমদ শফী উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, চিহ্নিত কিছু নাস্তিক এ দেশের বিশাল মুসলিম জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় অনুভূতিতে মারাত্মক আঘাত হেনে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ সা:, পবিত্র কুরআন, ইসলাম ধর্ম ও ইসলামের রীতিনীতি নিয়ে মিথ্যা, বানোয়াট, অশ্লীল ও উদ্ভট কল্পকাহিনী প্রচার এবং সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত ও পথভ্রষ্ট করার যে অপচেষ্টা চালিয়ে আসছিল, সরকারের প্রতি এসব বন্ধের দাবি এবং অপরাধীদের বিচারের দাবি জানিয়ে এ দেশের কোটি কোটি মুসলমান শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ বিক্ষোভ করছিলেন। দুর্ভাগ্যজনক দেশের বিভিন্ন স্থানে ওলামা-মাশায়েখ ও তৌহিদি জনতার শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ মিছিলে এবং বিভিন্ন মসজিদ-মাদরাসায় পুলিশ ও কিছু সন্ত্রাসী হামলা, ভাঙচুর ও গুলিবর্ষণ করে হত্যাকাণ্ডসহ জান-মালের ব্যাপক ক্ষতি করেছে। অথচ এসব বন্ধে সরকারের তৎপরতা চোখে পড়ছে না; যা কুরআন ও সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন পাস করা হবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা সরকারের কাছে কিভাবে আশা করা যায়? সরকার এ পর্যন্ত ইসলামবিদ্বেষী ও রাসূল সা:-এর অবমাননাকারী নাস্তিকদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার কোনো পদক্ষেপ তো নেয়নি; বরং আলেম-ওলামার ওপর দমনাভিযান এবং মসজিদ-মাদরাসায় হামলা আরো বেড়ে গেছে। ৯০ শতাংশ মুসলমানের দেশে ইসলামের দুশমনেরা আল্লাহ, রাসূল সা: ও ইসলামের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে যাবে, সরকার তাদের বিচারের আওতায় আনবে না এবং মুসলমানেরা স্বাধীনভাবে ধর্মকর্ম পালন, মসজিদ-মাদরাসা পরিচালনা, দাড়ি-টুপি-পাঞ্জাবি পরে হাঁটাচলায় অসহায়ত্ববোধ করবেন, এটি খুবই হতাশার।

আল্লামা শাহ আহমদ শফী আরো বলেন, শোনা যাচ্ছে চলমান বিশৃঙ্খলতার সুযোগ নিয়ে কিছু কিছু জায়গায় সংখ্যালঘু হিন্দুদের ধর্মীয় উপাসনালয় ও মন্দিরে হামলার ঘটনা ঘটছে। দেশে বিশৃঙ্খলতা সৃষ্টি ও জাতিকে দ্বিধাবিভক্ত করার জন্য আল্লাহ্ ও রাসূল সা:-এর অবমাননাকারী একই মহলই এ দেশের উজ্জ্বল সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে এ অপকর্মে জড়িত কি না, তা খুঁজে দেখা দরকার। কারণ এ দেশের সাধারণ মুসলমান কখনো ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে না এবং তাদের উপাসনা ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে বাধা সৃষ্টি করেনি। কোনো আলেম-ওলামা ওয়াজ মাহফিলে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের প্রতি আক্রোশমূলক কিছু বলেন না।

Advertisements

আলোচনা

কোন মন্তব্য নেই এখনও

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

হেফাজতে ইসলামের খবর

https://banglargangai.wordpress.com/wp-admin/widgets.php#available-widgets

ফরহাদ মজহারের কলাম

Join 253 other followers