এখন পড়ছেন
মামলা

মামলার জালে বাংলাদেশ, তিন সপ্তাহে ১৫০ মামলায় আসামি দুই লাখ

কাফি কামাল: ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় ও সারা দেশে সংঘটিত গণহত্যার প্রতিবাদে প্রতিদিনই আন্দোলন-সংগ্রাম চলছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। এই আন্দোলন-বিক্ষোভ ঘিরে বাড়ছে সহিংসতা ও নৈরাজ্য। ছড়িয়ে পড়ছে শহর থেকে গ্রামে। রক্তাক্ত হচ্ছে একের পর এক জনপদ। ঝরে পড়েছে তরতাজা প্রাণ। প্রতিবাদী জনতার পাশাপাশি জীবন যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরও। এসব ঘটনায় দায়ের হচ্ছে একের পর এক মামলা।

গণমামলায় আসামি  করা হচ্ছে অজ্ঞাতনামা হাজার হাজার মানুষকে। অজ্ঞাতনামা দেখিয়ে ৬টি মামলায় আসামি করা হয়েছে মানিকগঞ্জের সিংগাইরের ৬০টি গ্রামের বাসিন্দাকে। গত তিন সপ্তাহে সারা দেশের অন্তত ৪০টি জেলায় হয়েছে দু’ শ’র বেশি মামলা। এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে ২ লাখের বেশি। সাতক্ষীরা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বগুড়া, সিলেট, রাজশাহী, কুমিল্লাসহ বহু জেলায় সংঘটিত সহিংসতায় চলছে আরও মামলার প্রক্রিয়া। দিনের পর দিন মামলার জালে আটকে যাচ্ছে দেশের মানুষ। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে পুলিশ হত্যা, হত্যা, বিস্ফোরক, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, জাতীয় পতাকা অবমাননা ইত্যাদি। দায়েরকৃত মামলার এক-চতুর্থাংশই দ্রুত বিচার আইনে। এসব মামলায় কয়েকজন বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ থাকলেও অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বাছবিচার ছাড়াই।

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার মুসল্লিদের প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে ১৩ই ফেব্রুয়ারি ভোলায় জামায়াত-শিবিরের ২০০ জনের বিরুদ্ধে ১টি, ২৩শে ফেব্রুয়ারি কুড়িগ্রামের উলিপুরে আওয়ামী লীগ কার্যালয় ভাঙচুরের  অভিযোগে ২০০০ জনকে আসামি করে ১টি,  একই দিন গাইবান্ধায় জামায়াতের ৪৫০০ জনের বিরুদ্ধে ৩টি ও চাঁদপুরে জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে ১২০০ জনের বিরুদ্ধে ২টি, পরদিন পাবনায় সংঘর্ষের অভিযোগে জামায়াত-শিবিরের ৩০০০ জনের বিরুদ্ধে ৫টি মামলা করে পুলিশ। ২৫শে ফেব্রুয়ারি মুসল্লি ও সাধারণ গ্রামবাসীর রক্তে ভেজে মানিকগঞ্জের সিংগাইর। একই দিন উপজেলার ৬০ গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে ৬টি মামলা করে পুলিশ। সেসব মামলায় আসামির নাম অজ্ঞাত, আসামির সংখ্যাও অনির্দিষ্ট। এলাকাবাসীর মতো প্রতিটি মামলায় কমপক্ষে ১০ হাজার আসামি করার কথা তারা জানতে পেরেছেন। এতে রক্তাক্ত এ জনপদের নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই এখন পুলিশি হয়রানি  আতঙ্কে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। একই ঘটনায় ২৬শে ফেব্রুয়ারি কিশোরগঞ্জে ৬২ জনের বিরুদ্ধে ২টি, ২৭শে ফেব্রুয়ারি পুলিশের কাজে বাধা দেয়া ও ভাঙচুরের অভিযোগে কুমিল্লার দেবিদ্বারে ২২জনের বিরুদ্ধে ১টি ও ২৮শে মার্চ সাতক্ষীরায় ১৫০০০ জনের বিরুদ্ধে ১১টি, দিনাজপুরে বিক্ষুব্ধ জনতার বিরুদ্ধে ৬০০০ জনকে আসামি করে ২টি মামলা করে পুলিশ। মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর ১লা-৩রা মার্চ দেশের নানা জেলায় হত্যাকাণ্ড, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মামলা ও আসামির সংখ্যা অব্যাহত হারে বাড়ছে। ১লা মার্চ গাইবান্ধায় পুলিশ হত্যাসহ নৈরাজ্যের অভিযোগে জামায়াত-শিবিরের ১০৬০০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ৫টি, একইদিন পুলিশের ওপর হামলা ও অস্ত্র লুটের অভিযোগে ঝিনাইদহে জামায়াত-শিবিরের ৫০০০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ৩টি মামলা, চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় ৪০০০ জনের বিরুদ্ধে ১টি, রাজশাহীতে জামায়াত-শিবিরের ৩৫০০ জনের বিরুদ্ধে ৩টি, নোয়াখালীতে জামায়াত-শিবিরের ৩৫০০ জনের বিরুদ্ধে ২টি, শেরপুরে জামায়াত-শিবিরের ২০০০ জনের বিরুদ্ধে ২টি, বগুড়ায় জামায়াত-শিবিরের ২০০০ জনের বিরুদ্ধে ১টি, ঠাকুরগাঁওয়ে ১৬০০ জনের বিরুদ্ধে ১টি, রংপুরের পীরগাছায় জামায়াতের ১৬৭০ জনের বিরুদ্ধে ১টি, সিরাজগঞ্জে জামায়াত-শিবিরের ৮০০ জনের বিরুদ্ধে ১টি, গাজীপুর ও টঙ্গীতে ৫০০ জামায়াত-শিবির কর্মীর বিরুদ্ধে ৩টি, নাটোরে হত্যা ও ভাঙচুরের অভিযোগে বিএনপি-জামায়াতের ৬০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ১টি, কক্সবাজারের উখিয়ায় ৩০০ জনের বিরুদ্ধে ১টি, চকরিয়ায় ৯০০ জনের বিরুদ্ধে ৩টি, নারায়ণগঞ্জে জামায়াত-শিবিরের ৫৭ জনের বিরুদ্ধে ১টি, মেহেরপুরে জামায়াত-শিবিরের ৪০০ জনের বিরুদ্ধে ১টি, যশোরে জামায়াত-শিবিরের ২০০ জনের বিরুদ্ধে ৩টি, লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে জামায়াত-শিবিরের ৩১৪ জনের বিরুদ্ধে ১টি মামলা করে পুলিশ। পরদিন ২রা মার্চ ঢাকায় বিএনপি মহাসচিবসহ ৩৮জন কেন্দ্রীয় নেতার নাম উল্লেখ করে ৫০০০ জনের বিরুদ্ধে ৫টি, মৌলভীবাজারের বড়লেখায় জামায়াত-শিবিরের ২৫৩০ জনের বিরুদ্ধে ১টি, নোয়াখালীর সোনাইমুড়িতে জামায়াত-শিবিরের ৬০০ জনের বিরুদ্ধে ১টি, লালমনিরহাটে জামায়াত-শিবিরের ৫০০ জনের বিরুদ্ধে ১টি, কুমিল্লার চান্দিনায় ১০০ জনের বিরুদ্ধে ২টি, ৩রা মার্চ বিক্ষোভ মিছিল থেকে ভাঙচুরের অভিযোগে খুলনায় বিএনপি-জামায়াতের ৩২০০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ২টি, ময়মনসিংহে মিছিল থেকে সংঘর্ষের অভিযোগে বিএনপির ৬০০ জনের বিরুদ্ধে ১টি, নীলফামারীর জলঢাকায় ৫০০জনের বিরুদ্ধে ১টি, লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে জামায়াত-শিবিরের ৩০৬ জনের বিরুদ্ধে ১টি মামলা  করা হয়। ৪ঠা মার্চ জয়পুরহাটে জামায়াত-শিবিরের ১১০০০ জনের বিরুদ্ধে ২টি মামলা, ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডে ৬০০০ জনের বিরুদ্ধে ১টি, ঠাকুরগাঁওয়ে ১০০০ জনের বিরুদ্ধে ১টি ছাড়াও কয়েক সপ্তাহে রাজশাহী ও গোদাগাড়িতে ৪৫০০ জনের বিরুদ্ধে ৬ মামলা, বগুড়ায় ২০০০০ জনের বিরুদ্ধে ১২টি,  কক্সবাজারে ৬০০০ জনের বিরুদ্ধে ৩ মামলা, ২৮শে ফেব্রুয়ারি কক্সবাজারের ঈদগাঁও ২৫০০ জনের বিরুদ্ধে ১টি, চট্টগ্রামের কোতোয়ালিতে ১৫০০ জনের বিরুদ্ধে ২টি, খুলনার ফুলতলায় ৯৫০ জনের বিরুদ্ধে ১টি মামলা হয়েছে। এদিকে একইস্থানে আওয়ামী লীগ-বিএনপির সমাবেশ আহ্বান, মুসল্লিদের প্রতিবাদ এবং জামায়াত-শিবিরের নৈরাজ্যকে কেন্দ্র ২৮শে ফেব্রুয়ারি সিরাজগঞ্জের সদরে, রংপুরের মিঠাপুকুর ও পীরগাছায়, লালপুর কদমচিলানে, ১লা মার্চ সাতক্ষীরা শহর ও আশাশুনি উপজেলা, কক্সবাজারের পেকুয়া, কুষ্টিয়ার ছয় উপজেলা, গাইবান্ধা, নোয়াখালীর রাজগঞ্জ, সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জের তাড়াশ ও রায়গঞ্জে, ২রা মার্চ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, ভোলাহাট ও শিবগঞ্জে, দিনাজপুরের চিরিরবন্দর, নীলফামারীর জলঢাকা পৌর এলাকা, নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি, লক্ষ্মীপুরের রায়পুর, ফেনীর ছাগলনাইয়া পৌর এলাকা, ৩রা মার্চ বগুড়া, রাজশাহীর গোদাগাড়ী, সাতক্ষীরায় দেবহাটায়, ৪ঠা মার্চ উল্লাপাড়ায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন।

সুত্র: মানব জমিন/ মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০১৩

 

 

Advertisements

আলোচনা

কোন মন্তব্য নেই এখনও

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

হেফাজতে ইসলামের খবর

https://banglargangai.wordpress.com/wp-admin/widgets.php#available-widgets

ফরহাদ মজহারের কলাম

Join 253 other followers